এই মানুষগুলো প্রমাণ করেছেন অসম্ভব শুধুই একটা শব্দ। এই মানুষগুলো প্রমাণ করেছেন অসম্ভব শুধুই একটা শব্দ।

এই মানুষগুলো প্রমাণ করেছেন অসম্ভব শুধুই একটা শব্দ।

অনেক মানুষ তাদের জীবন হেলাফেলা করে কাটিয়ে দেয়। তারা বুঝতে পারে না কি পরিমাণ শক্তি তাদের মাঝে লুকিয়ে আছে। আবার কিছু মানুষ আছে যারা দৃঢ়সংকল্প, ইচ্ছাশক্তি এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা দ্বারা প্রমাণ করেছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোন সীমাবদ্ধতাই নয়। আজ আমাদের আয়োজন এরকম অসীম শক্তির অধিকারী কিছু সেরা মানুষদের নিয়ে।

 

এ্যামি পার্ডি।

স্নোবোর্ডার এ্যামি পার্ডি ১৯ বছর বয়সে ব্যাকটেরিয়া ঘটিত মেনিনজাইটিসের শিকার হন এবং, এর ফলে তার হাঁটুর নীচের থেকে পা কেটে ফেলতে হয়। 

তিনি তার কিডনি এবং তার পিত্ত উভয় হারিয়ে ফেলেন। ২ বছর পর তার বাবা তাকে কিডনি দান করে।

৩ মাস পর তিনি আবার কৃত্তিম পা নিয়ে হাজির হন। ২০১৪ সালের প্যারা অলিম্পিকে স্নোবর্ডিং এ ব্রোঞ্চ ও ২০১৮ সালে সিলভার মেডেল অর্জন করেন।

 

অ্যারন ফদেরিঙ্ঘাম।

© Aaron Fotheringham/facebook

© Aaron Fotheringham/facebook

৮ বছর বয়সে তিনি পঙ্গুত্বকে বরণ করেন। তার ভাই তাকে সাইকেল চালাতে অনুপ্রাণিত করেছেন।তিনি একটি বিশেষভাবে পরিবর্তিত হুইলচেয়ার ব্যবহার শুরু করেছিলেন।

১৪ বছর বয়সে তিনি একমাত্র ব্যাক্তি হিসেবে হুইলচেয়ারে বসে ব্যাকফ্লিপ করেন। ১৮ বছর বয়সে তিনি ডবল ব্যাকফ্লিপ করেন। 

 

ইভলিন গ্লেনি।

© Nomo/wikipedia

© Nomo/wikipedia

ইভলিন গ্লেনি একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি যিনি ১২ বছর বয়সে বধির হয়েছিলেন। তিনি শুনতে না পারলেও শরীরের বিভিন্ন অংশ দিয়ে শিখেছেন।  

আপনি যদি তার বাজানো না শুনেন বিশ্বাসই করতে পারবেন না। সংগীতের জন্য তাঁর অবদানের জন্য, ২০০৭ সালে তাকে 'ডেম কমান্ডার অব দ্য গ্রেট এক্সিলার অর্ডার অফ দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার' (ডিবিই) তে  ভূষিত করা হয়।

 

জ্যাক রুহ্ল।

© Zack Ruhl/facebook

© Zack Ruhl/facebook

জ্যাক রুহেল উরুর হাড় ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভঙ্গুর হাড় রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তার পা কেটে ফেলতে হয়।

বর্তমানে তিনি একজন ক্রসফিট প্রশিক্ষক। তিনি হুইলচেয়ারে বসেই বুকডন,  ৪২০টি বেঞ্ছপ্রেস ইত্যাদি করতে পারেন।

 

মার্লা রানান।

তিনি চোখে দেখতে পান না। 

মার্লা রানান ২০০০ সালের গ্রীষ্মকালের প্যারা অলিম্পিকে দীর্ঘ সাঁতারে এবং ১০০ মিটার, ২০০ মিটার এবং ৪০০ মিটার দৌড়ের মধ্যে ৪টি স্বর্ণপদক জিতে নেন।

১৯৯৯ সালে উইনারপেগে একটি আমেরিকান গেমসে পদক জিতে নেন যেটিতে কোন শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মানুষ ছিল না। সেখানে ১৫০০ মিটার দৌড়ে তিনি স্বর্ণপদক জিতে নেন।

 

স্পেন্সার ওয়েস্ট।

© Spencer West/facebook

© Spencer West/facebook

তিনি পঙ্গু। কিলিমানজারো পাহাড়ে আরোহণ করা বেশিরভাগ মানুষই অসম্ভব বলে বিবেচনা করবে। 

কিন্তু আফ্রিকার সর্বোচ্চ শিখর স্পেন্সার ওয়েস্টকে ভয় পাওয়াতে পারে নি। ৩১ বছর বয়সে, স্পেন্সার ওয়েস্ট অসম্ভবকে সম্ভব করেন । তিনি শুধু তার হাত ব্যবহার করে পর্বতটি আরোহণ করেন।

 

বেথানিয়া হ্যামিলটন।

© Bethany Hamilton/facebook

© Bethany Hamilton/facebook

২০০৩ সালে, তার সবচেয়ে ভাল বন্ধু, তার পিতা এবং ভাইয়ের সাথে সার্ফিং করার সময়, ১৩ বছর-বয়সী বেথানিয়া হ্যামিল্টন একটি হাঙ্গর আক্রমণের শিকার হন এবং তার বাম হাত হারিয়ে ফেলেন। সে সময় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তিনি তার রক্তের প্রায় ৬০% হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং হেমোরেজিক শক মধ্যে ছিলেন।

কিন্তু তিনি ছিলেন একজন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মেয়ে এবং আক্রমণের এক মাসের মধ্যে, তিনি আবার ফিরে এসেছিলেন। আজ, তিনি খুবই সফল পেশাদার সার্ফার।

 

অ্যাঞ্জেল গিয়ফ্রিয়া।

© angelgiuffria/imgur

© angelgiuffria/imgur

'হাঙ্গার গেমস' চলচ্চিত্রের এই অভিনেত্রী ১ হাত নিয়েই জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

সবাই এটিকে অভিশাপ হিসেবে নেয়। কিন্তু তিনি থেমে থাকেন নি। এটিকে তিনি তার সফলতায় পরিণত করেছেন।  

 

জেসিকা কক্স।

© Jessica Cox/facebook

© Jessica Cox/facebook

আপনার যদি ২টি হাতই না থাকে আপনি কি কিছু অর্জন করতে পারবেন? যদি আপনার দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকে তবে আপনি অনেক কিছুই অর্জন করতে পারবেন।

জেসিকা কক্সকে দেখুন, বিশ্বের প্রথম হাতহীন লাইসেন্সধারী পাইলট। আমেরিকান টেকওয়ন্ডো অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম হাতহীন ব্ল্যাক-বেল্ট অর্জনকারী।

এছাড়াও তিনি একটি প্রত্যয়িত স্কুবা ডুবুরি, একটি লেখক, একটি প্রেরণামূলক  বক্তা।

 

কিয়ান হঙ্গিয়ান।

© Qian Hongyan/facebook

© Qian Hongyan/facebook

তিনি ২০০০ সালে ৪ বছর বয়সে দুর্ঘটনায় তার ২টি পা-ই হারিয়ে ফেলেন। তার দরিদ্র পরিবারের পক্ষে কৃত্তিম পা লাগানো খুব কঠিন ছিল। চাইনিজ প্রেসের সহায়তায় তার পা লাগানো হয়।

এরপর তিনি প্রতিবন্ধীদের জন্য স্থানীয় সাঁতারের ক্লাবে যোগ দেন। শেষ পর্যন্ত তার কঠোর পরিশ্রম তাকে সফলতা এনে দেয়। 

তিনি ২০০৬ সালে চীনের ন্যাশনাল প্যারা অলিম্পিকস সাঁতার প্রতিযোগিতায় জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন এবং ২০১৫ সালে ইউনান প্রাদেশিক প্যারা অলিম্পিক গেমসে ১০০ মিটার চূড়ান্ত ব্রেস্ট স্ট্রোকে স্বর্ণপদক জিতেছেন। 

 

এই মানুষগুলো দেখিয়েছেন কোন প্রতিবন্ধকতা তাদের থামিয়ে রাখতে পারেনি। তাদের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি তাদেরকে সফল করেছে। এই মানুষগুলো আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। এদের কথা মাথায় রেখে যদি আমরা কাজ করি আমরাও সফল হব।

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের মাধ্যমে আমাদের পাশেই থাকুন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

 

 



জনপ্রিয়