তুরস্কের গিরেসান প্রদেশের কুস্কয় গ্রামঃ যেখানে মানুষ কথা বলে পাখির মতো শিস দিয়ে!     তুরস্কের গিরেসান প্রদেশের কুস্কয় গ্রামঃ যেখানে মানুষ কথা বলে পাখির মতো শিস দিয়ে!

তুরস্কের গিরেসান প্রদেশের কুস্কয় গ্রামঃ যেখানে মানুষ কথা বলে পাখির মতো শিস দিয়ে!

বিচিত্র এই পৃথিবীতে এখনো এমন স্থান রয়েছে যেখানকার বাসিন্দারা পাখির মতো সুমধুর সুরে একে অপরের সাথে মনের ভাব প্রকাশ করে। বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে চলুন জেনে আসা যাক সেই গ্রামটি সম্পর্কে-

তুরস্কের গিরেসান প্রদেশের সানাকসি জেলার ছোট্ট সুন্দর একটি গ্রাম কুস্কয়। যেখানে বাস করেন প্রায় ১০০০০ মানুষ। এখানকার বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট, রাস্তা ঘাট প্রায় সবখানেই অবিরত ভেসে বেড়ায় পাখির কন্ঠের মতো সুমধুর সুর। আপনি হয়তো এগুলোকে পাখির ডাক বলে মনে করতে পারেন। কিন্তু, অবাক করার মতো বিষয় হলেও এখানকার মানুষরাই এই ভাষায় কথা বলেন!

Source:Internet

Source:Internet

এই গ্রামের মানুষদের কাছে এটি 'কুসদিলি' ভাষা নামে পরিচিত, যার অর্থই দাঁড়ায় 'পাখির ভাষা'। অন্য ভাষায় কথ্যরূপ বা লেখ্যরূপ বর্তমান থাকলেও এই ভাষা সাংকেতিক রূপ বর্তমান। 'কুসদিলি' ভাষাকে স্বতন্ত্র ভাষা মনে হলেও, এটি মূলত তুর্কি ভাষা। শিসধ্বনির সাহায্যে উচ্চারিত এই শব্দ এতোটাই জোরে হয় যে যাকে বলা হয় তার কানে সহজে পোঁছে যায়।

প্রতিদিনকার জীবন থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে, সকল কাজে শিসের সাহায্যে কথোপকথন চালিয়ে যায় এই গ্রামের বাসিন্দারা। তবে, শিস দিয়ে কথা বলার অর্থ এই নয় যে, তারা তুর্কি বা অন্যকোন ভাষায় কথা বলতে পারেন না। বলা যায়, বংশ পরম্পরায় পাওয়া এই ভাষায় কথা বলাটা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

Source:Internet

Source:Internet

ঐতিহাসিকদের মতে, একসময় স্পেন, গ্রীস, মেক্সিকো, ইথিওপিয়া, ব্রাজিলের অ্যামাজন অববাহিকা, লাওসের মালভূমি, মরক্কোর অ্যাটলাসের মানুষ শিসের সাহায্যে একে অপরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতো। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক হেরোডোটাস নিজেই ইথিওপিয়ার শিসভাষার সাক্ষী ছিলেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তুরস্কের গিরেসান প্রদেশের কুস্কয় গ্রামের শিসভাষার গুণগত মান অন্যদের তুলনায় উন্নত।

Source:Internet

Source:Internet

বিদ্যুতের আগমন ও প্রযুক্তির বিকাশের ফলে বর্তমানে এখানকার মানুষের হাতের লাগালে চলে এসেছে মোবাইল, ইন্টারনেট সহ অন্যান্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। ফলে, কমে এসেছে এই গ্রামের মানুষদের শিসভাষায় কথা বলার প্রয়োজনীয়তা। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই ভাষা ধীরে ধীরে বিলুপ্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে, আশার বাণী হলো এই ভাষাকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে ২০১৪ সালে কুস্কয় গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠানিকভাবে 'কুসদিলি' ভাষা শেখানো শুরু হয়েছে। 'কুসদিলি' ভাষাকে ২০১৭ সালে ইউনেস্কোর List of Intangible Cultural Heritage in Need of Urgent Safeguarding-এর আওতাভুক্ত করা হয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ...



জনপ্রিয়