ভেজাল পণ্য!       ভেজাল পণ্য!

৫২ টি বহুল ব্যবহৃত পণ্যের ওপর বি এস টি আই এর নিষেধাজ্ঞা কী উদ্দেশ্য প্রণোদিত?

ডুডলস নুডলস, প্রাণ গুঁড়া মশলা, এসিআই পিওর সল্ট- এই পণ্যগুলো কি আপনিও আমার মতো ব্যবহার করেন? আসেন একটু সিরিয়াস আলোচনা করা যাক। নিশ্চয় জানেন, এই কিছুদিন আগেই হাইকোর্টের রায়ে ৫২টি পণ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিলো ভেজাল থাকার দায়ে এবং সেই তালিকায় এই তিনটা পণ্যও ছিলো। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই এই তিনটি পণ্য ব্যানমুক্ত হয়ে যায়। আপনি-আমি সবাই এই পণ্যগুলো পরিবারের হাতে তুলে দিই এবং আমরা ভেজাল খেতে চাই না। তাই আমাদের জানার অধিকার আছে, আসলে এমন কী ঘটেছিলো যে ‘ভেজাল’ উপাধি পেয়েও এই খাদ্যপণ্যগুলো সেই উপাধি থেকে মুক্ত হয়ে গেলো?

Internet

Internet

অনলাইনের কয়েকটা নিউজ পোর্টাল ঘেঁটে যা বুঝলাম, এসিআই লবণে pH ভ্যালু বেশি পাওয়া গেছিলো। নরমালি যেখানে এই ভ্যালু 7.4 আসার কথা যেখানে এসিআই লবণের মাত্র একটি ব্যাচে 9.2 পাওয়া গেছে। সেইজন্য এটাকে ভেজাল বলে ব্যান করা হয়েছিলো। ব্যক্তিগতভাবে জানার ইচ্ছা থেকেই pH ভ্যালুর বিষয়টা নিয়ে আমি একটু ঘাটাঘাটি করি। pH ভ্যালুর সামান্য তারতম্য কখনই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিছু না। আর ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড কান্ট্রিতে তো লবণের pH ফ্যাক্টর গোণাতেই ধরে না। কারণ লবণ আমরা যখন খাবারের সাথে খাই, তখন খাবারের সাথে মিশে pH ভ্যালু এমনিতেই 7.4, অর্থাৎ নরমাল হয়ে যায়।

independent.co.uk

independent.co.uk

তাছাড়া এই তারতম্য পাওয়া গেছে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ব্যাচে উৎপাদিত লবণে। তাহলে পুরো লবণকে কেন ব্যান করা হলো? আসুন আরেকটু ভেতরে ঢোকা যাক। আমার জানামতে বিএসটিআই হাজার হাজার স্যাম্পল থেকে মাত্র ৪০০-এর মতো স্যাম্পল টেস্ট করেছে। অথচ সবগুলোই করা উচিত ছিলো। বিএসটিআই এর ল অনুযায়ী, স্যাম্পলিংয়ের সময় প্রতিটা কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু শুনলাম বিএসটিআই নাকি কাউকে ডাকেইনি। বরং একটা নির্দিষ্ট ব্যাচের পণ্যে তারতম্য পেয়েই কোম্পানিকে না জানিয়ে সরাসরি মিডিয়ার কাছে গেছে।

thefinancialexpress.com.bd

thefinancialexpress.com.bd

সারাবছর নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে রমজান আসলেই বিএসটিআইয়ের ঘুম ভাঙে আর কিছু একটা করে দেখানোর তোড়জোড় শুরু করে। র‍্যান্ডমলি কিছু কোম্পানিকে বেছে নিয়ে লোক দেখানো কিছু একটা করার প্রচেষ্টা চালায়। আমার ধারণা, লটারির মাধ্যমে এদেরকে বেছে নেয়। অথচ হাজার হাজার ভেজাল পণ্য তো ওপেন সিক্রেটের মতো বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, সেই দিকে কি বিএসটিআইয়ের দৃষ্টি আছে?

Source: The Daily Star

Source: The Daily Star

আর আরেকটা কথা। আমরা কি জানি ভেজাল কাকে বলে? যে পণ্যের মধ্যে অতিরিক্ত লাভের আশায় অসাধুভাবে ক্ষতিকর কিছু মেশানো হয়। কিন্তু এসিআই লবণের ক্ষেত্রে তো এমন কিছু হয় নি।

Welcome to ACI

Welcome to ACI

আমরা যারা ব্র্যান্ড প্র্যাকটিসটা বুঝি, তারা জানি একটা ব্র্যান্ড দাঁড় করাতে কত শ্রম, কত টাকা, কত কাঠখড় পোড়াতে হয়। আর বড় কোম্পানিগুলো তাদের দীর্ঘদিনের ব্র্যান্ড ইমেজ নষ্ট করতে চায় না, চাইবেও না। কারণ তারা জানে, ব্র্যান্ড ইমেজে আঘাত মানেই তাদের ব্যবসার জন্য বিশাল লস। বিএসটিআইয়ের সামান্য খামখেয়ালীপনার কারণে যে ব্র্যান্ডগুলোর দীর্ঘদিনের ইমেজ ক্ষুণ্ণ হলো, এর দায়ভার কে নেবে? তাছাড়া আমরা এখন এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড কান্ট্রি। সঠিক প্রক্রিয়া ছাড়া এধরনের উদ্ভট কর্মকাণ্ড শুধু দেশে না, বিদেশেও আমাদের সুনাম নষ্টের জন্য যথেষ্ট; যা দেশের অর্থনীতিকেও পিছিয়ে দিতে পারে।

এতগুলো কথা বললাম, কারণ দীর্ঘদিন যাবত আমার বাসায় এসিআই লবণ ব্যবহৃত হয়। এতদিন কি আমরা ভেজাল খেলাম? এই ভয়টাই আসলে আমাকে এতকিছু রিসার্চ করতে বাধ্য করেছে।

যাই হোক, আমি মনে করি, বিএসটিআই-সহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল দায়িত্ব হচ্ছে বাজারে সঠিক মানের পণ্য নিশ্চিত করা, কাউকে হয়রানি করা নয়। আর প্রতিটা কোম্পানির দায়িত্ব হচ্ছে আইন মেনে আমাদের হাতে অবশ্যই সঠিক মানের পণ্য তুলে দেয়া।

জয় হোক বাংলাদেশের। জয় হোক মনুষ্যত্বের।



জনপ্রিয়