বিজ্ঞানীরা এক ধরণের কীট আবিষ্কার করেছেন যা প্লাস্টিক খাওয়ার মাধ্যমে পৃথিবীকে বাঁচাতে পারে !          বিজ্ঞানীরা এক ধরণের কীট আবিষ্কার করেছেন যা প্লাস্টিক খাওয়ার মাধ্যমে পৃথিবীকে বাঁচাতে পারে !

বিজ্ঞানীরা এক ধরণের কীট আবিষ্কার করেছেন যা প্লাস্টিক খাওয়ার মাধ্যমে পৃথিবীকে বাঁচাতে পারে !

পৃথিবীতে প্রতি মিনিটে ২০ লক্ষ প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহৃত হয়। এক বছরের যে পরিমাণ প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করা হয় তা এক জায়গায় জড়ো করার কথা কল্পনা করাটাই অনেক কঠিন। বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা এবং বিভিন্ন সংস্থা এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছেন কিংবা বিভিন্ন গবেষণা করছেন কীভাবে প্লাস্টিকের সমস্যা দূর করা যায়। প্লাস্টিক ব্যবহার করা ছাড়া আমরা থাকতে পারবো না আবার প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য খুব ক্ষতিকর। এরকম পরিস্থিতিতে একদল বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছেন এক ধরনের কীট দ্বারা প্লাস্টিকের দূষণ কমানো যায়।

আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব বিজ্ঞানীদের গবেষণা যার মাধ্যমে এক ধরনের কীট প্লাস্টিক খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে।

এক ধরনের ছোট পোকা প্লাস্টিকের আবর্জনা খেয়ে হজম করতে পারে, বস্তুত অর্থ মোম জাতীয় খাবার এই কিট খেতে পারে। এই কীটগুলো মৌমাছির মৌচাক এর মোম খেয়ে থাকে এবং বিভিন্ন গাছ বা ময়লা জায়গায় এই ধরনের কীট আপনি দেখতে পাবেন। বিভিন্ন ধরনের পশু পাখি গবেষণা এবং স্তন্যপায়ীদের বাঁচাতে এই কীটের উপর গবেষণা চালানো হয়। গবেষণার এক পর্যায়ে সম্প্রতি দেখা যায় এই কে প্লাস্টিক খাওয়ার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্লাস্টিক হজম করতে পারার বিষয়টি হঠাৎ করে আবিষ্কার করেন একজন প্রফেসর যিনি মৌমাছির উপর গবেষণা করে থাকেন। প্রফেসর ফেডেরিকা বারটোকচিনি যিনি মৌমাছির উপর গবেষণার জন্য মৌচাক একটি প্লাস্টিকের ব্যগে রেখেছিলেন, তিনি তার প্লাস্টিকের ব্যাগে কিছু ছিদ্র লক্ষ করেন। এরপর তিনি ঘটনাটি অন্যান্য বিজ্ঞানীদের সাথে শেয়ার করেন, বিজ্ঞানী পাওলো বোম্বেলি এবং ক্রিস্টোফার জে কে সাথে নিয়ে এরপর তিনি ১০০টি কীট নিয়ে প্লাস্টিকের উপর গবেষণা পরিচালনা করেন। 

তারা প্লাস্টিকের শপিং ব্যাগগুলিতে কীটগুলি রাখেন এবং ৪০ মিনিট পর পর্যবেক্ষন করে গর্তগুলির উপস্থিত দেখতে শুরু করেন। ১২ ঘন্টা পর প্লাস্টিকের ভর ৯২ মিগ্রা কমে যায়। গবেষণা থেকে তারা বুঝতে পান যে কীটগুলি আসলে প্লাস্টিকের রাসায়নিক বন্ধন ভেঙ্গে ফেলছে এবং এটি কেবল ফেটে যাচ্ছে না,  কীটগুলো রাসায়নিক বন্ধনকে ভেঙ্গে ধ্বংস করে ফেলেছে এবং কীটগুলো সফল ভাবে প্লাস্টিক গুলোকে হজম করে ফেলছে। ফলাফলটি নিখুঁত ভবে পেতে তারা গবেষণাটি পুনরাবৃত্তি করেন এবং তারা ফলাফল একই দেখতে পান।

এরপর বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতে বাধ্য হন এই কীট গুলোর হজমে শক্তিতে এক ধরণের এনজাইম আছে যা কীট গুলোকে প্লাস্টিককে হজম করতে সহায়তা করে, এছাড়া, তারা ইতিমধ্যে মোম খায়, যা একটি "প্রাকৃতিক প্লাস্টিক।"

গবেষকরা তাদের গবেষণা থেকে খুব ভালো করে বুঝতে পারেন কিভাবে কীটগুলো প্লাস্টিক হজম করতে পারে এবং কোন এনজাইমের কারনে কীটগুলো খুব সহজে প্লাস্টিক হজম করতে পারে, গবেষকরা বিশ্বাস করেন তাদের গবেষণাটি প্রকৃতি থেকে প্লাস্টিক সমস্যা দূর করতে সহায়তা করবে। 

প্লাস্টিকের সমস্যা সমাধানের ভালো কোন উপায় আপনার জানা আছে ? প্লাস্টিকের সমস্যা সমাধানে আপনি কি কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেন ? আমরা আপনার পদক্ষেপ জানতে এবং সবাইকে জানাতে আগ্রহী। 

 



জনপ্রিয়