বিশ্ববিখ্যাত গ্রিক বিজ্ঞানী ও দার্শনিক! 
বিশ্ববিখ্যাত গ্রিক বিজ্ঞানী ও দার্শনিক!

বিশ্ববিখ্যাত গ্রিক বিজ্ঞানী ও দার্শনিক এরিস্টটলের এই তথ্যগুলো জেনে অবাক হবেন!

এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন সময়ে অনেক মহান ও জ্ঞানী মানুষের সাক্ষী হয়েছে, এই সকল জ্ঞানী মানুষেরা তাদের আবিষ্কার কিংবা জ্ঞানের আলো দিয়ে মানব জীবন পরিবর্তন করেছেন। এটা বলা হয়ে থাকে, যে পৃথিবীতে এরিস্টটলের সমকক্ষ কোন মানুষ এত মেধাবী ও বুদ্ধিমান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি! গ্রীক এই দার্শনিক জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার করেছিলেন! বিজ্ঞান থেকে শুরু করে সাহিত্য, সংগীত, থিয়েটার, যুক্তি, দর্শন, বক্তৃতা, নীতিশাস্ত্র এবং রাজনীতি সকল ক্ষেত্রেই এই অত্যন্ত জ্ঞানী মানুষটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে ছিলেন! আজ আমরা এই মহান মানুষ সম্পর্কে কিছু মজাদার তথ্য জানবো!

১. বোন লালন পালন করেছিলেন!

Internet

Internet

এরিস্টটল ৩৮৪ খ্রিষ্টপূর্বে গ্রিসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শৈশবেই তিনি পিতা মাতাকে হারান! এর ফলশ্রুতিতে তার বড় বোন এরিমনেস্ট ও দুলাভাই প্রক্সেনাসের কাছেই তিনি বড় হয়েছিলেন!

২. শিখেছিলেন সেরাদের কাছ থেকে

Source: history.com, image: wikimedia.org

Source: history.com, image: wikimedia.org

এরিস্টটল সবচেয়ে সেরা দের কাছ থেকে দীক্ষা অর্জন করেছিলেন! ১৭ বছর বয়সে তিনি প্লেটো একাডেমিতে ভর্তি হয়েছিলেন এবং সেখানে ২০ বছর সবচেয়ে সেরা শিক্ষকের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জনের জন্য সম্পূর্ণ নিয়োজিত করেন।

৩. এরিস্টটলের লেখা

Source: history.com, image: wikimedia.org

Source: history.com, image: wikimedia.org

বলা হয়ে থাকে, তিনি ২০০ এরও বেশি লিখিত কর্ম সম্পাদন করে ছিলেন কিন্তু বর্তমানে মাত্র ৩১ টি লেখা রয়েছে!

৪. দা অর্গানন

Source: history.com, image: gr-assets.com

Source: history.com, image: gr-assets.com

এরিস্টটল বৈজ্ঞানিক এবং দার্শনিক অনুসন্ধানের জন্য বেশকিছু লিখা সম্পাদনা করেছিলেন! অর্গানন ছিল সেগুলোর মধ্যে অন্যতম যেখানে যুক্তি বিদ্যার উপর ৬ টি বিস্তারিত কাজের সংকলন রয়েছে।

৫. এরিস্টোটলের সম্পাদিত কাজের উৎস

BU Personal Websites

BU Personal Websites

এরিস্টটলের বেশিরভাগ কাজগুলি লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল পান্ডুলিপি এবং নোট আকারে! তার কাজগুলো সাজানো হয়েছিল উক্তি, বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের নথি এবং শৃংখলাবদ্ধ কাজ দিয়ে। তার সম্পাদিত কর্ম গুলো দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তাঁর ছাত্র থিওফ্রাস্টাস যিনি তাঁর লেখা এসব নথিগুলো নিজের ছাত্র নেলিয়াসকে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর এই লিখিত কর্ম গুলো রোমে নিয়ে যাওয়া হয়!

৬. পৃথিবীর প্রথম বিশাল লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা!

Source: biography.com, image: wikimedia.org

Source: biography.com, image: wikimedia.org

৩৩৫ খ্রিষ্টপূর্বে এরিস্টটল লাইসিয়াম নামে একটি দার্শনিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এই বিদ্যালয়টি পেরিপ্যাটেটিক বিদ্যালয় নামে সুপরিচিত ছিল! লাইসিয়াম এ অসংখ্য পান্ডুলিপির সংকলন থাকার কারণে এটাকে পৃথিবীর অন্যতম প্রথম বিশাল গ্রন্থাগার বলা হয়ে থাকে!

৭. একজন গর্বিত শিক্ষক!

Source: history.com, image: wikimedia.org

Source: history.com, image: wikimedia.org

আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট ছিলেন এরিস্টটলের ছাত্র। ৩৪৩ খ্রিষ্টপূর্বে আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট এরিস্টটলের ছাত্র হন! সব সময় আলেকজান্ডার এরিস্টটলের কাছ থেকে উপদেশ এবং জ্ঞান মূলক কথা বেশি জানার চেষ্টা করতেন! শুধু তাই নয় টলেমি এবং ক্যাসেন্ডার ও ছিলেন এরিস্টটলের ছাত্র যারা পরবর্তীতে রাজা হয়েছিলেন!

৮. সন্তানকে উৎসর্গ করে লেখা গবেষণামূলক বই!

Source: myinterestingfacts.com, image: amazon.com

Source: myinterestingfacts.com, image: amazon.com

নিকোম্যাকিয়ান এথিক্স নামে পরিচিত বিখ্যাত একটি বই যেখানে ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক স্তরে মানুষের স্বভাব অনুসন্ধানপূর্বক গবেষণা তুলে ধরা হয়েছিল যা মূলত এরিস্টটল তার সন্তান নিকোম্যাকাসকে উৎসর্গ করে লিখেছিলেন! উল্লেখ্য যে, নিকোম্যাকাস খুব তরুণ বয়সে যুদ্ধে নিহত হয়েছিল!

৯. প্রেম!

www2.latech.edu  

www2.latech.edu

রাজা হারমিয়াসের ভগ্নি পিথিয়াসকে বিয়ে করেছিলেন এরিস্টটল। তাঁদের একটি কন্যা সন্তান ছিল যার নাম মায়ের নাম অনুসারে পিথিয়াস রাখা হয়েছিল! প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর, এরিস্টোটল হারপিলিসের প্রেমে পড়েন যিনি পিথিয়াসের সাবেক দাসী ছিলেন! এই ঘরে যে পুত্র সন্তান হয়েছিল তার নাম ছিল নিকোম্যাকাস!

১০. প্রাণীদের ব্যবচ্ছেদ শুরু করেছিলেন!

Source: Wikipedia, image: hellenicaworld.com

Source: Wikipedia, image: hellenicaworld.com

এরিস্টটল ছিলেন একজন সময় এর আগে চলা মানুষ! বিশ্বকে জানার জন্য তিনি সব সময় নতুন ধারণা পোষণ করতেন! তিনি পৃথিবীর বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করতেন এবং যা দেখতেন সেটা লিপিবদ্ধ করতেন! অথচ অন্যদিকে অন্যান্য গ্রিক দার্শনিকরা কোন কিছু পর্যবেক্ষণ না করেই শুধুমাত্র মনের চিন্তাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতেন!

১১. কিছু উদ্ভট ভাবনা!

sciencenews.org

sciencenews.org

এরিস্টটলের ভাষ্যমতে, মস্তিষ্ক না বরং হৃদপিণ্ড বুদ্ধিমত্তার কেন্দ্রবিন্দু! তিনি এ ও দাবি করতেন যে, ছাগলদের লিঙ্গ নির্ধারণ নির্ভর করে বাতাসের প্রবাহের দিকনির্দেশনার ওপর!

১২. সর্বপ্রথম প্রাণী এবং উদ্ভিদের শ্রেণীবিভাগ করেছিলেন!

source: facts-about.org.uk, image: scienceprojectideasforkids.com

source: facts-about.org.uk, image: scienceprojectideasforkids.com

প্রাণী এবং উদ্ভিদ এর শ্রেণীবিভাগ এর প্রবক্তা ছিলেন এরিস্টটল। তাঁর প্রদত্ত তথ্যগুলোর সাথে আধুনিক শ্রেণীবিভাগের ঘনিষ্ঠ সাদৃশ্যতা রয়েছে!

১৩. প্রাণীবিজ্ঞানের জনক! 

en.wikipedia.org 

en.wikipedia.org

এমনটা না যে অ্যারিস্টোটল ই প্রথম কোন ব্যক্তি যিনি প্রাণিবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করেছেন, তবে তাকেই প্রাণিবিদ্যার জনক বলা হয়। তিনি প্রায়োগিক এবং পদ্ধতিগতভাবে প্রাণীবিদ্যার প্রয়োগ ঘটিয়ে ছিলেন!

এরিস্টটল সম্পর্কে এই তথ্যগুলো আপনার কেমন লাগলো তা কমেন্ট বক্সে জানানোর অনুরোধ রইল! সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ... 



জনপ্রিয়