বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল  বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল

অকুতোভয় এক যোদ্ধার গল্প

১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোলা জেলার দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা হাবিবুর রহমান ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন হাবিলদার। আর  মা ছিলেন গৃহিনী। বাবা কুমিল্লা সেনানিবাসে চাকরী  করার সময়েই সেনাবাহিনীর নিয়ম  শৃংখলা দেখে তিনি মুগ্ধ হন এবং বড় হয়ে  সেনাবাহিনীতে যোগ দেবার স্বপ্ন দেখেন।

তিনি ছিলেন খুব সাহসী ও ডানপিটে। তাই লেখাপড়া  বেশী দুর হয়নি। ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছেন। তারপর সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। খান সেনারা ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় গণহত্যা শুরু করলে বাঙালি যোদ্ধারা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাঁরা ঢাকা ছেড়ে গ্রামের নিরাপদ স্থানে  গিয়ে ট্রেনিং নেন এবং ক্যাম্প গড়ে তোলেন ।

 এপ্রিল মাসে সীমান্ত এলাকায় গিয়ে খান সেনাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। কুমিল্লার আখাউড়া সীমান্তের গঙ্গাসাগর এলাকায় ৪র্থ  ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের ২ প্লাটুন মুক্তিযোদ্ধা অবস্থান নেন। সেই রেজিমেন্টের একজন সৈনিক  হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। কাছেই ছিলো ব্রাক্ষণবাড়িয়া। এই অঞ্চলকে ঘিরে উজানীস্বর , আশুগঞ্জ, এবং এন্ডারসন খালের পাশে  মুক্তিবাহিনী  প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে।


১৮ এপ্রিলের ঘটনা। বেলা ১২ টার দিকে খান সেনারা গোলাবর্ষণ করতে করতে   মোগরা ও গঙ্গাসাগর এলাকা দখল করে নেয়। সীমান্তের কাছে ’দরুইন’  গ্রামে  ছিল মুক্তি যোদ্ধাদের ডিফেন্স। এই সময় ঘাটিতে মাত্র কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা পাহারা দিচ্ছিলেন। তাঁর হাতে ছিল একটি এল. এম. জি। খান সেনাদের আক্রমনের জবাব দিচ্ছিলেন  তিনি।

খান সেনারা আস্তে আস্তে দরুইন ঘাটির তিন দিক দিয়ে ঘিরে ফেলে তাদের। উপায় না দেখে তিনি কভারিং ফায়ার দিয়ে অন্য সাথীদের সরে যাবার সুযোগ করে দিলেন এবং বললেন ,তোমরা নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নাও। সবাই বাচঁতে চাইলে  কেউ বাঁচতে পারবেনা, আমার আশা তোমরা ছেড়ে দাও। একসময় সেই বীর সেনানীর এল.এম.জির গুলি শেষ হয়ে আসে এবং খান সেনারা তাকে গুলি করে বেয়নেট  দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।

এই বীর যোদ্ধার নাম  বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল।  বাংলাদেশের ৭ বীরশ্রেষ্ঠের একজন তিনি। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল দেশমাতাকে স্বাধীন করতে গিয়ে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধের ময়দানে  খানসেনারা  যেভাবে তিনদিক খেকে এগিয়ে  এসেছিলো  তখন যদি সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপদে আশ্রয়ে না পাঠাতেন তাহলে  সবাই মারা পড়তেন। সঙ্গী মুক্তিযোদ্ধাদের  জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করেছেন বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল। 

আজ আমরা শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি  বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল সহ একাত্তরের যুদ্ধে শহীদ  সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। 

 

ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত



জনপ্রিয়