গ্যারেজ থেকে যাত্রা শুরু করে যে প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে বিশ্ববিখ্যাত !!   গ্যারেজ থেকে যাত্রা শুরু করে যে প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে বিশ্ববিখ্যাত !!

গ্যারেজ থেকে যাত্রা শুরু করে যে প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে বিশ্ববিখ্যাত !!

কেউ যখন অল্প পুঁজিতে একটি ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করেন তখন এর জন্য বড়সড় অফিস বা যায়গার ব্যবস্থা করাটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তেমনটা ঘটেছিলো পৃথিবী দাপিয়ে বেড়ানো এই বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও। আজকে আমরা এমন কিছু বিশ্ব সেরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম আপনাদের সামনে তুলে ধরছি, যেগুলোর যাত্রা শুরু হয়েছিলো গ্যারেজে। তাঁদের সফলতার গল্প আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে একজন ক্ষুদ্র উদ্দোক্তা হতে। আসুন প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম জেনে নিই-

আমাজন

internet

internet


১৯৯৪ সালে ইন্টারনেট যুগ শুরু হওয়ার সময় জেফ বেজোস তার নিজস্ব অনলাইন বুকস্টোর প্রতিষ্ঠা করেন এবং একটি অনলাইন বইয়ের দোকান হিসেবে আমাজন.কমের কার্যক্রম শুরু করেন। সেই সময়ে তাঁর প্রধান অফিসটি তাঁর গ্যারেজেই অবস্থিত ছিল এবং একটি পুরানো দরজাকে ডেস্ক বানিয়ে ব্যবহার করতেন। বর্তমানে আমাজন বিশ্বের বৃহত্তম অনলাইন রিটেইলার বা ইন্টেরনেট ভিত্তিক বিক্রয় প্রতিষ্ঠান। এটির প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস বর্তমানে ব্লু অরিজিন নামক একটি রকেট নির্মান কোম্পানির মালিক।

 

অ্যাপল

internet

internet

স্টিভ জবস এবং স্টিভ ওজনিয়াক অ্যাপল কম্পিউটারের কার্যক্রম জবসের পারিবারিক গ্যারেজে শুরু করেন। ১৯৭৬ সালে স্টিফেন ওজনিয়াক তার উচ্চ মাধ্যমিকের সহপাঠি স্টিভেন পল জবস কে সাথে নিয়ে অ্যাপল কম্পিউটার প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৭ সালে অ্যাপল তার নতুন সদর দপ্তরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। যা চার তলা বিশিষ্ট ১৩,০০০ কর্মীর জন্য ২.৮ মিলিয়ন বর্গ ফুট এলাকার মধ্যে নির্মিত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর কমপ্লেক্স।

 

ডিজনি

internet

internet


রয় এবং ওয়াল্ট ডিজনি তাদের প্রথম অ্যানিমিটেড চলচ্চিত্রটি চিত্রায়িত করেন তাদের আংকেলের একটি গাড়ির গ্যারেজে। বর্তমানে, ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানি বিশ্বের সর্বোচ্চ উপার্জনকারী মিডিয়া এবং বর্তমানে হলিউডের অন্যতম বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। তাছাড়া এই কোম্পানি থিম পার্ক এবং টিভি চ্যানেলেরও মালিক। এই সংস্থাটি প্রথমে মিকি মাউস নামের জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্রের সৃষ্টি করে যা আগে তাদের লোগো ছিল।

 

হিউলেট প্যাকার্ড (HP) 

internet

internet

হিউলেট প্যাকার্ড বা HP একটি আমেরিকান ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এটি মূলত কম্পিউটার, কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান । এই কোম্পানি প্রথমে মাত্র $৫৩৮ ডলারের প্রাথমিক বিনিয়োগ করে প্যাকার্ডের গ্যারেজের কিছু পরিমাপের সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। হিউলেট-প্যাকার্ডের প্রথম গ্রাহকদের মধ্যে একজন ছিল গ্যারেজ থেকেই উঠে আসা ওয়াল্ড ডিজনি। বর্তমানে, হিউলেট প্যাকার্ড বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কম্পিউটার এবং কম্পিউটার সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক কোম্পানির মধ্যে একটি।

 

গুগল

internet

internet

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার্চ ইঞ্জিন প্রথমে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ল্যারি পেইজ এবং সের্গেই ব্রিনের একটি গবেষণার প্রকল্প ছিল। ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি গ্যারেজ ভাড়া নিয়েই গুগল এর পথচলার শুরু। গুগলের মূলমন্ত্র হল, “বিশ্বের সকল তথ্য একত্রিত করে তাকে সবার জন্য সহজলভ্য করে দেয়া”। বর্তমানে, গুগল বৈজ্ঞানিক কাজের এবং উদীয়মান প্রযুক্তির অনেকগুলো ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব করে।

 

হার্লি ডেভিডসন

internet

internet

উইলিয়াম এস হার্লি এবং তার শৈশবের বন্ধু আর্থার ডেভিডসন প্রথমে একটি কাঠের চালার মধ্যে তাদের ব্যবহৃত বাইসাইকেল নিয়ে পরীক্ষা চালান। তারা একটি সাধারণ বাইসাইকেলে একটি ক্ষুদ্র ইঞ্জিন সংযুক্ত করার চেষ্টা করেন। এইভাবে তাদের প্রথম মোটর সাইকেল নিয়ে আবির্ভূত হন। এই তরুণ উদ্যোক্তারা বিশ্বাস করতেন যে, তাদের পণ্যটি বিশ্বের সবচেয়ে আইকনিক মোটরসাইকেল হয়ে উঠবে। বর্তমানে, বিশ্বব্যাপী মোটরসাইকেল প্রেমীদের কাছে হার্লি ডেভিডসনের মোটরসাইকেল একটি স্বপ্নের নাম।

 

দ্যা বিটলস

internet

internet

ক্যারিমেন, জন লেননের প্রতিষ্ঠিত প্রথম রক ব্যান্ড যারা প্রথম অবস্থায় একটি গাড়ির গ্যারেজে রিহার্সেল করতো এবং ছোট পাবলিক ইভেন্টগুলোতে লাইভ পারফরমেন্স করতো। বিটলস জনপ্রিয় ধারার সঙ্গীতের ইতিহাসে সমালোচক ও শ্রোতা সব দিক থেকেই শীর্ষ স্থানীয় ব্যান্ড দল ছিল। ১৯৬০ এর দশকের মধ্যভাগে বিটল্‌স অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৬৯ এ বিটল্‌স ভেঙ্গে যায়, কিন্তু তা সত্ত্বেও সারা পৃথিবীতে বিটল্‌স এখন পর্যন্ত জনপ্রিয়।

 

মাইক্রোসফট

internet

internet

সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবং পল অ্যালেনসহ মাত্র তিনজন কর্মীর সমন্বয়ে নিউ মেক্সিকোর একটি ছোট্ট গ্যারেজে মাইক্রোসফট কোম্পানির যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে, এই বিখ্যাত মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ১২০,০০০ এরও বেশী কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। বিল গেটস মার্কিন ওয়েলথ এর তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছেন এবং তিনি বেশ কয়েকবার ফোর্বসে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির তালিকায় নিযুক্ত স্থান করে নিয়েছেন।

 

প্যাটাগোনিয়া

internet

internet

১৪ বছর বয়স থেকেই ইয়ুভন চুইনার্ড পর্বতারোহণ করার জন্য পাগল ছিলেন। তার পরিবার তাঁর প্রয়োজনীয় উপকরণ বা যন্ত্রপাতি কিনে দিতে পারছিলেন না। তাই তিনি তার অভিভাবকের গ্যারেজটিকে একটি ছোটো খাটো কারখানায় পরিণত করেন যেখানে তিনি তার নিজের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি তৈরি করতে শুরু করেন। চল্লিশ বছর পর তার কোম্পানি প্যাটাগোনিয়া এখন সারা বিশ্বের গ্রাহকদের জন্য উচ্চ মানের সরঞ্জাম তৈরি করছে।

 

নাইকি

internet

internet

একজন ক্রিড়াবিষয়ক ছাত্র এবং তার কোচ রিবন স্পোর্টসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা একটি ছোট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন যা প্রাথমিকভাবে একটি জাপানি জুতা কোম্পানির জন্য পরিবেশক হিসেবে কাজ শুরু করে। ব্লু রিবন স্পোর্টস আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭১ সালে নাইকি ইনকর্পোরেশন হয়ে উঠেছিল। বর্তমানে এটি বিশ্বব্যাপী খেলাধুলার সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির একটি।

ম্যাটেল

internet

internet

১৯৪৫ সালে এক দম্পতি একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত করেন যার কাজ ছিলো ফটো ফ্রেম নির্মাণ করা। কয়েক বছর পর সেই দম্পতি তাদের মেয়ে বার্বির জন্ম হওয়ার পর একটি পুতুল উপস্থাপন করেন যার নামও দেয় বারবি। সেই প্রতিষ্ঠানই এখন ম্যাটেল নামে পরিচিত এবং বিশ্বের বৃহত্তম খেলনা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠাঙ্গুলোর মধ্যে একটি।

লোটাস কারস

internet

internet

লোটাস কারস এর প্রতিষ্ঠাতা তাঁর প্রথম রেসিং কার বানানো শুরু করেছিলেন তাঁর পিতামাতার গ্যারেজে । পরে, বানানোর কার্যক্রম তাঁদের পুরানো আস্তাবলের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত, বিশবখ্যাত লোটাস টিম ফর্মুলা ওয়ান ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে সাতবার।

ইয়াঙ্কি মোমবাতি

internet

internet

১৪ বছর বয়সী বালক, যার নাম মাইকেল কিট্রেডেজ, তার পিতামাতার জন্য উপহার হিসাবে গলিত মোম রং থেকে তার প্রথম সুগন্ধি মোমবাতি তৈরি করেছিলেন। প্রতিবেশীরা তা লক্ষ্য করেন এবং তার এই হস্তনির্মিত মোমবাতি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। আজ, ইয়াঙ্কি মোমবাতি কোম্পানি বিশ্বের ৫০ টিরও বেশি দেশে সুগন্ধি মোমবাতি এবং অন্যান্য স্মারক বিক্রি করে। প্রথম ইয়াঙ্কি মোমবাতি দোকান একটি ছোট যাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছে।

আমাদের আয়োজন কেমন লাগলো তা কমেন্টে জানান। আপনাদের তোলা মজার কোনো ছবি আমাদের সাথে শেয়ার করতে চাইলে ইনবক্সে জানাতে পারেন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ এবং ভাবিষ্যতেও সাথেই থাকুন।

 



জনপ্রিয়