ধনী ব্যক্তি গণপরিবহণে যাতায়াত করেন, অন্যদিকে অল্প আয়ের লোক মাস্তি করে টাকা উড়ায়!  ধনী ব্যক্তি গণপরিবহণে যাতায়াত করেন, অন্যদিকে অল্প আয়ের লোক মাস্তি করে টাকা উড়ায়!

অভাবী মানুষেরা ধারকর্জ করে হলেও এই কাজগুলো করেন যা ধনীরা কখনোই করে না!

আপনি আপনার ঋণ পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন এবং এর জন্য কিছু অর্থ সঞ্চয় করতে শুরু করেছেন, কিন্তু যদি এখান থেকে কোন কিছুই পরিবর্তন না হয়? সম্ভবত ব্যয়ের ক্ষেত্রে নিজের আচরণ পরিবর্তন করার কিংবা পুনর্বিবেচনা করার এটাই উপযুক্ত সময়! প্রসঙ্গক্রমে, যে সকল মানুষ ব্যবসা এবং বিনিয়োগে প্রকৃত সফলতা অর্জন করেছে এবং যারা কোটি কোটি টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হয়েছে তারা সত্যিকার অর্থেই তাদের ক্রয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত প্রায়োগিক! আপনার হয়তো মনে হতে পারে যে ধনী লোকেরা অর্থ খরচ করতে ভালোবাসেন। কিন্তু বাস্তবে এই ধারণাটা একদমই অসত্য ভিত্তিহীন।চলুন দেখা যাক, ধনী লোকেরা কোন বিষয়গুলো বর্জন করে যা অভাবীরা পাওয়ার জন্য গলা পরিমাণ ঋণ করে! 

অনর্থক পরিকল্পনাবিহীন কেনাকাটা

 © Depositphotos   © padme_note / Instagram

© Depositphotos © padme_note / Instagram

একটা জিনিস আমাদের সবার সাথেই ঘটে: আমরা কিছু চমৎকার তবে অনর্থক জিনিস মূল্য হ্রাসে বিক্রি হতে দেখি! আমরা সেগুলো কিনে ফেলি এবং বাড়ি এসে আমাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রচন্ড হায় হুতাশ করি! আমরা অনর্থক কিছু জিনিসের পেছনে অর্থ ব্যয় করি যা আমাদেরকে ধনী লোকদের কাছ থেকে একদমই আলাদা করে, যাদের কাছে বাড়তি এক জোড়া জুতো কিংবা প্যান্ট কেনার ধরতে গেলে কোন প্রয়োজনই মনে হয় না! ওয়ারেন বাফেট এর কথা আমরা সবাই জানি। তিনি শীর্ষ ধনীদের মধ্যে অন্যতম।

তিনি একবার বলেছিলেন, " যদি তুমি কোন জিনিস কেন, যা আসলে তোমার কেনার প্রয়োজন ছিল না! শীঘ্রই তোমাকে তোমার প্রয়োজনের জিনিস গুলো কে বেঁচে দিতে হবে!" অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়ানোর জন্য সবচেয়ে কার্যকরী পথ হচ্ছে দোকানে বা স্টোরে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় জিনিস গুলোর লিস্ট করে বা তালিকা করে নিয়ে যাওয়া!

ব্যয়বহুল রিয়েল এস্টেট বা ভূসম্পত্তি

© Google Maps

© Google Maps

 

সস্তায় বিলাসবহুল কোন বাড়ি দালান কে না সত্যিকার অর্থেই এক ধরনের অনিশ্চিত বিনিয়োগ! এজন্যই ধনী লোকেরা সাধারনত ভবিষ্যতে দাম বাড়বে এমন ধরনের সম্ভাবনাপূর্ণ স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করে থাকেন অথচ এ ধরনের কাজটাও তারা সস্তায় করে থাকেন যা পরবর্তীতে মোটা অঙ্কের মুনাফা নিয়ে আসে!

বর্ধিত ওয়ারেন্টি

© Depositphotos

© Depositphotos

 

সীমিত আয়ের এর লোকেরা সাধারণত বর্ধিত ওয়ারেন্টি রয়েছে এমন ধরনের সরঞ্জাম কিনতে পছন্দ করেন। এরা সাধারণত সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার ভয়ে বেশি দাম দিয়ে হলেও বেশিদিন ওয়ারেন্টি দেয়া জিনিস ক্রয় করেন! অথচ এটার কোনো প্রয়োজন নেই বললেই চলে! বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্মাতারা যে সকল সরঞ্জাম বাজারে ছাড়েন সেগুলো তাদের মেয়াদের চেয়েও বেশি দিন টেকে!

নামিদামি ব্র্যান্ডের কাপড়-চোপড় এবং জুতা

© East News   © East News

© East News © East News

ধনী লোকেরা অত্যন্ত নামিদামি ব্র্যান্ডের তৈরি বিলাসবহুল এবং দামী কাপড় চোপড় চাইলেই কিনতে পারেন। যাইহোক যদি তাঁদের ঘনঘন সামাজিক কোন অনুষ্ঠান এর সাথে যুক্ত থাকতে না হয়, সে ক্ষেত্রে তারা এ ধরনের ক্রয় কখনোই করেন না! একটু স্মরণ করে দেখুন, স্টিভ জবস কি ধরনের জামা কাপড় পরতো?

বিল গেটসের হাতঘড়ির দাম মাত্র ১০ ডলার বা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং রাশিয়ান ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচ যে কোন নামীদামী অনুষ্ঠান এ একদমই কম দামে টি-শার্ট পরে উপস্থিত হতে কখনোই কুন্ঠিত বোধ করেন না! এমনকি রাজপরিবারের সদস্য হয়েও দুই থেকে তিন হাজার টাকার জামা পড়ে হাঁটাহাঁটি করতে তাঁদের কোনো সমস্যা হয় না!

জনপ্রিয় গেজেট গুলোর সর্বশেষ সংস্করণ বা লেটেস্ট ভার্সন

© East News

© East News

একজন ধনী মানুষ কখনই নিজের ব্যবহার করা স্মার্ট ফোন অথবা ঘড়ি পুরনো হয়ে গেছে ভেবে কোন স্মার্টফোন কিংবা ঘড়ির লেটেস্ট মডেল কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন না! ধনকুবেররা কোন ধরনের ক্রয় করার আগে বারবার চিন্তা করেন, এবং নিজেদেরকে প্রশ্ন করেন যে এই ব্যয় কি নির্দিষ্ট এই মুহুর্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

ঋণ, ফিস এবং দেরিতে পরিশোধের জন্য অর্থদণ্ড

© Depositphotos

© Depositphotos

 

ধনী রোগীরা কখনোই ঋণ নেন না এবং জরিমানার পিছনে অর্থ খরচ করেন না! এর পিছনে একটি সহজ কারণ রয়েছে আর তা হচ্ছে তারা সবকিছুই যথাসময়ে পরিশোধ করেন পাশাপাশি সময়ক্ষেপন করেন না। একজন ধনী বিনিয়োগকারী মার্ক কুবান বলেছেন, " যদি আপনি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন, আপনার ধনী হওয়ার দরকার নেই! "

বাচ্চাদের জন্য প্রচুর পরিমাণে সৌখিন খেলনা ক্রয় করা

© joy.in.organizing / Instagram   © marta_wojtysiak / Instagram

© joy.in.organizing / Instagram © marta_wojtysiak / Instagram

 

গড় আয়ের লোকেরা সাধারনত বাচ্চাদেরকে খুশি করার চিন্তা করে অনর্থক অসংখ্য সৌখিন খেলনা কিনে থাকে! একবার চিন্তা করে দেখুন ধনকুবেররা যদি চায়, তাদের বাচ্চাদের খেলনার পাহাড় কিনে দিতে পারে! যদি কখনই তারা এটা করে না! তারা সবসময় চেষ্টা করেন সন্তানদের পরিমিত স্বভাবের তৈরি করতে, এজন্যই তারা হুটহাট সন্তানদের পেছনে অনর্থক অর্থ খরচ করেন না!

জাঙ্ক ফুড

© Pixabay   © pp_tasya_xydeu / Instagram

© Pixabay © pp_tasya_xydeu / Instagram

অনেকেই মনে করেন যে, ধনী লোকেরা স্বাধীনতা সব সময় ফাস্টফুড জাংক ফুড গ্রহণে অভ্যস্ত, এবং প্রচুর পরিমাণে অর্থ তারা এর সকল খাদ্যের পেছনে ব্যয় করেন! কিন্তু বাস্তবে মধ্য আয়ের লোকেরাই নিজেদের ক্লাস এবং স্টেটাস বোঝানোর জন্য বিভিন্ন জায়গায় লোক দেখানোর জন্য এ ধরনের খাদ্য গ্রহণ করে! এতে অর্থের যেমন অপব্যয় হয় তেমনি শরীরের ক্ষতি হয়! অন্যদিকে ধনী ব্যক্তিরা স্বাভাবিক খাদ্যই সচরাচর গ্রহণ করতে ভালোবাসেন!

লোকদেখানো খরচ

© tomhanksworld / Instagram   © Depositphotos

© tomhanksworld / Instagram © Depositphotos

যে মানুষগুলো তাদের যা আছে তার চেয়েও বেশি দেখাতে চান, তারা সাধারণত দামি বিভিন্ন দ্রব্যাদির পেছনে অর্থ খরচ করেন। বিমানের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী হওয়ার চেষ্টা করেন! যারা সত্যিকার অর্থেই সফল এবং বৃত্তবান তারা কখনোই এ ধরনের কাজ করেন না! অর্থ সঞ্চয় এর উদ্দেশ্যে তারা গণ পরিবহন ও যাতায়াত করতে লজ্জাবোধ করেন না!

বাচ্চাদের জন্য বাড়তি শিক্ষা

© Depositphotos   © Depositphotos

© Depositphotos © Depositphotos

গড় আয়ের মানুষগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের সন্তানদের জন্য অনেক গৃহ শিক্ষক এর ব্যবস্থা করেন! তারা মনে করেন যে এরকম করলে তাদের সন্তানের সুপ্ত প্রতিভা উন্মোচন করা সম্ভব, ফলশ্রুতিতে তাদের সন্তান সুখী এবং সমৃদ্ধ জীবন যাপন করতে সক্ষম হবে! অন্যদিকে ধনী লোকেরা খুব ভালো করেই জানেন যে, এক গাদা শিক্ষক স্থাপন করে সন্তানের মানসিক ভারসাম্য ঠিক তো থাকবেই না, এবং তার সুপ্ত প্রতিভা চিরতরে সুপ্ত হয়ে যাবে। পাশাপাশি তারা তাদের শৈশব উপভোগ থেকে বঞ্চিত হবে!

ট্রেন্ডি এবং নতুন ইন্টেরিওর সরঞ্জাম! 

© fabulousandbaroque / Instagram   © archstyleofls / Instagram

© fabulousandbaroque / Instagram © archstyleofls / Instagram

নতুন ধরনের আসবাবপত্র এবং অভ্যন্তর সজ্জা দোকানগুলিতে প্রতি মাসেই নতুন নতুন ডিজাইন প্রদর্শিত হয়। ফলস্বরূপ, মধ্যবিত্তরা বাড়ির সাজসজ্জার সর্বশেষ ট্রেন্ড অনুসরণ করার চেষ্টা করে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। দুর্ভাগ্যবশত, এই ধরণের আসবাবপত্র বা গৃহ সজ্জার সরঞ্জাম মাত্র কয়েক বছর সময়ের মধ্যেই পুরানো হয়ে যায়। এজন্য সব কিছু পুনর্বিন্যাসের সময় এখনই। কিন্তু আপনি এটি করার আগে, ধনী মানুষের বাড়ির অভ্যন্তরের কয়েকটি ছবি অধ্যয়ন করতে ভুলবেন না! প্রায়শই, সফল ব্যক্তিদের ঘরের দিকে তাকালে, আপনি অনুমানই করতে পারেন না যে মালিকদের বয়স আসলে কত? রঙ করা দেয়াল, সাদা সাধারণ সিলিং, এবং কাঠের বা টাইলসের মেঝে: আসলে ধনীরা চিরনতুন, শতাব্দীর পরীক্ষিত বিষয়গুলোই মেনে চলে! তাঁরা এমন আসবাবপত্রই ব্যবহার করেন যা সময় গেলেও পুরোনো হয় না, সব সময়ের সাথেই সমান উপযোগী!

একজন মানুষের পক্ষে তার ব্যয়বহুল অভ্যাস পরিবর্তন করা সহজ কাজ নয়: আপনার জীবনধারাটি পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং আপনার এই স্বভাব বদলানোর প্রয়াস থাকতে হবে! যদি আপনি ধনী হতে চান, উপরোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখবেন! আজকের আয়োজনের কোণ দিকটি আপনার কাছে কার্যকরি মনে হয়েছে তা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না! আপনারা কি আমাদের সাথে একমত? নিত্য নতুন কিছু জানতে আমাদের সাথেই থাকুন....    



জনপ্রিয়