ভ্লাদিমির পুতিন- নতুন মহাশক্তি নির্মাণের কারিগর! ভ্লাদিমির পুতিন- নতুন মহাশক্তি নির্মাণের কারিগর!

ভ্লাদিমির পুতিন- নতুন মহাশক্তি নির্মাণের কারিগর!

২০১৮ সালের রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ১৮ মার্চ, ২০১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পুনরায় বিজয়ী হন। ৭৭% ভোট পেয়ে তিনি চতুর্থ মেয়াদে পুনরায় নির্বাচিত হন। এই মহান ক্ষমতাধরের উত্থান নিয়েই আমাদের আজকের এই আয়োজন।

 

২০১৮ সালের রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ১৮ মার্চ, ২০১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পুনরায় বিজয়ী হন। ৭৭% ভোট পেয়ে তিনি চতুর্থ মেয়াদে পুনরায় নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর তারিখে, পুতিন ঘোষণা করেন যে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো চতুর্থ মেয়াদে পুনঃনির্বাচন করবেন।পুতিন সাধারণ জনগণের মতামতের উপর ভিত্তি করে জিততে চেয়েছিলেন।

নির্বাচনে অন্য প্রার্থী কমিউনিস্ট পার্টির পাভেল গ্রুডিনিন অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা প্রায় ১২% ভোট পেয়েছিল (কম্যুনিস্ট পার্টির জন্য সর্বনিম্ন) এবং এলডিপিআরের ভ্লাদিমির জিরিনিভস্ক ৬% ভোট পেয়েছেন। আলেক্সি নাভালনি দুর্নীতির জন্য পূর্ববর্তী দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণে নিষিদ্ধ ছিল। তবে তার সমর্থক এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল।

ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরোভিচ পুতিন-  (রুশ: Влади́мир Влади́мирович Пу́тин; ১৯৫২ সালের ৭ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।লেনিনগ্রাদের জন্মগ্রহণকারী রুশ প্রজাতন্ত্র বা রাশিয়ার অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ৩য় মেয়াদে ১৯ মার্চ, ২০১২ তারিখ থেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতাসীন।

এর পূর্বে ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি এবং ১৯৯৯ থেকে ২০০০ ও ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনা করেছেন। এছাড়াও, ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি ইউনাইটেড রাশিয়া দলের সভাপতি এবং রাশিয়া ও বেলারুশের মন্ত্রীসভার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

ভ্লাদিমির পুতিন

ভ্লাদিমির পুতিন

 

পুতিন ১৯৬০-১৯৬৮ সালের মধ্যে প্রাইমারি স্কুলে পড়াশুনা করেছেন। ১৯৬০ সালে তিনি লেনিনগ্রাদে স্কুল নং-১৯৩ এ ভর্তি হন। এরপর সেখান থেকে অষ্টম গ্রেডের পর তিনি স্কুল নং-২৮১ তে হাই স্কুলে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৭০ সালে পড়া শেষ করেন। ১৯৭০ সালে পুতিন লেনিনগ্রাদ স্টেট ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৭৫ সালে ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে পুতিন মস্কোর কেজিবি স্কুল নং-১ এ পড়াশুনা করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত পুতিন ২৮ জুলাই, ১৯৮৩ তারিখে কালিনিনগ্রাদে জন্মগ্রহণকারী ও সাবেক বিমানবালা লিদমিলা শ্রেবনেভাকে বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারে মারিয়া পুতিনা ও ইয়েকাতেরিনা পুতিনা নামের দুই কন্যা রয়েছে।

ভ্লাদিমির পুতিন

ভ্লাদিমির পুতিন

 

ধর্মীয় বিশ্বাসে পুতিন একজন অর্থডক্স খ্রিষ্টান। রাজনীতিতে যেমনই হোন ধর্মীয় বিশ্বাসে তিনি মোটেও উদার নন। যেখানে পশ্চিমা দুনিয়ার অনেকেই এখন সমকামী নারী ও পুরুষের বিয়েকে বৈধতা ও সমর্থন দিচ্ছে সেখানে পুতিন সমকামী বিয়েকে শয়তানের সাথে তুলনা করেছেন। 

পুতিন তাঁর সময়কালে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এনেছেন। এছাড়াও, তিনি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন চেচনিয়ায় ২য় চেচেন যুদ্ধের মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যগুলোর অখণ্ডতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন। পুতিনের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে রাশিয়ায় জিডিপি ৭২% বৃদ্ধি পায়। দারিদ্র্যতা কমপক্ষে ৫০% কমে যায়।গড় মাসিক বেতন $৮০ থেকে $৬৪০ ডলারে উন্নীত হয়।

পুতিনের রাষ্ট্রপতিত্ব নিয়ে পশ্চিমা পর্যবেক্ষক ও দেশের অভ্যন্তরে বিরোধীরা তাকে অগণতান্ত্রিক হিসেবে আখ্যায়িত করে। কিন্তু দেশে আইনের শাসন প্রবর্তন ও স্থিতিশীলতা আনয়নের প্রেক্ষাপটে রুশ সমাজব্যবস্থায় তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

লেনিনগ্রাদে অবস্থানকালীন যুবক বয়সে পুতিন বেশ কয়েকবার জুডো এবং স্যাম্বো (মার্শাল আর্ট) খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। ১৬ বছর বয়সে তিনি সাদা/রেড বেল্ট অর্জন করেন। বিশ্বনেতাদের মধ্যে প্রথম হিসেবে তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।

ভ্লাদিমির পুতিন

ভ্লাদিমির পুতিন

 

‘TEEN’ নামে একটি স্পাই মুভি দেখে তিনি তৎকালীন কেজিবেতে যোগদান করতে উদ্বুদ্ধ হন। গুপ্তচর হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু। স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন পূর্ব জার্মানিতে কিছুদিন কাজ করেন। ৯০ তে সেন্ট পিটার্সবার্গের মেয়র হিসেবে কাজ করেন।

ভ্লাদিমির পুতিন

ভ্লাদিমির পুতিন

রাষ্ট্রের মূল কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হতে ১৯৯৭ সালে মস্কোতে প্রেসিডেন্সিয়াল প্রোপার্টি ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে এফএসবি তে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ইয়ালতসিন সরকার ১৯৯১ সালের ১৬ আগস্ট তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগদান করেন।

পুতিন এবং রাশিয়ার উত্থান পৃথিবীর জন্য নতুন শক্তি। আগে হুট করে আমেরিকা কারো তোয়াক্কা না করে ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া আক্রমণ করে বসতো! কিন্তু আজ আর সেটা সম্ভব হয় না। এখন আমেরিকাকে কিছু করার আগে রাশিয়ার কথা ভাবতে হয়।

আপনি তাকে পছন্দ করেন কিংবা ঘৃণা যাই করেন না কেন আপনাকে মানতেই হবে বর্তমান বিশ্বে তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে বিশাল উন্মাদনার সৃষ্টি করেছেন। রাশিয়াকে পুনরায় পরাশক্তি হিসেবে স্থাপনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের খুব ভালো বন্ধু হিসেবেও রাশিয়া পরিচিত।

 

ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে ছিলো আমাদের আজকের এই আয়োজন। আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের মাধ্যমে আমাদের সাথে থাকুন। আমাদের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।



জনপ্রিয়