আটটি উপসর্গ দেখা দিলে আপনার অবশ্যই বুঝতে হবে আপনি যকৃতের কোন রোগে ভুগছেন এবং আপনার দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত আটটি উপসর্গ দেখা দিলে আপনার অবশ্যই বুঝতে হবে আপনি যকৃতের কোন রোগে ভুগছেন এবং আপনার দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত

কি করে বুঝবেন আপনি লিভারের বা যকৃতের কোন ভয়ানক রোগে আক্রান্ত!

এই আটটি অপ্রত্যাশিত উপসর্গ দেখা দিলে আপনার লিভার রোগ থাকতে পারে। যকৃত আমাদের শরীরে অনেক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যকৃতের কার্যক্রম ব্যাহত হলে এর পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। বর্তমানে শুধুমাত্র আমেরিকাতে দীর্ঘমেয়াদি যকৃতের সমস্যায় ভুগছে এমন মানুষের সংখ্যা ৫৫ লাখ যাদের বেশিরভাগই লিভার সিরোসিসের রোগী। সুতরাং এটা গুরুত্বপূর্ণ আগে থেকেই যকৃতের কোন ধরনের ক্ষতি সম্পর্কে অবগত হওয়া। নিচের এই আটটি উপসর্গ দেখা দিলে আপনার অবশ্যই বুঝতে হবে আপনি যকৃতের কোন রোগে ভুগছেন এবং আপনার দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

 

১. আপনার ত্বক এবং চোখ হলুদ হয়ে যেতে পারে

files.brightside.me

files.brightside.me

 

যদি আপনার এমন কোন উপসর্গ দেখা দেয় তাহলে আপনার যকৃত অবশ্যই মারাত্মক সমস্যায় ভুগছে। এই পরিস্থিতিকে মূলত জন্ডিস বলা হয়ে থাকে যার ফলে আমাদের ত্বকে, চোখের সাদা অংশ এবং মিউকাসে হলুদ রঙের আবির্ভাব ঘটে। এই রং এর মূল কারণ হচ্ছে আপনার শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেছে যার ফলে কমলা ও হলুদ ধরনের রঞ্জক পদার্থ যা আপনার যকৃত ও পিত্তে দেখা দেয়। যখন একটা যকৃত সুস্থ থাকে তখন এটা সহজেই বিলিরুবিন নিষ্কাশন করতে পারে। যদি আপনার যকৃত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে আপনি হলুদ রঙের হয়ে যাবেন।

 

২. আপনার অবসাদগ্রস্থ এবং ক্লান্ত মনে হতে পারে

© depositphotos.com   © depositphotos.com

© depositphotos.com © depositphotos.com

 

এটা গতানুগতিক কোন ক্লান্তি নয় তার চেয়ে বেশি কিছু। অবসাদ বলতে বোঝায় মানসিক এবং শারীরিক শক্তির অভাব। আপনার কোন কিছুতেই অনুপ্রেরণা আসে না। মাঝে মাঝে শুধুমাত্র সকালে এমন মনে হতে পারে এবং আপনি এমন অনুভব করবেন যে বিছানা থেকে ওঠা এক ধরনের অত্যাচার। অন্যান্য সময় সারাদিন জুড়ে আপনার এমন মনে হতে পারে। 

 

৩ . আপনার পেট ফুলে যেতে পারে

© depositphotos.com

© depositphotos.com

 

পেট ফোলা বা পেট ফাঁপা অন্যতম একটি অস্বস্তিকর উপসর্গ যার ফলে প্রচন্ড ব্যথা তৈরি হয়। এটা তখনই হয় যখন আপনার পেটের অভ্যন্তরে এক ধরনের তরল পদার্থ অবস্থান করে। কিছু ক্ষেত্রে আপনার পেট এত পরিমান ফুলে যেতে পারে যার ফলে বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে আপনাকে গর্ভবতী মহিলা মনে হতে পারে। এ ধরনের পানি জমে যাওয়ার ফলে আপনার শরীরের অন্যান্য স্থান যেমন পা এবং গোড়ালিতে পানি পৌঁছে সেগুলো ফুলে যেতে পারে।

 

৪. আপনার ক্ষুধামন্দা হতে পারে এবং ওজন হ্রাস পেতে পারে

© depositphotos.com

© depositphotos.com

 

সাধারণত চিকিৎসকরা বলে থাকেন ওজন হ্রাস এক্ষেত্রে মোট ওজনের ১০% পর্যন্ত হতে পারে। এ ধরনের অবস্থা পেট ফোলার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। যখন আপনার পেট প্রচন্ড রকমের ফেঁপে যায় তখন আপনার এমন মনে হয় যে কিছুই খেতে ইচ্ছা করছে না। এরকম অবস্থায় খাওয়া দাওয়া প্রচন্ড কষ্টকর কারণ প্রতিবার আপনার ব্যথা তীব্রতর হতে পারে।

 

৫. আপনার ত্বকে মাকড়সার জালের মত রক্তের জাল দেখা দিতে পারে

© depositphotos.com

© depositphotos.com

 

এ ধরনের কন্ডিশন কে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় স্পাইডার এনজিওমা যার অর্থ হচ্ছে একটা ত্বকের উপরিভাগের কাছাকাছি কোন জায়গায় অবস্থিত বিস্তৃত শিরা যা ছোট মাকরোসার জালের মতো দেখতে। এমন কিছু আপনার বক্ষের উপরের অর্ধাংশে, হাত, গলা অথবা মুখমন্ডলে দেখা দিতে পারে। যদি এমন কিছু দেখতে পান এটা যকৃতের রোগের উপসর্গ হতে পারে।

 

৬. আপনার শরীরে কালশিটে দাগ ( রক্তের জমাট বাঁধা) দেখা দিতে পারে

© depositphotos.com

© depositphotos.com

যদি আপনার যকৃত অসুস্থ থাকে সে ক্ষেত্রে প্রোটিনের উৎপাদন বন্ধ হয় কিংবা মাত্রা কমতে থাকে। এর ফলে আপনার শরীরে খারাপ রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। এবং এজন্যই যে সকল মানুষ যকৃতের রোগে আক্রান্ত তাদের রক্তক্ষরণ ও জমাটবাঁধা একজন সুস্থ মানুষের চেয়ে দ্রুত হয়।

 

৭. আপনার প্রস্রাবের রং গাঢ় হতে পারে

© depositphotos.com

© depositphotos.com

আপনার স্বাভাবিক সময় প্রস্রাবের যে ধরনের রং হয়ে থাকে তা যকৃতের রোগে আক্রান্ত হলে রংটা গাঢ় হতে থাকে। আপনার প্রস্রাবের রঙ ধূসর , গাঢ়ো কমলা অথবা পীতাভ বাদামী রঙের হতে পারে। এটা হওয়ার পেছনে ও আপনার শরীরে অতিরিক্ত মাত্রার বিলিরুবিন দায়ী। অতিরিক্ত বিলিরুবিন যকৃত ঠিক ভাবে ভেঙে নিষ্কাশন করতে পারে না। আর এজন্যই প্রস্রাবের রং এ ধরনের তারতম্য ঘটে।

 

৮. আপনার চুলকানি হতে পারে এটা সত্য তাই মানুষের চুলকানি জাতীয় সমস্যা হতে পারে

files.brightside.me

files.brightside.me

কিন্তু সব ধরনের চুলকানি স্বাভাবিক নয়। যকৃতের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ও চুলকানি হতে পারে। এক্ষেত্রে শরীরের সব জায়গায় চুলকানি না হয় একটা নির্দিষ্ট জায়গাতেই বারবার চুলকানি হতে পারে। এটার কারণ হচ্ছে আপনার শরীর থেকে নির্গত বিষাক্ত পদার্থ যকৃতের পক্ষে আর পরিশোধন করা সম্ভব হচ্ছে না। যখন আপনার শরীর প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত পদার্থের আক্রান্ত হয়ে পড়ে আপনার মারাত্মক রকমের চুলকানি হতে পারে বিশেষ করে রাতের বেলা।

সুপ্রিয় বন্ধুরা এ ধরনের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে শুরুতেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। যত দ্রুত রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হবে তা দ্রুতই আপনার সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব। বন্ধুরা আপনারা যকৃতকে ভালো রাখার জন্য কি করেন আমাদের জানান? সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।



জনপ্রিয়