বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।  বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারী শুধুই একটি শব্দ নয়, নারী হল পৃথিবী। নারীদের নিয়েই আমাদের আজকের এই আয়োজন।

 

একবার ভেবে দেখুন তো , নারী ছাড়া পৃথিবীটা কেমন হত ? হ্যাঁ , ভাবুন। 

ভাবতে পারলেন? ভাববেন কিভাবে ? নারী ছাড়া আপনার অস্তিত্বইতো কাল্পনিক। অর্থাৎ নারী ছাড়াতো পৃথিবীতেই আসার উপায় নেই , ভাবনা চিন্তাতো দূরের কথা।
নারীকে বাদ দিয়ে কোন কিছু ভাবনা চিন্তা করা যায় না।

শিশুকাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমরা কোন না কোন ভাবে নারীর অদৃশ্য বাঁধনে জড়িয়ে আছি।
তাইতো , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন –
“ শুধু বিধাতার সৃষ্টি নয় নারী
পুরুষ গড়েছে তোমায় সৌন্দর্য সঞ্চারি আপন অন্তর হতে ” ।

1

1

অর্থাৎ , নারী এক মূল্যবান রত্ন। কিন্তু আমরা পুরুষ সমাজ কতটা মূল্য দেই তাদের? তারা কি তাদের সঠিক মূল্য পায়? 

কোথায় হচ্ছে নারীদের সম্মান ? সমাজের সকল শ্রেনীতেই নারীরা তাদের অধিকার হারাচ্ছে। উঁচু এবং নিচু সমাজে তাদের সমাজগত পার্থক্য ছাড়া নারীর অধিকার হারানোর ক্ষেত্রে তেমন কোন পার্থক্য নেই। 

প্রতি বছর ৮ মার্চ আসলেই হ্যাশট্যাগ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের সম্মানের জোয়ার বয়ে যায়। কিন্তু এই দেখানো সম্মান কখনো নারীদের মুক্তি দেবে না। ১ দিনের জন্য নারীদের সম্মান দিয়ে ৩৬৪ দিন অসম্মানের কোন দরকার নেই। 

ছোটকাল থেকেই আমরা নারী-পুরুষ আলাদা করতে শিখে যায়। ছেলেদের রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি দিলে মেয়েদের দেওয়া হয় রান্নাবাটির সেট। অর্থাৎ, আমাদের মগজে গেঁথে যাই, নারীর অবস্থান রান্নাঘরে।

কেউ কান্না করলে আমরা বলি, মেয়েদের মত কাঁদিস না। এর পিছনে কোন যুক্তি আছে? 

 

4

4

সনাতন ধর্মে মেয়ের বিয়েকে কন্যাদান বলা হয়। জামাই এর পা ধরে মেয়ের বাবাকে বলতে হয়, আমার কন্যাকে গ্রহণ কর। মেয়েরা কি এতোই ফেলনা? 

বিয়ে হলে মেয়ের টাইটেল বদলিয়ে ফেলা হয়। কোন যুক্তিতে এটা হয়?

এখনো চলন্ত বাসে মেয়েদের ধর্ষণ হচ্ছে। ছোট মেয়েরাও এর থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। কোন যুক্তিতে আপনি কাপড়ের দোষ দেবেন?

শুধু তাই না, যৌতুক নিয়ে নারীদের উপর শারীরিক অত্যাচার আজকাল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। আমরা নিজেদের সভ্য বলি। কিন্তু এইভাবে শক্তি জাহির করাটা কোন ধরনের সভ্যতা? 

বাসায় ফিরে আমরা কাকে খুঁজি, মা নাকি বাবাকে? 

এই পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে  ১০ মাস ১০ দিন মায়ের গর্ভে থাকি। কত কষ্ট এই ধারণে কখনো কল্পনা করেছেন? আপনার কখনো হাড় ভেঙ্গেছে? বাচ্চা জন্ম দেওয়া একসাথে ২০টি হাড় ভেঙে যাওয়ার ব্যাথার সমান।

এখনো আমরা অনেকেই এই ধারণা থেকে বের হতে পারিনি যে, নারীরা ঘরের বাইরে কাজ করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রতিটা ক্ষেত্রেই নারীরা তাদের মেধার ছাপ রেখে যাচ্ছে।

এখনো আমাদের সমাজে কন্য্য শিশু জন্ম দিলে মা কে কথা শুনতে হয়। কিন্তু কেন একজন কন্যা শিশুকে আমরা বোঝা হিসেবে নিচ্ছি? এর পিছনে কি যুক্তি আছে?

অনেকেই শত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মাঝপথে পড়ালেখা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। বাল্যবিবাহ আমদের দেশে এক ভয়ানক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারীদের শিক্ষিত করার মাধ্যমেই আমরা দেশের প্রকৃত কল্যাণ করতে পারব। নেপোলিয়ন বলেছিলেন, 'তোমরা আমাকে একটা শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটা শিক্ষিত জাতি দেব"। নারীশিক্ষাই এনে দিতে পারে নারীদের মুক্তির পথ।

তাই শুধু ভাত, মাছ, শাড়ি-কাপড় দেওয়াই নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা নয়। নারীদের সকল ক্ষেত্রে স্বাধীনতা প্রদান, নারীর মতামত গ্রহণ, মতামতের মূল্যায়ন, নারীর কাজে সহায়তা এগুলোর সমন্বয়ে গঠিত হওয়া চাই নারীর অধিকার।

নারী ও পুরুষ হচ্ছে কালি ও কলমের মতো, একটি ছাড়া অন্যটি অচল।

9

9

পুরুষদের এটা লক্ষ্য রাখা উচিত যে, ‘কোন নারীর অধিকার রক্ষা করা মানে কোন নারীর প্রতি দুর্বলতা প্রদর্শন নয় বরং নিজেকে প্রকৃত পুরুষ হিসাবে নারীর সামনে তুলে ধরা’। 

সেদিন যাতে আমরা দেখে যেতে পারি, নারীরা নির্ভয়ে সকল কাজ করছে। নারী-পুরুষেরা মিলে একসাথে একতালে পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সাম্যের গানে ধ্বনিত হচ্ছে আমাদের এই পৃথিবী। 

তাই নারীকে নারী হিসেবে নয়, রক্তমাংসের একজন মানুষ হিসেবে দেখতে শিখুন।  শুধু লেখায় আর আলোচনায় নয়, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। শুধু বছরের নির্দিষ্ট ১ দিন নয়,  প্রতিদিন হোক সাম্য আর স্বাধীনতার জয়গান।

11

11

 

 

শেষে কবি নজরুল ইসলামের মত সুর মিলিয়ে বলতে চাই, "বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর"। জয় হোক নারীত্বের, জয় হোক মানবতার। প্রকৃত সমতায় এগিয়ে যাক আমাদের এই ধরণী। 

ধন্যবাদ আমদের পাশে থাকার জন্য।



জনপ্রিয়