অদ্ভুত ও আশ্চর্যজনক জিনিসগুলির আসলে যৌক্তিক ব্যাখ্যা আছে !                 অদ্ভুত ও আশ্চর্যজনক জিনিসগুলির আসলে যৌক্তিক ব্যাখ্যা আছে !

অদ্ভুত ও আশ্চর্যজনক জিনিসগুলির আসলে যৌক্তিক ব্যাখ্যা আছে !

প্রতিদিন গুগোল এ ৫.৫ বিলিয়ন লোক বিভিন্ন জিনিস অনুসন্ধান করে, ২০১২ সালের তুলনায় এই সংখ্যাটা দ্বিগুণ বেড়েছে। মানুষ ক্রমাগত নতুন জিনিস শিখছি এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আসছে। কিন্তু মাঝেমধ্যে মানুষ এমন সকল উদ্ভট প্রশ্নের উত্তর জানতে চায় গুগলের কাছে যা যেকোন সুস্থ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে নিম্নমানের সাংবাদিকতাকে কেন হলুদ সাংবাদিকতা বলা হয় কিংবা যে কোন কিছুতে চিকন পিনের চার্জার কেন খোঁজা হয় ?

আমরা আজ গুগোলে জিজ্ঞেস করা উদ্ভট কিছু প্রশ্নের উত্তর নিয়ে এসেছি যেগুলো আপনাদের বিভ্রান্তি দূর করবে।

 

যখন বাথরুমে থাকেন তখন আপনার মাথায় প্রতিভা ভর করে কেন ?

সারাদিন আপনি একটি সমস্যা নিয়ে জর্জরিত এবং যখন আপনি বাথরুমে গেলেন ঝরনার নিচে গোসল করছেন ঠিক সেই সময় আপনি সমস্যাটির সমাধান পেলেন ! এতে অস্বাভাবিকতার কিছু নেই, বিষয়টি হলো এই সময় আপনার মস্তিষ্ক স্বল্প সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায় এবং শরীর খুব আনন্দদায়ক ও সংবেদনশীল মুহূর্ত অনুভব করে। আপনার মাথায় চিন্তার স্বাধীনতা পায় এবং ঝরনা আপনার মস্তিষ্ককে সৃজনশীল করে তোলে। তাই দেখা যায় সারাদিন যে সমস্যাটার সমাধান পাননি সেই সমস্যার সমাধান আপনার ২ মিনিটেই হয়ে যায়।

গোসল কিছুটা ব্যায়াম এবং সুন্দর সঙ্গীতের মত যা আপনার রক্তে উদ্দীপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই সময় আপনার মস্তিষ্ক কিছুটা চাপ মুক্ত থাকে আপনার মনোযোগ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যায় এবং আপনার মস্তিষ্ককে আপনি কাজ করতে বাধ্য করেন না তাই আপনার চেতনা সৃজনশীল উত্তর বের করে নিয়ে আসতে পারে।

 

অশ্রু কেন লবণাক্ত হয়?

অশ্রুর প্রায় ৯৯ শতাংশ থাকে জল, আর বাকি ১% বিভিন্ন জৈব যৌগ থাকে লবণ সহ। আপনার অশ্রুতে' লবণের পরিমাণ নির্ভর করে আপনার শারীরিক অবস্থা এবং আপনি কাঁদছেন এই কারণে।

যখন কেউ খুবই কষ্ট পেয়ে কিংবা দুঃখ বোধ করে কাঁদতে থাকে তখন তার অশ্রু সবচেয়ে লবণাক্ত থাকে, যখন আপনি দুঃখ অনুভব করেন তখন আপনার থাইরয়েড খুব দ্রুত কাজ করে হার্টের রেট বৃদ্ধি পায় এবং অন্যান্য শারীরিক ক্রিয়া-কলাপ দ্রুত বাড়তে থাকে, তাই অশ্রুর সাত লবণাক্ত হয় এবং একই কারণে আমাদের শরীরের ঘামও লবণাক্ত।

আবার যখন আপনি খুশি থাক আর না করেন তখন তা কখনোই লবণাক্ত হয় না এবং এর চেহারাও মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখতে ভিন্ন হয়ে থাকে।

 

কেন অটো কারেকশন কে T9 বলা হত ?

T9 আসলে আমাদের শব্দ ঠিক করার জন্য তৈরি করা হয়নি বস্তুত আমরা কিভাবে টাইপ করি তার উপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়েছিল। এর কারণ ছিল একটা শব্দ অনুমান করা, আমরা যদি পুরাতন ফোন গুলোর কথা মনে করি সেখানে তিনটি করে বা চারটি করে অক্ষর ছিল এক একটি বাটনে যা ৯ টি বাটনে অক্ষর গুলো সাজানো ছিল, সাধারণভাবে বলতে গেলে ইংরেজিতে Text on 9 keys এর ছোট ফর্ম T9 ।

 

ফেব্রুয়ারি মাস কেন ২৮ দিনের হয়?

আমরা সবাই জানি ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনের, প্রতি ৪ বছর পর পর ২৯ দিনেরও হয়। কিন্তু আমাদের অনেকেরই প্রশ্ন, বছরের ৭ টি মাস ৩১ দিনের হওয়ার পরেও ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনের কেন?

আমরা বর্তমানে ৩৬৫ দিনের যে ক্যালেন্ডার ব্যবহার করি তার নাম গ্রেগরি ক্যালেন্ডার। এর বহু বছর আগে গ্রীক যুগে ব্যবহার করা হতো জুলিয়ান ক্যালেন্ডার। জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে মোট দিন ছিল ৩০৪ দিন, যাকে মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাব করা হতো। কিন্তু ৩০৪ দিনের ক্যালেন্ডারে ঋতুর হিসাব রাখা ছিল মুশকিল। তাই গ্রীক রাজা পম্পিলিয়াস ঋতুর হিসাব ঠিক রাখার জন্য আরও ৬১ দিন বাড়িয়ে ৩৬৫ দিনের বছর করেন, বছরের শুরুতে যোগ করা হয় জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি নামক ২টি নতুন মাস। জানুয়ারি মাসে ছিল ৩১ দিন, আর ফেব্রুয়ারিতে ৩০ দিন।

কিন্তু এরপরই শুরু হয় বিড়ম্বনা। রোমের রাজা “জুলিয়াস” ক্যালেন্ডারে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য “কুইন্টিলিস” নামক মাসের নাম পরিবর্তন করে রাখেন “জুলিয়াস”; যা পরবর্তীতে হয় “জুলাই”। এমনকি ফেব্রুয়ারি থেকে ১ দিন নিয়ে জুলাই মাসকে ৩১ দিনের করে দেন জুলিয়াস। একইভাবে জুলিয়ানের ভাইয়ের ছেলে “আগাস্টাস” সম্রাট হওয়ার পর নিজের নামকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য “আগস্ট” মাসের নামকরণ করেন এবং ফেব্রুয়ারি থেকে ১ দিন দিয়ে আগস্টকেও ৩১ দিনের করে দেন। এভাবেই জুলাই ও আগস্ট হয়ে যায় ৩১ দিনের আর ফেব্রুয়ারি হয়ে যায় ২৮ দিনের।

 

কেন বাজে মানের সাংবাদিকতাকে হলুদ সাংবাদিকতা বলা হয় ?

 

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও চটকদার সংবাদ পরিবেশন ও উপস্থাপন করে থাকেন কিছু কিছু সাংবাদিক। আর এসব সংবাদিকতাকে হলুদ সাংবাদিকতা বলা হয়। মজার বিষয় হলো বিশ্বের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক যাকে বলা হয় তিনিই এই হলুদ সাংবাদিকতার জনক।  তিনি হলেন জোসেফ পুলিৎজার। আরো মজার ব্যাপার হলো- সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় পুরস্কার ‘পুলিৎজার অ্যাওয়ার্ড’ এই ব্যক্তির নামানুসারেই দেয়া হয়।

হলুদ সাংবাদিকতার জন্ম হয়েছিল সাংবাদিকতা জগতের অন্যতম দুই ব্যক্তিত্ব যুক্তরাষ্ট্রের জোসেফ পুলিৎজার আর উইলিয়াম রুডলফ হার্স্টের মধ্যে পেশাগত প্রতিযোগিতার ফল হিসেবে। এই দুই সম্পাদক তাদের নিজ নিজ পত্রিকার ব্যবসায়িক স্বার্থে একে অপরের অপেক্ষাকৃত যোগ্য সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত কর্মচারীদের অধিক বেতনে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে ব্যক্তিগত কেলেংকারির চাঞ্চল্যকর খবর ছেপে তারা পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন। পুলিৎজারের নিউ ইয়র্ক ওয়ার্ল্ড ও হার্স্টের নিউ ইয়র্ক জার্নালের মধ্যে পরস্পর প্রতিযোগিতা এমন এক অরুচিকর পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতার পরিবর্তে পত্রিকার বাহ্যিক চাকচিক্য আর পাঠকদের উত্তেজনা দানই তাদের নিকট মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়।

এতে মানগত দিক থেকে দুটি পত্রিকাই ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকল। এর ফলে একটা নষ্ট পাঠক গোষ্ঠী গড়ে উঠল, যারা সব সময় স্ক্যান্ডাল বা কেলেঙ্কারি, চটকদারি, ভিত্তিহীন চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী সংবাদ প্রত্যাশা করত। এভাবেই জোসেফ পুলিৎজার এবং উইলিয়াম হার্স্ট দু’জনেই হলুদ সাংবাদিকতার দায়ে অভিযুক্ত এবং ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে রইলেন। আর উক্ত ইয়োলো কিড থেকেই হলুদ সাংবাদিকতা পরিভাষাটি সৃষ্টি হয়েছে। সবশেষে আমাদেরকে দিয়ে গেলেন এক অসুস্থ প্রতিযোগিতার সাংবাদিকতা। 

 

পুরোনো ছবিগুলোতে কেন মানুষ একে অপরের কাঁধে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখায়?

আজকাল আমাদের একটা ছবি তুলতে কত সময় নেই ? অতীতে যেমন ফটোগ্রাফি প্রথম শুরু হয় তখন প্রক্রিয়াটি বেশ কঠিন ছিল, একটি ছবি নিতে কয়েক মিনিট থেকে ঘন্টাখানেকও লেগে যেত, এত সময় একই ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা খুব কঠিন। তাই দোকানদাররা বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে, মাঝে মাঝে ভাস্কর্য কিংবা সময় পার করার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করত। কিন্তু যখন আপনি গ্রুপ ছবি তুলবেন তখন সবাই একসাথে থাকার জন্য কাঁধে হাত রাখার বিষয়টি খুবই ভালো আইডিয়া ছিল, একে একে অপরের ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ।

 

কেন আইফোনের সকল ছবিতে সময় 9:41 প্রদর্শন করে?

মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারী ২০০৭, স্টিভ জবস প্রথম ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য নতুন প্রযুক্তির বিষয়ে ম্যাকওয়ার্ড সম্মেলন ও এক্সপোর মঞ্চে ছিলেন। তিনি বলেন  তিনি অনেক দিন ধরে এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলেন এবং ৯:৪১ তিনি আইফোন উপস্থাপন করেছিলেন। সুতরাং, ডিভাইসগুলির স্ক্রিনগুলিতে সমস্ত অ্যাপল বিজ্ঞাপনে আমরা যে সময় দেখি তা হল প্রথম আইফোন ঘোষণা করার সময়।

 

আমেরিকান সিনেমাতে টয়লেটে ব্রাশ নেই কেন?

মার্কিন টয়লেটগুলিতে, টয়লেট ব্রাশগুলি খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন এর কারণ হল, ড্রেন সিস্টেম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক শক্তিশালী। তাই, টয়লেটে যাই আটকে থাকুন না কেন ড্রেনের নিচে তা পানির ফ্লাশের মাধ্যমে ঢুকে যায়।

অন্য দিকে ইউরোপে, পাইপগুলি প্রায় আমাদের দেশের মত টয়লেটের সাথে একই স্তরে থাকে, তাই অতিরিক্ত চাপ নেই এবং ফ্লাশ করার পর সমান চাপ পড়ে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চাপ এত বেশি যে তাদের টয়লেট ব্রাশের প্রয়োজন নেই, এমনিতেই টয়লেট পরিষ্কার হয়ে যায় ।

 

আমরা কি এসব ঘটনা নিয়ে আপনাকে অবাক করতে পেরেছি ? অথবা আপনি কি এই লোকেদের মধ্যে একজন যিনি Google এ সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন? আপনার মতামত আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না ।



জনপ্রিয়