ছবিতে ছবিতে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সোনালি দিনগুলো !  ছবিতে ছবিতে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সোনালি দিনগুলো !

ছবিতে ছবিতে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সোনালি দিনগুলো !

কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ ও দার্শনিক যিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। তিনি বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

 

যুবক বয়সে কাজী নজরুল ইসলাম

যুবক বয়সে কাজী নজরুল ইসলাম

 

বাঙালি মনীষার এক তুঙ্গীয় নিদর্শন নজরুল। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ – দুই বাংলাতেই তাঁর কবিতা ও গান সমানভাবে সমাদৃত। তাঁর কবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে বিদ্রোহী কবি নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের পারিবারিক ছবি

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের পারিবারিক ছবি

 

তাঁর কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ।[৪][৫] বিংশ শতাব্দীর বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ এবং সৈনিক হিসেবে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে নজরুল সর্বদাই ছিলেন সোচ্চার।

তারুণ্যে কাজী নজরুল ইসলাম

তারুণ্যে কাজী নজরুল ইসলাম

 

তাঁর কবিতা ও গানে এই মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে। অগ্নিবীণা হাতে তাঁর প্রবেশ, ধূমকেতুর মতো তাঁর প্রকাশ। যেমন লেখাতে বিদ্রোহী, তেমনই জীবনে – কাজেই "বিদ্রোহী কবি", তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে উভয় বাংলাতে প্রতি বৎসর উদযাপিত হয়ে থাকে।

 

পাকিস্তান আমলে ডাকটিকিটে কাজী নজরুল ইসলাম 

 

নজরুল এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রাথমিক শিক্ষা ছিল ধর্মীয়। স্থানীয় এক মসজিদে সম্মানিত মুয়াযযিন হিসেবেও কাজ করেছিলেন। কৈশোরে বিভিন্ন থিয়েটার দলের সাথে কাজ করতে যেয়ে তিনি কবিতা, নাটক এবং সাহিত্য সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন।

গান কম্পজিশন করছে কাজী নজরুল ইসলাম

গান কম্পজিশন করছে কাজী নজরুল ইসলাম

 

১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের শেষদিকে নজরুল সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। প্রথমে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে এবং পরবর্তীতে প্রশিক্ষণের জন্য সীমান্ত প্রদেশের নওশেরায় যান। প্রশিক্ষণ শেষে করাচি সেনানিবাসে সৈনিক জীবন কাটাতে শুরু করেন। তিনি সেনাবাহিনীতে ছিলেন ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের শেষভাগ থেকে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় আড়াই বছর। এই সময়ের মধ্যে তিনি ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাধারণ সৈনিক কর্পোরাল থেকে কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার পর্যন্ত হয়েছিলেন। 

সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর কাজী নজরুল ইসলাম

সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর কাজী নজরুল ইসলাম

 

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কিছুদিন কাজ করার পর তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। এসময় তিনি কলকাতাতেই থাকতেন। এসময় তিনি ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে অবতীর্ণ হন। প্রকাশ করেন বিদ্রোহী এবং ভাঙার গানের মতো কবিতা; ধূমকেতুর মতো সাময়িকী।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'ধুমকেতু' পত্রিকার একটি সংখ্যা পাতা। সাল বঙ্গাব্দ ১৩২৯।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'ধুমকেতু' পত্রিকার একটি সংখ্যা পাতা। সাল বঙ্গাব্দ ১৩২৯।

 

জেলে বন্দী হলে পর লিখেন রাজবন্দীর জবানবন্দী, এই সব সাহিত্যকর্মে সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা ছিল সুস্পষ্ট। ধার্মিক মুসলিম সমাজ এবং অবহেলিত ভারতীয় জনগণের সাথে তার বিশেষ সম্পর্ক ছিল। তার সাহিত্যকর্মে প্রাধান্য পেয়েছে ভালোবাসা, মুক্তি এবং বিদ্রোহ। ধর্মীয় লিঙ্গভেদের বিরুদ্ধেও তিনি লিখেছেন। ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক লিখলেও তিনি মূলত কবি হিসেবেই বেশি পরিচিত।

ভালোবাসার মানুষের সাথে কাজী নজরুল ইসলাম

ভালোবাসার মানুষের সাথে কাজী নজরুল ইসলাম

 

বাংলা কাব্যে তিনি এক নতুন ধারার জন্ম দেন। এটি হল ইসলামী সঙ্গীত তথা গজল, এর পাশাপাশি তিনি অনেক উৎকৃষ্ট শ্যামা সংগীত ও হিন্দু ভক্তিগীতিও রচনা করেন।

পরিবারের সাথে কাজী নজরুল ইসলাম

পরিবারের সাথে কাজী নজরুল ইসলাম

 

নজরুল প্রায় ৩০০০ গান রচনা এবং অধিকাংশে সুরারোপ করেছেন যেগুলো এখন নজরুল সঙ্গীত বা "নজরুল গীতি" নামে পরিচিত এবং বিশেষ জনপ্রিয়। মধ্যবয়সে তিনি পিক্‌স ডিজিজে আক্রান্ত হন। এর ফলে আমৃত্যু তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। একই সাথে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল এর সাথে অসুস্থ প্রমীলা দেবীর শেষ ছবি

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল এর সাথে অসুস্থ প্রমীলা দেবীর শেষ ছবি

 

বর্ণাঢ্য জীবনে কত কিছুই না করেছেন নজরুল। কলকাতাই ছিল মূলত তাঁর কর্মস্থল। তবে কর্মক্ষম থাকা অবস্থায় তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফরিদপুর, বরিশাল, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালী, কুষ্টিয়া, সিলেটে এসেছেন। ১৯৪২ সালের শেষের দিকে কবির অসুস্থতা ধরা পড়ে। সে অসুস্থতা আর কাটেনি। সেভাবেই তিনি ছিলেন কলকাতায়। অবশেষে তিনি এলেন বাংলাদেশে।

 

১৯৭২ সালের ২৪ মে অসুস্থ কবি দেখলেন স্বাধীন বাংলাদেশকে। কবির সঙ্গে ছিল কবির পুরো পরিবার। বড় ছেলে কাজী সব্যসাচী ও তাঁর স্ত্রী উমা কাজী, ছোট ছেলে কাজী অনিরুদ্ধ ও তাঁর স্ত্রী কল্যাণী কাজী এবং তাঁদের সন্তানেরা এসেছিলেন কবির সঙ্গে। কবির ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডি কে রায়ও এসেছিলেন সঙ্গে।

কবি কাজী নজরুল ইসলামের দুই পুত্র কাজী অনিরুদ্ধ ও কাজী সব্যসাচী বঙ্গবন্ধুর সাথে

কবি কাজী নজরুল ইসলামের দুই পুত্র কাজী অনিরুদ্ধ ও কাজী সব্যসাচী বঙ্গবন্ধুর সাথে

 

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় কবি নজরুলকে স্যুভেনির দেওয়ার একটি মুহূর্ত।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় কবি নজরুলকে স্যুভেনির দেওয়ার একটি মুহূর্ত।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় কবি নজরুলকে স্যুভেনির দেওয়ার একটি মুহূর্ত।

 

পল্লীকবি জসিম উদ্দিনের সাথে কাজী নজরুল ইসলামের একটি দূর্লভ ছবি

পল্লীকবি জসিম উদ্দিনের সাথে কাজী নজরুল ইসলামের একটি দূর্লভ ছবি

পল্লীকবি জসিম উদ্দিনের সাথে কাজী নজরুল ইসলামের একটি দূর্লভ ছবি

 

১৯৭৫ সালের ২৩ জুলাই কবিকে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (এখন যা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি করা হয়। তিনি ছিলেন ১১৭ নম্বর কেবিনে। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি মারা যান।

 

জীবনের শেষ সময়ে কাজী নজরুল ইসলাম 


 

কোন ছবিটি আপনার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আপনার সংগ্রহে যদি এমন ছবি থাকে তাহলে তথ্য সহ মূল ছবিটি পাঠাতে পারেন, পরবর্তিতে আমরা আপনার তোলা ছবি সবার সাথে শেয়ার করব। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ



জনপ্রিয়