বিশ্বের ইতিহাস পরিবর্তনকারী যেসব নারীদের সম্পর্কে ইতিহাস বইগুলো আপনাকে বলে না       বিশ্বের ইতিহাস পরিবর্তনকারী যেসব নারীদের সম্পর্কে ইতিহাস বইগুলো আপনাকে বলে না

বিশ্বের ইতিহাস পরিবর্তনকারী যেসব নারীদের সম্পর্কে ইতিহাস বইগুলো আপনাকে বলে না

২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ডঃ কেটি বউম্যান কৃষ্ণ গহ্বরের প্রথম চিত্রটি তৈরি করেছিলেন এবং ইতিহাসে নারীর ভূমিকা সম্পর্কে সমগ্র বিশ্বেকে জানান দিয়েছিলেন। দুঃখের বিষয় হলো, শতাব্দী ধরে, নারীদের দ্বারা সৃষ্ট অনেক আবিষ্কার এবং উদ্ভাবন ইতিহাস বইগুলো উপেক্ষা করেছে এবং পুরুষের সাফল্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।

ইতিহাসবিদ ডঃ বেটানি হিউজেসের মতে - শিল্প, বিজ্ঞান, রাজনীতি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে নারী অর্জনের রেকর্ডকৃত ইতিহাস মাত্র ০.৫%। বিশ্বের ইতিহাস পরিবর্তনকারী এমনই কয়েকজন নারী সম্পর্কে জানবো আজকের আয়োজনে যাদের কথা ইতিহাস বইগুলো আপনাকে বলে না। চলুন জেনে আসা যাক-

মার্গারেট হ্যামিলটন ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন

© Draper Laboratory / Wikimedia Commons

© Draper Laboratory / Wikimedia Commons

মার্গারেট হ্যামিলটন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে “আইকন লেডি” হিসেবে পরিচিতি পান অ্যাপোলো কোডের প্রিন্ট আউটের সাথে তাঁর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরার পর। মার্গারেট হ্যামিলটন যুক্তরাষ্ট্রের ইরহাম কলেজ থেকে গণিতে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন এবং MIT থেকে আবহাওয়াবিদ্যা (meteorology) তে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।

১৯৬৯ সালে চাঁদে প্রথম ২ জন মানুষের সফলভাবে অবতরণ করা অ্যাপোলো - 11 মহাশূন্য মিশনে অনেক নারীর অবদান ছিল। কম্পিউটার বিজ্ঞানী মার্গারেট হ্যামিলটন ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি এবং তার দলটি যে সফটওয়্যার তৈরি করেছিলেন সেটি নাসার মহাকাশচারীদের নিরাপদে চাঁদে অবতরণ করতে সহায়তা করেছিল। যদিও সেসময় গণমাধ্যমের সমস্ত মনোযোগ ছিল NASA এবং চাঁদে অবতরণকারীদের দিকে।

মার্গারেট স্যাঞ্জার, ১৮৭৯ - ১৯৬৬

© Bettmann / Getty Images

© Bettmann / Getty Images

ইউজেনিক এজেন্ডা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্যতম প্রধান নারীবাদী ছিলেন আমেরিকার জন্ম নিয়ন্ত্রণ আন্দোলনের নেতা মার্গারেট স্যাঞ্জার। মার্গারেট স্যাঞ্জার অনাকাঙ্ক্ষিত শিশুদেরকে একটি অসুবিধিবদ্ধ জীবনে জন্মগ্রহণ থেকে বিরত রাখার অস্ত্র হিসেবে জন্মনিয়ন্ত্রণকে বেছে নিয়েছিলেন। মার্গারেট স্যাঞ্জার 'জন্ম নিয়ন্ত্রণ' এবং গর্ভনিরোধের জন্য নারীর অধিকারগুলোর জন্য লড়াই করেছিলেন।

১৯১৪ সালে ইংল্যান্ডে পালানোর অভিযোগে তাকে চার্জ করা হয়েছিল। ১৯১৬ সালে আমেরিকা ফিরে আসার পর, তিনি প্রথম জন্ম নিয়ন্ত্রণ ক্লিনিক খোলেন।

ভিক্টোরিয়া উডহুল, ১৮৩৮ - ১৯২৭

© Unknown / Wikimedia Commons

© Unknown / Wikimedia Commons

ভিক্টোরিয়া ওডহুল ছিলেন একজন আমেরিকান সংস্কারক এবং নারী অধিকার আইনজীবী, যিনি ১৮৭২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম নারী প্রার্থী হিসাবে পরিচিত ছিলেন। উডহুল ছিলেন একজন ভালো স্পিকার ছিলেন এবং তিনি প্রায়শই নারীর অধিকার রক্ষার বিষয়ে জনসমক্ষে বক্তব্য রাখতেন। এমনকি তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তিনি ইকুয়েল রাইটস পার্টি গঠন করেন এবং এই রাজনৈতিক দলের টিকেটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌঁড়ে অংশ নেন।

রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিন, ১৯২০ - ১৯৫৮

© MRC Laboratory of Molecular Biology / Wikimedia Commons

© MRC Laboratory of Molecular Biology / Wikimedia Commons

রোজালিন্ড এলজি ফ্রাঙ্কলিন (Rosalind Elsie Franklin), একজন ব্রিটিশ ভৌত রসায়নবিদ ও কেলাসবিজ্ঞানী যিনি ডিএনএ-র আণবিক কাঠামো আবিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ফ্রাঙ্কলিন যুক্তরাজ্যের লন্ডনের নটিং হিল এলাকাতে একটি স্বচ্ছল ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। শৈশবে তিনি সেন্ট পলস গার্লস স্কুল বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি ১৯৩৮ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউনাম কলেজে ভৌত রসায়ন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন ও সেখান থেকে ১৯৪১ সালে স্নাতক লাভ করেন।

এরপর তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভৌত রসায়নে গবেষণা করার জন্য একটি ফেলোশিপ বৃত্তি লাভ করেন। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাঁর কর্মজীবনের গতিপথ বদলে যায়। তিনি লন্ডনের একজন বিমান হামলা ওয়ার্ডেন হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন। ১৯৪২ সালে তিনি ফেলোশিপ ছেড়ে দেন এবং ব্রিটিশ কয়লা ব্যবহার গবেষণা সংস্থাতে যোগদান করেন।

সেখানে তিনি যুদ্ধের স্বার্থে কার্বন ও কয়লার শোষণ ধর্মের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত গবেষণাতে অবদান রাখেন ও এ ব্যাপারে ৫টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। পরে এই গবেষণাকর্মটির উপর ভিত্তি করেই তিনি তাঁর ডক্টরেট অভিসন্দর্ভটি রচনা করেন ও ১৯৪৫ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট সনদ লাভ করেন।

চিয়েন-শিয়াং উ, ১৯১২ - ১৯৯৭

© EAST NEWS

© EAST NEWS

চিয়েন-শিয়াং উ চীনের জন্মগ্রহণকারী আমেরিকান পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানী যিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানহাটান প্রজেক্ট এবং সাধারণভাবে পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানে ব্যাপকভাবে অবদান রাখেন। তিনি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার একটি উপায় আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি লিঙ্গ বৈষম্য সম্পর্কে বেশ সচেতন ছিলেন।

নেটিয়া মারিয়া স্টিভেনস, ১৮৬১ - ১৯১২

© EAST NEWS

© EAST NEWS

নেটিয়া মারিয়া স্টিভেনস প্রথম আমেরিকান জীববিজ্ঞানী এবং জেনেটিসিস্ট ছিলেন। ক্রোমোজোম মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ করে সেটি আবিষ্কার করা প্রথম বিজ্ঞানীদের একজন তিনি। ১৯০৪ সালে তিনি জীববিজ্ঞানী এবং জিনতত্ত্ববিদ থমাস হান্ট মর্গানকে সাথে নিয়ে সাইটিলজি এবং পুনর্জন্ম প্রক্রিয়ার গবেষণায় পরিচালনা করেন, যিনি ১৯৩৩ সালে এই কাজের জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।

বারবারা ম্যাকলিন্টক, ১৯০২- ১৯৯২

© EAST NEWS

© EAST NEWS

বারবারা ম্যাকলিন্টক নোবেল বিজয়ী মার্কিন জীববিজ্ঞানী। তিনি ১৯৮৩ সালে শারীরতত্ত্বে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি শারীরতত্ত্বে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত সাতজন নারী বিজ্ঞানীর অন্যতম। জানাচ্ছেন মোবাশ্বেরা জাহান ফাতিমা

ম্যাকলিন্টক সর্বপ্রথম অবস্থান পরিবর্তনে সক্ষম বংশগতির উপাদান আবিষ্কার করেন। ইংরেজিতে একে ট্রান্সপোজেবল জেনেটিক এলিমেন্ট বলে। তিনি প্রথম ভুট্টা ক্রোমোসোমে এই উপাদান আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে ব্যাক্টেরিয়া, ইস্টসহ আরো অন্যান্য জীবে ট্রান্সপোজেবল জেনেটিক এলিমেন্ট বা জাম্পিং জিন আবিষ্কার হয়।

অধ্যাপিকা ম্যাকলিন্টক ১৯০২ সালের ১৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের হার্টফোর্ডে জন্মগ্রহণ করেন। নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ইরামাস হল হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৩, ১৯২৫ ও ১৯২৭ সালে যথাক্রমে বি.স., এম.এ. ও পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন।

আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ...



জনপ্রিয়