মরণব্যধি ক্যান্সার থেকে বাঁচতে অবশ্যই এই খাদ্যগুলো আজ থেকেই বর্জন করুন!               মরণব্যধি ক্যান্সার থেকে বাঁচতে অবশ্যই এই খাদ্যগুলো আজ থেকেই বর্জন করুন!

মরণব্যধি ক্যান্সার থেকে বাঁচতে অবশ্যই এই খাদ্যগুলো আজ থেকেই বর্জন করুন!

বর্তমানে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দিন দিন ভীতিজনকভাবে বেড়েই চলেছে! আপনি সেক্ষেত্রে কতটা ঝুঁকিতে রয়েছেন? আপনি হয়ত জানেন যে, স্বাস্থ্যকর খাদ্য বা ডায়েট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আপনার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। কিন্তু সত্যি বলতে গেলে, এটি বলা সহজ  কিন্তু করা কঠিন! ধরুন আপনার বাড়িতে কোন সামাজিক অনুষ্ঠান হচ্ছে সেখানে বেকড ফুড বা শেঁকা খাদ্য অবশ্যই থাকবে! কিন্তু আপনি যদি তা গ্রহণ না করেন তাহলে সেখানে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক, তাই না? যে সকল খাদ্যে কার্সিনোজেনের উপস্থিতি রয়েছে সেগুলো থেকে আপনাকে সরে আসতেই হবে। বলে রাখছি কার্সিনোজেন হচ্ছে সেই উপাদান যা জীবন্ত টিস্যুতে ক্যান্সার তৈরি করে। সুপ্রিয় বন্ধুরা, আমরা চাই আপনারা সকলে সুস্থ্য থাকুন এজন্যই আজকের আয়োজনে আপনাদের সেই ১০ টি খাদ্যের কথা জানাচ্ছি যা আপনার শরীরে ক্যান্সার তৈরি করতে পারে, তাই আজ থেকেই এই খাদ্যগুলো বর্জন করুন! 

১. ডায়েট পথ্য! 

 organicwelcome

organicwelcome

কি অবাক হলেন! ভাবছেন লেখক এইটা কি বলল? বাজারজাত করার সময় যতটা স্বাস্থ্যকর বলা হয় ডায়েট ফুডকে তা ততটাই অস্বাস্থ্যকর আসলে এগুলো ক্যান্সার-সৃষ্টিকারী খাদ্য। দেখুন, প্রস্তুতকারকগণ ডায়েট পথ্যে প্রাকৃতিক ফ্যাট অপসারণ করে তার পরিবর্তে কৃত্রিম চিনি এবং সোডিয়াম যুক্ত করেন। এটি আপনাকে লো ফ্যাট খাদ্য গ্রহণে সাহায্য করে না বরং কার্সিনোজেনসম্পন্ন খাদ্য গ্রহণে উৎসাহিত করে! ওজন কমানোর প্রলোভন দেখিয়ে এ ধরণের খাদ্য বাজারজাত করছে একদল অসাধু ব্যবসায়ি ও কিছু অসাধু পুষ্টিবিদ এক ধরণের ব্যবসা করছেন এই ধরণের খাদ্যের ফাঁদে মানুষকে ফেলে!  

২. সোডা!  

organicwelcome

organicwelcome

হ্যাঁ, সোডাকে জীবন থেকে দূরে সরাতে হবে। এটির কোন পুষ্টিগুণ নেই ধরতে গেলে পুষ্টিগুণ শূন্য একটি কোমল পানীয় তবে এর একটি ক্যানে বা বোতলে যে পরিমাণ চিনির পরিমাণ রয়েছে তা শরীরের সারাদিনে যতখানি চিনির প্রয়োজন তার চেয়েও অনেক বেশি চিনি রয়েছে! সবচাইতে ভয়ঙ্কর হলো সাধারণত সোডায় যে চিনি ব্যবহার করা করা হয় তাতে উচ্চ মাত্রার ফ্রুক্টোজ ভুট্টা সিরাপ থাকে! এই ধরণের চিনি শরীরের পক্ষে প্রক্রিয়াজাত করা অত্যন্ত কঠিন। এটি লিভার বা যকৃতের ওপর প্রচন্ড চাপ তৈরি করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।  

৩. ময়দার তৈরি পরিশোধিত খাদ্য! 

organicwelcome

organicwelcome

ঠিক আছে, এটি মানছি একটি কঠিন কাজ এবং আপনার বিশ্বাস না ও হতে পারে! কিন্তু আমরা বলছি না আপনি সাদা আটা বা ময়দা একদমই পরিহার করুন! ময়দা বা আটার তৈরি প্যাকেটজাত সব ধরণের খাবার যেমন- পাস্তা এবং রুটি কিংবা কেক সত্যি আপনার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। কারন হলো পরিশোধিত সাদা ময়দা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে মূল শস্য থেকে স্বাস্থ্যের প্রতিটি পুষ্টি উপাদান সরিয়ে নেয়া হয় এবং এ ধরণের পণ্য সুন্দর এবং সাদা চকচকে করার জন্য প্রচুর ক্লোরিন গ্যাসের ব্যবহার করা হয়! আপনি হয়তো না ও জেনে থাকতে পারেন? তবে এই উপাদানের কারণে শরীরে ক্যান্সার হওয়ার প্রচণ্ড ঝুঁকি থাকে!  বাসায় আটা ও ময়দার তৈরি খাদ্য গ্রহণে অভ্যস্ত হতে হবে! 

৪. পটেটো চিপস! 

scalding

scalding

অনেকেই হয়ত আঘাত পেয়েছেন! চিপসগুলি অত্যন্ত সুস্বাদু এবং তবে চিপসে ট্রান্স ফ্যাট, লবণ, এবং প্রিজার্ভেটিভ যুক্ত করা হয়, এবং সবচাইতে ভয়ঙ্কর একটি অতি পরিচিত কার্সিনোজেন চিপসে থাকে যা এ্যাক্রাইলামাইড নামে পরিচিত। এই কার্সিনোজেনটি মূলত সেসব ধরণের সকল খাদ্যে উপস্থিত থাকে যেগুলো উচ্চ তাপমাত্রায় প্রস্তুত করা হয় এবং চিপসগুলিতে এই ভয়ানক উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকে যার কারণ অত্যন্ত উত্তপ্ত গরম তেল ব্যবহার করে এগুলো ভাজা হয়। 

৫. হাইড্রোজেনেটেড তেল! 

organicwelcome

organicwelcome

ভেজিটেবল ওয়েল উদ্ভিজ্জ তেল নামটি শুনতে স্বাস্থ্যকর মনে হয় তাই না? কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কখনোই ভেজিটেবল থেকে প্রাকৃতিকভাবে তেলগুলি নিষ্কাশিত করা যায় না এবং এর পরিবর্তে হাইড্রোজেনেশন নামে একটি প্রক্রিয়াতে রাসায়নিকভাবে উৎপাদন হয়। হাইড্রোজেনেটেড তেলগুলি ওমেগা -৬ ফ্যাটি অ্যাসিডে পূর্ণ, যেগুলোর মধ্যে অনেকগুলি ক্যান্সারের ঝুঁকি সম্পর্কিত।বেশিরভাগ বাণিজ্যিকভাবে বেকড পণ্য হাইড্রোজেনেটেড তেল ব্যবহার করে, যেমন স্নেকস। 

৬. মার্গারিন বা কৃত্রিম মাখন   

www.organicwelcome.com

www.organicwelcome.com

একটি ব্যর্থ "সুস্থ" বিকল্পের আরেকটি উদাহরণ, মার্গারিন বা কৃত্তিম মাখন মাখনের চেয়ে অনেক খারাপ। এটি উদ্ভিজ্জ তেল থেকে তৈরি করা হয়, শুধু ট্রান্স ফ্যাট যুক্ত করা হয় এই মাখনে। মার্গারিন আপনার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় কারণ উৎপাদন প্রক্রিয়ার সময় এমন উচ্চ তাপমাত্রায় তেলগুলিকে উত্তপ্ত করে হয় যে বিপজ্জনক রাসায়নিক লাইকিডল এবং ৩-এমসিপিডি উতপাদিত হয়। এজন্যই ক্যান্সার হতে পারে! 

৭. গ্রিলড বা ভাজা মাংস কিংবা সংরক্ষিত লাল মাংস

www.organicwelcome.com

www.organicwelcome.com

লাল মাংস প্রোটিনের একটি অত্যন্ত ভালো উৎস, কিন্তু সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ অনেক বেশি! যখন আপনি লাল মাংস গ্রহণ করবেন, রান্নার ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে! গ্রিল করা মাংসে চমৎকার পোড়ার যেই চিহ্নগুলো আপনি দেখতে পান সেগুলো হচ্ছে ক্যান্সার তৈরিকারক উপাদান এ্যাক্রাইলামাইডের পরিষ্কার চিহ্ন যা মূলত অতি উচ্চ তাপে প্রস্তুত করা খাবারে পাওয়া যায়। কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোড়া মাংস ভক্ষণ এর ফলে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি ৬০% বেড়ে যায়! পাশাপাশি সংরক্ষিত মাংস যেমন বেকন, হট ডগ, লাঞ্চ মিট এরা শরীরের জন্য অনেক ভয়াবহ। এর কারণ হচ্ছে নাইট্রাইট নামক ভয়ানক কার্সিনোজেনিক কেমিক্যাল মাংস দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয় যা আপনার শরীরের জন্য মোটেও ভালো না।

৮. মাইক্রোওয়েভ পপকর্ন

organicwelcome

organicwelcome

মাইক্রোওয়েভ পপকর্ন তৈরি করা খুব সহজ, তবে যে ব্যাগগুলিতে এইগুলো তৈরি করা হয় সেগুলো মারাত্মক বিষাক্ত। সেই ব্যাগগুলোতে PFOA নামক একটি রাসায়নিক থাকে যা ক্যান্সারের কারণ বলে পরিচিত। ভুট্টার কিছু জাত রয়েছে যার উপর সুস্বাদু মাখন যুক্ত করা হয় যা সত্যি বিপজ্জনক।এতে ডায়াসিটিল নামে একটি রাসায়নিক রয়েছে যা নিরাপদ বলা হয় কিন্তু আসলেই নিরাপদ নয়!

৯. টিনজাত বা কোউটাজাত খাবার, বিশেষ করে টমেটো

organicwelcome  

organicwelcome

প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম এ ধরণের সংরক্ষণ পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয় যার কারণে টিনজাত সবজি প্রায়ই তাজা বা হিমায়িত সবজির চেয়ে কম পুষ্টিকর হয়ে থাকে। টিনজাত ফলে উচ্চ মাত্রায় ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপের মধ্যে প্যাক করা হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের তালিকায় টিনজাত খাদ্য অন্তর্ভুক্ত করার কারণ এটা নয়! কিন্তু মূল সমস্যা হলো কৌটাটিতে! কৌটাগুলোতে  বিসফেনল এ, বা BPA নামে একটি রাসায়নিকের উপস্থিতি রয়েছে। বিপিএ নামক রাসায়নিক উপাদানটি হরমোনের ব্যাঘাত ঘটায় যা ক্যান্সারের সাথে যুক্ত! 

১০. চাষের মাছ!

thedailystar.net
বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা মাছ অত্যন্ত অবৈজ্ঞানিকভাবে বড় করা হয়। সেই সঙ্গে চাষের সময় মাছের নানাবিধ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও পরজীবিদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে নানা ধরনের জীবণুরোধকারী ওষুধ, কীটনাশক ও অন্যান্য ‘কারসিনোজেনিক` রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। ফলে এই ধরনের মাছ খেলে শরীরে ওইসব কার্সিনোজেনিক উপাদানের মাত্রাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। 

thedailystar.net

বন্ধুরা, সচেতনতাই পারে আমাদের ক্যান্সার থেকে মুক্ত রাখতে, রেস্তোরায় মুখরোচক অতি ভাজাপোড়া খাবার গ্রহণ না করে বাসায় সেদ্ধ করা খাবার গ্রহণ করা অনেক উত্তম! এই আর্টিকেল নিজের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে সকলকে সচেতন করুন! সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ... 



জনপ্রিয়