ভূটান সম্পর্কিত অজানা তথ্য - যেখানে স্বাস্থ্যসেবা ফ্রি এবং কোন গৃহহীন মানুষ নেই!          ভূটান সম্পর্কিত অজানা তথ্য - যেখানে স্বাস্থ্যসেবা ফ্রি এবং কোন গৃহহীন মানুষ নেই!

ভূটান সম্পর্কিত অজানা তথ্য - যেখানে স্বাস্থ্যসেবা ফ্রি এবং কোন গৃহহীন মানুষ নেই!

১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ভারত ও চীনের মাঝে অবস্থিত এই রহস্যময় এবং সুন্দর দেশটি পর্যটকদের জন্য বন্ধ ছিল। অতীতে ভূটান পাহাড়ের উপত্যকায় অবস্থিত অনেকগুলো আলাদা আলাদা রাজ্য ছিল। ১৬শ শতকে একটি ধর্মীয় রাষ্ট্র হিসেবে এর আবির্ভাব ঘটে। ১৯০৭ সাল থেকে ওয়াংচুক বংশ দেশটি শাসন করে আসছেন। ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত ভূটান একটি বিচ্ছিন্ন দেশ ছিল। আজকের আয়োজনে জানবো ভূটান সম্পর্কিত অজানা কিছু তথ্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

ইন্টারনেট বা টেলিভিশন

© dragonculturaltours

© dragonculturaltours

ভূটানে, ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত টিভি ও ইন্টারনেট আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি থেকে সমগ্র দেশকে আলাদা করা অসম্ভব ছিল, তাই রাজা এই নিয়ম বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন। এই ক্ষেত্রে, ভুটান টেলিভিশনের ব্যবহার শুরু করা বিশ্বের শেষ দেশ।

দ্য মিনিস্ট্রি অফ হ্যাপিনেস

© Associated Press / Eastnews

© Associated Press / Eastnews

২০০৪ সালে জনগণের অভ্যন্তরীণ শান্তি রক্ষার জন্য গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস কমিটি গঠন করা হয়। এমনকি জনগণের বিভিন্ন কথা লেখার একটি কলাম রয়েছে যেখানে দেশটির মানুষ জীবনে সন্তুষ্ট কিনা তা লিপিবদ্ধ করতে পারেন। 

আর কি, সুখ মন্ত্রণালয়ও আছে এবং যেটি গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট (জিডিপি) টার্মটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যারা মোট জাতীয় সুখকে পরিমাপ করে। সুতরাং, জীবনের মান, আর্থিক এবং মানসিক মূল্যের মধ্যে ভারসাম্য দ্বারা নির্ধারিত হয়।

এখানে কোন গৃহহীন মানুষ নেই

© Allpix Press / Eastnews   © Associated Press / Eastnews

© Allpix Press / Eastnews © Associated Press / Eastnews

ভূটানে রাস্তায় বাস করে এমন মানুষ নেই। যদি একজন মানুষ তাদের বাড়ি হারান, তাদের শুধুমাত্র রাজার শরণাপন্ন হতে হয়। তার কাছে গেলেই তিনি জমি ও বাড়ির ব্যবস্থা করে দেন যাতে করে তারা চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন। সুতরাং, বুঝতেই পারছেন ভূটানের মানুষ অনেক না থাকা সত্ত্বেও কেন সুখি।

বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা

© explora_world

© explora_world

ভূটানের প্রতিটি নাগরিকের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ভূটানে পুরনো ঐতিহ্যবাহী ও শাস্ত্রীয় ঔষধ উভয়ই প্রচলিত এবং একজন ব্যক্তি চিকিৎসা পদ্ধতিতে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ন্যাশনাল ড্রেস কোড

© no___boundary

© no___boundary

ভূটানের লোকেরা ঐতিহ্যবাহী জামা-কাপড় পরিধান করেন। পুরুষরা ভারী পোষাক পরেন এবং মহিলারা লম্বা পোশাক পরেন। একজন ব্যক্তির অবস্থা এবং সামাজিক স্তর তাদের বাম কাঁধে আবৃত স্কার্ফের রঙ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। সাধারণ মানুষ সাদা স্কার্ফ পরেন, ধনী মানুষ এবং ভিক্ষুরা হলুদ রঙয়ের পোশাক বেশী পরেন।

ধূমপান নিষিদ্ধ

© dechen__dee

© dechen__dee

ভূটানের রাজা দেশে তামাক চাষ এবং বিক্রি নিষিদ্ধ করার একটি আইন প্রণয়ন করেছেন। দেশটিতে তামাক কেনা অসম্ভব। পর্যটকদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সংগ্রহ করে বড় অংকের ফি প্রদানের পর তামাক জাতীয় দ্রব্য বা সিগারেট সাথে নিয়ে যেতে পারেন।

প্রাণী এবং প্রকৃতি সম্পর্কে যত্নবান

© flickr

© flickr

দেশটি সত্যিই পরিবেশ এবং প্রকৃতি সম্পর্কে সচেতন। এমনকি তারা ক্রমবর্ধমান গাছের দিকেও বিশেষ মনোযোগ প্রদান করেন। ২০১৫ সালে, ভূটানের মানুষ মাত্র এক ঘন্টায় ৫০০০০ গাছ লাগিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন।

রান্নার বৈশিষ্ট্য

© spiceafffairs

© spiceafffairs

ভূটানের বেশিরভাগ মানুষ বৌদ্ধ। যেহেতু এই ধর্ম প্রাণীদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে, সেখানে নিরামিষের প্রচলন বেশি। তাদের প্রধান এবং মৌলিক খাবার ভাত। ভূটানের মানুষ চা পান করতে পছন্দ করেন। তারা লবণ, মরিচ এবং মাখন দিয়ে কালো এবং সবুজ চা পান করেন।

চ্যালেঞ্জিং ট্যুরিজম

© Homocosmicos / Easyfotostock / Eastnews

© Homocosmicos / Easyfotostock / Eastnews

যদিও ভূটানের রাজা দেশটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। তবুও তিনি পুরো দেশে প্রবেশের অনুমতি দেননি। আপনি ভূটান ভ্রমণে আপনি শুধুমাত্র একদল পর্যটকদের সাথে যেতে পারবেন। সমস্ত নথি এবং ভিসা একটি রাষ্ট্র নিযুক্ত কোম্পানী দ্বারা ইস্যু করা হয়। পারমিট পেতে, আপনাকে অগ্রিম সমস্ত খরচ দিতে হবে (ফ্লাইট টিকিট, হোটেল, ফি, ট্যুর অপারেটর এবং গাইড পরিষেবা, ভিসা, এবং বীমা)।

দেশটিতে, আপনি শুধুমাত্র গাইড সাথে নিয়ে ভ্রমণ করতে পারবেনঃ আপনার নিজে নিজে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ট্যুর অপারেটর সমস্ত পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনমূলক প্রোগ্রামের আয়োজন করেন। দেশের মধ্যে এবং বাইরে সমস্ত ফ্লাইট পরিচালনার জন্য কেবলমাত্র একটি বিমান সংস্থা রয়েছে এবং হোটেলগুলোর দাম (সস্তা বা দামি কিনা) সরকার দ্বারা নির্ধারিত হয়।

উত্তরাধিকার ঐতিহ্য

© NIV / SIPA / Eastnews

© NIV / SIPA / Eastnews

ভূটানে নারীরা সম্মানিত তাদের উত্তরাধিকার ঐতিহ্য যেটি প্রমাণ করে। তাদের বাড়ি, গবাদি পশু, এবং জমির মতো সব সম্পত্তি এবং জিনিসপত্র ছেলে নয়, পরিবারের বড় মেয়েরা পেয়ে থাকেন।

ইকোলজি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

© s.lo0k

© s.lo0k

ভূটানে ইকোলজি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখানে কোন রাসায়নিক পণ্য আমদানি বা ব্যবহার করা আইন বিরুদ্ধ। তারা যে সব কিছু ব্যবহার করে তা দেশের ভিতরে চাষ করা হয় এবং এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক।

বিবাহের ঐতিহ্য

© bhutantraveller

© bhutantraveller

ভূটানের ভেতর বিদেশিদের বিয়ে নিষিদ্ধ! রাজা বিশ্বের বাকি দেশগুলো থেকে তাদের অনন্যতা এবং বিচ্ছিন্নতা রক্ষা করতে সবকিছু করেন। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের সময়, ভিক্ষুকরা মন্ত্র পাঠ করেন। এটা বলা হয় যে, এই প্রক্রিয়া নববধূদের একটি শক্ত মানসিক সংযোগ নির্মাণ করতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী, পুরুষ নারীর বাড়িতে আসেন এবং যখন তিনি যথেষ্ট অর্থ উপার্জন করেন, তখন তারা অন্য বাড়িতে নিজেদের মতো থাকতে পারেন।

রাস্তা

© onthesameplanet

© onthesameplanet

ভূটানের রাজধানীতে কোন ট্রাফিক লাইট নেই। তবে, এটি মানুষের জন্য কোন সমস্যা নয়। সমস্ত রোড সাইনগুলো হাতে অংকন করা। সত্যি বলতে এখানকার রাস্তাগুলো বেশ চমৎকার। 

জিঞ্জারব্রেড হাউস

© red__jacket__

© red__jacket__

ভূটানের লোকেরা তাদের ঘর সাজাতে পছন্দ করেন। তারা বাড়িতে প্রাচীর পাখি, প্রাণী, এবং বিভিন্ন নিদর্শন আঁকেন। যেগুলো বেশ চমৎকার হয়। একটি ঐতিহ্যবাহী ঘর ৩ তলা বিশিষ্ট একটি ছোট ভবন। স্থলভাগটি প্রাণীদের রাখার স্থান, বসবাসের স্থানটি দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত এবং তৃতীয় তলাটি খড় সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হয়।

আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ...



জনপ্রিয়