অতীতের সোনালি দিনগুলো যা আপনি আগে কখনো দেখেন নি !     অতীতের সোনালি দিনগুলো যা আপনি আগে কখনো দেখেন নি !

রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের অতীতের সোনালি দিনগুলো যা আপনি আগে কখনো দেখেন নি

আমরা মাঝে মাঝেই বলে থাকি অতীতের সময়গুলোই ভাল ছিল, জীবন তখন অনেক সুখের ছিল। এখন জীবন যাত্রার মান যতই উন্নত হোক না কেন আমাদের মন থেকে এই আফসোস কখনই যায় না। আমরা হয়তো অতীতে ফিরে যেতে পারবো না কিন্তু কিছু ছবি মাঝে মাঝে সেই স্মৃতিগুলো ফিরিয়ে আনে। আজকের ছবিগুলোর বেশীর ভাগ মিজানুর রহামান টিপুর এ্যালবাম থেকে নেওয়া, ছবি গুলো তিনি সংগ্রহ করেছেন বলেই আমরা আপনাদের দেখাতে পারছি 

আমরা হয়তো নিজেরা সশরীরে অতীতে ফিরে যেতে না পারলেও কিন্তু এই ছবিগুলো আপনাকে অতীতের সোনালি দিনগুলো এক ঝলক দেখিয়ে আনবে!

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যুবক বয়সের ছবি।

 

যুবক বয়সে কাজী নজরুল ইসলাম 

 

সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর কাজী নজরুল ইসলাম 

 

 

তারুণ্যে কাজী নজরুল ইসলাম

 

গান কম্পজিশন করছে কাজী নজরুল ইসলাম 

 

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের পারিবারিক ছবি। ছবিটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে অবস্থিত কবির গৃহ 'লাবণ্য ভিলা' য় তোলা হয়। ছবিতে কবি তার প্রথম সন্তান বুলবুলকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ডান দিকের চেয়ারে বসে আছেন কবি পত্মী প্রমীলা দেবী। বাঁ দিকের চেয়ারে বসে আছেন কবির শ্বাশুড়ি গিরিবালা দেবী এবং তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছেন কবিপুত্রের ধাত্রী।

 

কবি কাজী নজরুল ইসলামের দুই পুত্র কাজী অনিরুদ্ধ ও কাজী সব্যসাচী বঙ্গবন্ধুর সাথে

 

নিজের সন্তান এবং পুত্রবধূর সাথে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি দূর্লভ ছবি। ছবিতে বাঁ দিক থেকে ডান দিকে বসে আছেন- কন্যা মীরা, পুত্র রথীন্দ্রনাথ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ, পুত্রবধূ প্রতিমা এবং কন্যা বেলা। 

 

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'ধুমকেতু' পত্রিকার একটি সংখ্যা পাতা। সাল বঙ্গাব্দ ১৩২৯।

 

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল এর সাথে অসুস্থ প্রমীলা দেবীর শেষ ছবি 

 

জাপান মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তৎকালীন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মাঝে রবীন্দ্রনাথ।

জাপান মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তৎকালীন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মাঝে রবীন্দ্রনাথ।

পৃথিবীর অন্য যেকোনো জাতির চেয়ে জাপানিরা যেভাবে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে মাতামাতি করেছেন সেটা নিঃসন্দেহে আমাদের মনে বিস্ময়ের উদ্রেক করে! বিপুল প্রকাশনা তাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত হয়েছে বিগত শতবর্ষে এবং আজও অব্যাহত। এমন বিরল ঘটনা রবীন্দ্রনাথের জন্মস্থান ভারতবর্ষেও পরিলক্ষিত হয় না।

জাপান মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তৎকালীন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মাঝে রবীন্দ্রনাথ।

 

১৯১৭: 'ডাকঘর' নাটকে ফকিরের ভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং

১৯১৭: 'ডাকঘর' নাটকে ফকিরের ভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং

১৯১৭: 'ডাকঘর' নাটকে ফকিরের ভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং

 

টোকিও, জাপানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

 

১৯৩২: এপ্রিল অথবা মে মাসে রবীন্দ্রনাথ (প্রথম সারিতে ডান দিক থেকে তৃতীয়) ইরানি মজলিশের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বছরই রবীন্দ্রনাথ ইরানের বিখ্যাত শিরাজ বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমণ করেছিলেন।

 

১৯২৪: সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, চীনে রবীন্দ্রনাথ

 

১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাবার পর রবীন্দ্রনাথ হয়ে উঠেছিলেন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। ইংরেজি ভাষায় তাঁর জীবনী রচনার কাজ শুরু হয়েছিল ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকেই। সে-সব জীবনী ইংরেজি-ভাষী লেখকেরা লিখেছিলেন, আবার বাঙালি লেখকেরা এবং অ-বাঙালি ভারতীয় লেখকেরাও লিখেছিলেন। কিন্তু ইংরেজি ছাড়া অপর ইউরোপীয় ভাষাগুলিতে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে জীবনী রচনা কারা করেছিলেন? পাওয়া যায় চেকভাষায় রচিত একটি রবীন্দ্রজীবনীগ্রন্থ ! 

চেক গবেষক ভি. লেসনি ও রবীন্দ্রনাথ

চেক গবেষক ভি. লেসনি ও রবীন্দ্রনাথ

 

১৮৮৩: স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ

১৮৮৩: স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ

১৮৮৩: স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ

 

১৯৩১: লন্ডনে এক ভোজসভায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১৯৩১: লন্ডনে এক ভোজসভায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১৯৩১: লন্ডনে এক ভোজসভায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

১৮৮১: 'বাল্মীকি-প্রতিভা' য় অভিনেতা-অভিনেত্রী রবীন্দ্রনাথ ও ইন্দিরা দেবী

১৮৮১: 'বাল্মীকি-প্রতিভা' য় অভিনেতা-অভিনেত্রী রবীন্দ্রনাথ ও ইন্দিরা দেবী

১৮৮১: 'বাল্মীকি-প্রতিভা' য় অভিনেতা-অভিনেত্রী রবীন্দ্রনাথ ও ইন্দিরা দেবী

 

শান্তিনিকেতনের হাসপাতালের রোগীদের সংগে রবীন্দ্রনাথ।

 

 

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় কবি নজরুলকে স্যুভেনির দেওয়ার একটি মুহূর্ত।

 

শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের আতিথেয়তায় মহাত্মা গান্ধী ও তাঁর পত্নী কস্তুরবা গান্ধী, ১৯৪০

পশ্চিমবঙ্গের বোলপুরে ১৮৬৩ ষালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাবা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘শান্তিনিকেতন’ নামে একটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন৷ ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ সেখানে একটি স্কুল চালু করেন, যা পরে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ নেয়৷ বছরের কিছু বিশেষ দিনে, যেমন বসন্ত উৎসব, খ্রীষ্ট উৎসব, পৌষ মেলার সময়ে, দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা সেখানে যান কবিগুরুর বিকল্প শিক্ষাচিন্তার পাশাপাশি রাবিন্দ্রিক পরিবেশে সময় কাটাতে৷

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং তার বড় মেয়ে মাধুরীলতা ও মেঝো মেয়ে রেণুকা। (ছবি -১৮৯০) 

 

পল্লীকবি জসিম উদ্দিনের সাথে কাজী নজরুল ইসলামের একটি দূর্লভ ছবি

 

রবীন্দ্রনাথের বয়স যখন ৭০ বছর এবং সত্যজিতের ১০ বছর বয়স তখন রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা হয় শান্তিনিকেতনের পৌষমেলায়। বালক সত্যজিতের বয়স যখন ১০, তখন পৌষমেলা দেখার জন্য শান্তিনিকেতন গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন মা সুপ্রভা রায়। নতুন অটোগ্রাফের খাতা কেনা হয়েছে। ছোট্ট সত্যজিতের ভীষণ শখ, প্রথম আটোগ্রাফটা নেবেন রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে।

এক সকালে মায়ের সঙ্গে সত্যজিৎ চলে গেলেন উত্তরায়ণে। পারিবারিকভাবে ঠাকুর পরিবার আর রায় পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুন্দর সম্পর্ক ছিল। সত্যজিতের পিতামহ উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী ছিলেন রবীন্দ্রনাথের ঘনিষ্ঠতম বন্ধুদের একজন। আর পিতা সুকুমার রায় ছিলেন বিশ্বকবির পরম স্নেহভাজন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে তোলা বিশ্বকবির কিছু কিছু ছবির ফটোগ্রাফার ছিলেন সুকুমার রায় স্বয়ং।

 

১৯০১,  শান্তিনিকেতনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ

 

১৯২৪ সালে আর্জেন্টিনায় রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর 

 

হাসপাতালে যাওয়ার পথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। জীবিত অবস্থায় এটাই তার শেষ ছবি। 

internet

internet

 

বর্ণাঢ্য জীবনে কত কিছুই না করেছেন নজরুল। কলকাতাই ছিল মূলত তাঁর কর্মস্থল। তবে কর্মক্ষম থাকা অবস্থায় তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফরিদপুর, বরিশাল, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালী, কুষ্টিয়া, সিলেটে এসেছেন। ১৯৪২ সালের শেষের দিকে কবির অসুস্থতা ধরা পড়ে। সে অসুস্থতা আর কাটেনি। সেভাবেই তিনি ছিলেন কলকাতায়। অবশেষে তিনি এলেন বাংলাদেশে।

১৯৭২ সালের ২৪ মে অসুস্থ কবি দেখলেন স্বাধীন বাংলাদেশকে। কবির সঙ্গে ছিল কবির পুরো পরিবার। বড় ছেলে কাজী সব্যসাচী ও তাঁর স্ত্রী উমা কাজী, ছোট ছেলে কাজী অনিরুদ্ধ ও তাঁর স্ত্রী কল্যাণী কাজী এবং তাঁদের সন্তানেরা এসেছিলেন কবির সঙ্গে। কবির ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডি কে রায়ও এসেছিলেন সঙ্গে।

১৯৭৫ সালের ২৩ জুলাই কবিকে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (এখন যা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি করা হয়। তিনি ছিলেন ১১৭ নম্বর কেবিনে। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি মারা যান।

 

কোন ছবিটি আপনার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আপনার সংগ্রহে যদি এমন ছবি থাকে তাহলে তথ্য সহ মূল ছবিটি পাঠাতে পারেন, পরবর্তিতে আমরা আপনার তোলা ছবি সবার সাথে শেয়ার করব। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ



জনপ্রিয়