কিছু পেপার কাটিং....  কিছু পেপার কাটিং....

বাজারের সব পণ্যই যদি ভেজাল হয় তাহলে খাঁটি কোনটা!

একজন সচেতন নাগরিক হয়ে কিছু কথা বলি। আমি ফ্যামিলি পারসন। ফ্যামিলির ভালোর জন্য সবকিছুই করি। আমার ফ্যামিলি কোন ব্র্যান্ডের ফুড কনজ্যুম করবে সেটাও আমার মাথাব্যথা। তাই একটু অবাক হয়েছিলাম যখন পেপার-পত্রিকায় দেখলাম হাইকোর্টের নির্দেশে ৫২টা প্রোডাক্ট ব্যান করা হয়েছে যার মধ্যে আমি নিয়মিত কিনি এমন কয়েকটি প্রোডাক্টও আছে। ডুডলস নুডলস, প্রাণের গুঁড়া মশলা আর এসিআই পিওর সল্ট আমার বাসায় আনা হয়।

Source: Daily Sun

Source: Daily Sun

কিছুদিন মন খারাপ করে থাকলাম, মিডিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী এগুলোতে ভেজাল আছে জেনে। তারপর আরও অবাক হলাম যখন দেখলাম দুইদিন না যেতেই এই ৩ টি প্রোডাক্টের উপর থেকে ব্যান তুলে নেয়া হয়েছে। মানে কী ভাই? এগুলো যদি এখন মানসম্পন্ন পণ্য হয়, তাহলে ব্যান করা হয়েছিলো কেন? আমি নিজে হাতেই এই পণ্যগুলো কিনি বলে খোঁজ-খবর করাটা আমার নৈতিক দায়িত্ব মনে করলাম। পেপার, অনলাইন মিডিয়া ঘেঁটে মোটামুটি জানতে পারলাম, বিএসটিআই এর অভিযোগটা ছিলো ১-২% এর তারতম্যের জন্য যা কোনোভাবেই কোনো সেন্স মেক করে না।

Source: daily-sun.com

Source: daily-sun.com

যেমন এসিআই লবণের একটা ব্যাচে নাকি pH ভ্যালু সামান্য বেশি ছিলো, যার কারণে একে ভেজাল তকমা দিয়ে ব্যান করে হয়। আরে ভাই, লবণের pH ভ্যালু একটু বেশি, তাতে সমস্যাটা কী? নরমাল pH ভ্যালু যেখানে 7.4 আসার কথা যেখানে এসিআই লবণে পাওয়া গেছে 9.2, সেটাও আবার একটা নির্দিষ্ট ব্যাচে। লবণ যখন আমরা খাবারের সাথে খাই, তখন সেটা pH ভ্যালু এমনিতেই 7.4 হয়ে যায়, যা শরীরের জন্য কোনোভাবেই ক্ষতিকারক না। আর ভেজাল তো আপনি একটা পণ্যকে তখনই বলবেন, যখন সেই পণ্যে ক্ষতিকর কিছু মেশানো থাকবে। সেখানে pH ভ্যালুর কমবেশি হওয়াটা তো সম্পূর্ণ আলাদা কেইস।

Source: ACI Limited

Source: ACI Limited

এটা নিয়ে আমার কয়েকজন বন্ধু, সিনিয়র ভাই-ব্রাদারের সাথে কথাও বলেছি যারা সবাই মোটামুটি এফএমসিজি জগতে ভালো ভালো পজিশন হোল্ড করেন। কথা বলে বুঝলাম, এসিআই লবণ বাজার থেকে তুলে নেয়ায় সেই সুযোগে মানহীন লবণ বাজারে চলে এসেছে। এই যে এতে সারাদেশে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়লো, এই দায়িত্ব এখন কে নেবে? বিএসটিআই? আর যেসব লবণচাষীদের কাছ থেকে এসিআই লবণ কিনতো, তারা যে ব্যান চলাকালীন লবণ বেচতে পারে নাই, এবং তাতে যে লবণ নষ্ট হয়ে গেছে, সেই ক্ষতিপূরণ কে দেবে? সরকার? এক্সপোর্টে কাজ করা আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারলাম যে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের বিদেশি কম্পিটেটররা মিডল ইস্টের কাছে এই ভেজালের রিপোর্ট দেখায়ে প্রচার চালিয়েছে বলে এই পণ্যগুলোর এক্সপোর্ট বন্ধ হয়ে গেছে। এক্সপোর্টের এই ক্ষতির দায়ভার কার?

Source: Prokerala.com

Source: Prokerala.com

একটা আস্থাসম্পন্ন ব্র্যান্ড গড়ে তুলতে কতটা শ্রম, সময় ও অর্থ ব্যয় হয়, সেটা সহজে অনুমেয়। একটা ব্র্যান্ড ইমেজের যে বিশাল ভ্যালু, বিএসটিআই-এর একটা ভুল রিপোর্ট নিমেষেই ধ্বসিয়ে দিলো সব। সোশ্যাল মিডিয়ায় কত ট্রল হলো, একটা নির্দিষ্ট প্রোডাক্টের জন্য মাদার ব্র্যান্ডের যে বিশাল ক্ষতি হলো, এই ক্ষতিপূরণ এখন কে দেবে? বড় বড় কোম্পানিই যদি এভাবে হয়রানির শিকার হয়, তাহলে তো মানুষ ব্যবসা করাই বন্ধ করে দেবে।

Source: Jessica Mudditt

Source: Jessica Mudditt

আমি মাঝে মাঝে ভাবি, সরকারের তদারকি সংস্থাগুলোর উপর যে মানুষের ভরসা কমে গেছে, এমনি এমনি না। আমি বরং কয়েকটা প্রশ্ন করে যাই, আপনাদের মনেও একই প্রশ্ন জাগে কীনা একটু মিলিয়ে নেবেন। হাজারটা স্যাম্পলের মধ্যে বিএসটিআই টেস্ট করলো ৪০০+ স্যাম্পল। কেন? এক হাজারটাই কেন নয়? অনলাইন নিউজ পেপারে দেখলাম নিয়ম অনুযায়ী স্যাম্পলিংয়ের সময় কোম্পানির প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তাদেরকে স্যাম্পলিংয়ের সময় ডাকা হয়নি। কেন? 

Source: onrushdigital.com

Source: onrushdigital.com

বাজারে এসিআই লবণের মতো কাছাকাছি ডিজাইনের প্যাকেটের বেশ কিছু লবণ দেখেছি আমি নিজে। বিএসটিআই ভুলে সেরকম নকল পণ্য টেস্ট করে নাই তার গ্যারান্টি কী? তাই কেইসটাকে ভেজাল কেইস বলা যায় না, তাহলে বিএসটিআই কেন কোম্পানিকে ভুল শুধরে নেয়ার সুযোগ না দিয়ে ডাইরেক্ট মিডিয়ার কাছে গেলো?

এ সি আই এর একই মোড়কে নকল পণ্য!

এ সি আই এর একই মোড়কে নকল পণ্য!

বাজারে তো এমন হাজারো নকল ও ভেজাল পণ্য আছে, সেগুলোর ব্যাপারে তো বিএসটিআই টিনের চশমা পরে থাকে। আসলে পণ্যের ধারাবাহিক মান বজার রাখা যেমন স্বনামধন্য কোম্পানিগুলোর দায়িত্ব, তেমনি সরকারি তদারকি সংস্থাগুলোর দায়িত্বও হচ্ছে প্রকৃত ভেজাল ও নকল পণ্যগুলোর বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়া, ভুল দেখিয়ে দেওয়া এবং শুধরানো সুযোগ দেওয়া।



জনপ্রিয়