মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দুজনকে একসঙ্গে ভালোবাসা দোষের কিছু নয়!          মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দুজনকে একসঙ্গে ভালোবাসা দোষের কিছু নয়!

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দুজনকে একসঙ্গে ভালোবাসা দোষের কিছু নয়!

এক মনে কি কখনো দুজনকে ঠাঁই দেওয়া যায়? ঠাঁই দিলেও কি দুজনকেই একই রকমভাবে ভালোবাসা প্রদান করা সম্ভব? অনেকের কাছে সম্ভব মনে হলেও, অনেকে দ্বিমত পোষণ করবেন। এক্ষেত্রে, যারা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিবেন তারাই সঠিক উত্তরদাতা! এখন প্রশ্ন আসতেই পারে কিভাবে? দেশ-বিদশের বিভিন্ন জরিপ মতে, অধিকাংশ মানুষের মনে লুকিয়ে থাকে অন্য আরেকজনের প্রতি দূর্বলতা বা টান। এই লুকানো টান বা দূর্বলতাকে অনেকে সম্পর্ক অবধি টেনে নিয়ে গেলেও, অনেকে সমাজ ও পরিবারের ভয়ে পিছু হটেন। কিন্তু, কেন এমন হয়? কি বলছেন মনোবিজ্ঞানীরা? চলুন জেনে আসা যাক-

Source: Internet

Source: Internet

মনোবিজ্ঞানীরা দাবি করেন, প্রতিটি মানুষ আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে থাকেন। একজন মানুষের সব বৈশিষ্ট্য অন্য কারো সাথে মিলবে বা পছন্দ হবে, এমনটা কখনোই হতে পারে না। আর তাই ভালো লাগার কোনো গুণ বা স্বভাব দেখে দু’জনের প্রতি ভালোবাসার অনুভূতি জন্মানো অস্বাভাবিক কিছু নয়। এ বিষয়ে মনোবিদের মতামত হলো - জন্মের পর থেকেই মানুষ একই সাথে বাবা-মা উভয়কেই ভালোবাসে। সুতরাং, জন্মগতভাবেই মানুষ একই সাথে দুজনকে ভালোবাসার ক্ষমতা লাভ করে। তবে, সম্পর্ক বা দাম্পত্যের কথা আসলে মানুষ সতর্কতা অবলম্বন করেন। কেন মানুষ সম্পর্ক বা দাম্পত্যের প্রশ্নে সতর্কতা অবলম্বন করেন?

Source: Internet

Source: Internet

সত্যিকার অর্থে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ ও সমাজ সামাজিক ও আর্থিক সুবিধা বিবেচনায় এনে এইসব সম্পর্কে আবদ্ধ হয়। যেখানে নিজস্ব কিছু নিয়মের সাথে মানুষ যৌনতাকেও যুক্ত করেন। সম্পর্ক শুধুমাত্র শরীরসর্বস্ব কোন বিষয় নয়। শরীর একজনের হয়ে মনে মনে দুজনের হয়া যা, মন ও শরীর উভয়েই দু’জনের হয়ে থাকার মাঝে কোন পার্থক্য নেই। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় যদি কেউ দুজনকেই ভালোবাসি বললে তাকে ‘মিথ্যে’ প্রামাণিত করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এক্ষেত্রে, অবশ্যই সাথের মানুষদের অভিমান বা কষ্টের বিষয়টি ভিন্ন একটি বিষয়। তবে, কেউ যদি একই সাথে দু’জনকে ভালোবাসার দাবি করেন তা মিথ্যে হতে পারে না।

Source: Internet

Source: Internet

ভালোবাসার মধ্যেও রকমফের হয়। কোনোটা কিছুদূর হেঁটে গতিপথ পরিবর্তন করলেও, কোনটা দীর্ঘস্থায়ী ও মজবুত হয়। তাই মানুষের ক্ষণিকের ভালোলাগা ও কোনটা দীর্ঘস্থায়ী অনুভূতি সেটা বোঝাটা জরুরী। অশান্তি আর সমাজের ভয়ে মানুষ দুই সঙ্গীকেই দু’টি সম্পর্কে থাকার কথা স্বীকার করতে সাহস পান না। বাধ্য হয়েই একজনকেই বেছে নিতে হয়, সৃষ্টি হয় জটিলতার। ভিন্ন ভিন্ন মাপকাঠিতে পরিমাপ করতে গেলে সমস্যা আরো জটিল আকার ধারণ করে। একজনের সঙ্গে গল্পে ডুবে থাকা আপনার পছন্দের, তো আর একজনের সাথে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনি অনেকটা নিশ্চিত। এমন অবস্থাও তৈরি হতেই পারে।

Source: Internet

Source: Internet

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সঙ্গী থাকা সত্ত্বেও মনে আরেকজনকে স্থান দিলে আত্মদহনে পোড়ার কোন কারণ নেই। তাদের মতে, কোন সম্পর্কে প্রতিযোগিতা বিদ্যামান থাকে না। নিজের অবস্থান ও সাহস বুঝে এই অসম লড়াই লড়তে পারার মতো শক্তি আছে কিনা এবং দায়-দায়িত্বে অবহেলা না করে সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত। মনে রাখা উচিত একই সাথে দুজনকে ভালোবাসা বা পছন্দ করাটা কোন অন্যায় বা অপরাধ নয়।

এই বিষয়ে আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ...



জনপ্রিয়