প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কিছু প্রিয় খাবার এবং সেগুলোর উপকারিতা।       প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কিছু প্রিয় খাবার এবং সেগুলোর উপকারিতা।

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কিছু প্রিয় খাবার এবং সেগুলোর উপকারিতা।

আজ আমরা আপনাদের সামনে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রিয় কিছু খাবার এবং সেসব খাবারের উপকারিতা তুলে ধরছি।

দুধ

internet

internet

দুধ ছিলো রাসুল [সা.] –এর অত্যন্ত প্রিয়। দুধকে জান্নাতি খাবার ও বলা হয়। বলা হয়ে থাকে যে আঙুল দিয়ে যেভাবে কপালের ঘাম মুছে নেওয়া যায় অনেকটা সেভাবেই দুধও হৃদয়ের তাপ মুছে দেয়। দুধ একদিকে যেমন মেরুদন্ডকে শক্তিশালী করে আবার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি করে। একইসাথে বুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে "হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সকল পানীয় এর মধ্যে দুধ সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন।"

শরীরের স্ট্যামিনা বৃদ্ধিতে ও ক্লান্তি দূর করতে দুধ অত্যন্ত উপকারী পানীয়। এছাড়াও প্রসাবের মাধ্যমে শরিরের ভেতরের বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতেও দুধ অত্যন্ত উপকারী।

 

মধু

internet

internet

মধু রাসুল [সা.]- খুবই পছন্দ করতেন। বিভিন্ন সময় তিনি মধু খেতেন। ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য একটুখানি গরম পানিতে মধু মিশিয়ে পান করা যে কত উপকারি তা প্রায় সবারই জানা। মধু কে বলা হয় ঔষধের ঔষধ। পাকস্থলিকে শক্তিশালী করতেও মধু অত্যন্ত কার্যকরী। এছাড়াও খাবারে অরুচি, হেয়ার কন্ডিশনার ও মাউথ ওয়াশ হিসেবে মধুর উপকারিতা আপরিশীম।

ইবনে মাজাহ শরীফে এসেছে যে, “হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের দুটি ঔষধ রয়েছে; একটি মধু এবং অন্যটি আল কুরআন”।

 

মাশরুম

internet

internet

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, "মাশরুম হলো মান্নার অন্তর্ভুক্ত যা বনি ঈসরাইলের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলো এবং এর পানি চোখের জন্য প্রতিষেধক।"(ইবনে মাজাহ,মুসলিম শরীফ)

তিন ধরণের মাশরুম পাওয়া যায়।

(i ) ব্ল্যাক মাশরুম – এটি মূলত বিষাক্ত।

(ii) অফ-হোয়াইট মাশরুম – এধরণের মাশরুমের কথা বলা হয়নি।

(iii) হোয়াইট মাশরুম – এই ধরণের মাশরুম চোখের প্রতিষেধক।

এটা বার্থ কন্ট্রোলে সহায়ক ও মাশরুমের ভেষজগুণের কারণে এটা নার্ভ শক্ত করতে সহায়তা করে এবং শরীরের প্যারালাইসিস বা অকেজো হওয়ার প্রক্রিয়া রোধ করে।

 

আঙ্গুর

internet

internet

আঙ্গুর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর খুব পছন্দের ছিলো।

এটি রক্ত বিশুদ্ধকরণে অত্যন্ত উপকারী একটি ফল। পাশাপাশি এটি শরীরে শক্তি যোগাতেও সাহায্য করে এবং কিডনীর জন্যেও উপকারী।

 

খেজুর

internet

internet

হযরত সাদ রা. থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি সকালে মদীনার ৭ টি খেজুর খাবে, ঐ দিন তাকে কোন বিষ বা যাদু-টোনা ক্ষতি করতে পারবে না”।

মুসলিম শরীফের আরেকটি হাদীসে এসেছে যে  হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)  বলতেন, “যে ঘরে খেজুর আছে সে পরিবার কখনো অভুক্ত নয়”।

এমনকি প্রিয়নবী (সা.) সন্তান প্রসবের পর প্রসূতি মাকে খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর তাহনিক করার ক্ষেত্রেও রাসুল [সা.] খেজুর ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। খেজুরের খাদ্যশক্তি ও খনিজ লবণের উপাদান শরীর সতেজ রাখে।

 

ডুমুর ফল

internet

internet

ডুমুর হচ্ছে জান্নাতের ফল।

ডুমুর ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যশক্তি, ভিটামিন এ, বি, শর্করা, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও আয়রন। ওজন কমাতে ও ক্যান্সার প্রতিরোধে ডুমুর অত্যন্ত উপকারী। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে, হাড় বৃদ্ধিতে, পেটের সমস্যা দূ্রীকরণ সহ আরো নানান সমস্যার সমাধানের জন্য ডুমুর খুবই উপকারী একটি ফল।

 

বার্লি

internet

internet

জ্বরের সময় বার্লির স্যুপ অত্যন্ত উপকারী। অসুস্থ অবস্থায়, মূলত জ্বর হলে রাসুল [সা.] এই খাবারটি বেশি গ্রহণ করতেন বলে জানা যায়। সাহাবারা বিভিন্ন খাবার তৈরীতে বার্লি বা যবের ব্যবহার করতেন।

 

ডালিম ফল

internet

internet

প্রিয়নবী (সা.) বলেছেন, ডালিম-বেদানা আহারকারীদের শয়তান ও মন্দ চিন্তা থেকে বিরত রাখে। এই ফলের উপকারিতাও অনেক।ডালিম রক্ত পরিশুদ্ধ করে, শরীরকে সজীব করে ও পাকস্থলী পরিষ্কার রাখে। এছাড়াও গলা ও ত্বক পরিষ্কার করা সহ নানাভাবে এটি আমাদের জন্য উপকার করে।

 

পানি

internet

internet

আমরা সবাই জানি পানির অপর নাম জীবন। প্রিয়নবী (সা.) পানিকে পৃথিবীর সেরা পানীয় হিসাবে উল্লেখ করেছেন। পানির ভেষজগুণ অপরিসীম। বর্তমানে ডাক্তাররা সৌন্দর্য চর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রচুর পানি পান করার পারামর্শ দেন।

 

তরমুজ

internet

internet

প্রিয়নবী (সা.) তরমুজ খাওয়াকে খুবই গুরুত্ব দিতেন। নিজেও পর্যাপ্ত পরিমাণে তরমুজ খেতেন। সব ধরনের তরমুজ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। যেসব গর্ভবর্তী মায়েরা তরমুজ আহার করেন তাদের সন্তান প্রসব সহজ হয়। তরমুজের পুষ্টি, খাদ্য ও ভেষজগুণ এখন সর্বজনবিদিত ও বৈজ্ঞানিক সত্য।

 

ভিনেগার

internet

internet

ভিনেগারের ভেষজ গুণ ও খাদ্যগুণ অপরিসীম। প্রিয়নবী (সা.) অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ভিনেগার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ভিনেগার খেলে শরীরের রক্ত প্রবাহ সচল থাকে এবং রক্তে অক্সিজেন প্রবাহ বাড়ে। এ ছাড়াও ভিনেগার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্লান্তি দূর করা এবং শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যাবলীকে সচল রাখে।  ভিনেগার হজমে সহায়তা করে। 

বর্তমানে বিশ্বের বড় বড় নামি-দামি রেস্টুরেন্টে বিশেষ করে এলিট ইটালিয়ান রেস্টুরেন্টে অ্লিভ অয়েল ও ভিনেগার এক সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়।

 

জলপাই তেল/অলিভ ওয়েল

internet

internet

অলিভ অয়েলের খাদ্য ও পুষ্টিগুণ অনেক। গবেষণায় দেখা গেছে অলিভ অয়েল ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী এবং বয়স ধরে রাখতে সাহায্য করে। জলপাই তেলে সর্বাধিক পরিমাণে রয়েছে MUFAs  ফ্যাট যা আমাদের রক্তচাপ, স্ট্রোক, হার্টের রোগ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। অলিভ অয়েলে থাকা স্কোয়ালেন এবং টেরপেনয়েড নামক দুটি যৌগ ক্যান্সার প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

আমাদের আয়োজন কেমন লেগেছে তা কমেন্টে জানান এবং আমাদের মাধ্যমে কিছু শেয়ার করতে চাইলে তা আমাদের পেইজের ইনবক্সে জানাতে পারেন। সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।



জনপ্রিয়