অনেক দেশেই এখনো এমন ধরণের জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে যা অপরাধীদের মনে ও ভয় তৈরি করতে পারে... অনেক দেশেই এখনো এমন ধরণের জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে যা অপরাধীদের মনে ও ভয় তৈরি করতে পারে...

অপরাধীদের কাছ থেকে সত্য জানতে জিজ্ঞাসাবাদের এই পদ্ধতিগুলো সর্বোত্তম

অপরাধীদের গ্রেফতার করার পর অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আমরা সকলেই জানি যে জিজ্ঞাসাবাদ একটি জটিল এবং কষ্টকর প্রক্রিয়া যেখানে অপরাধীকে সত্য বলানোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার নির্যাতন করা হয়। অপরাধী যতই শক্তিশালী হোক না কেন জিজ্ঞাসাবাদে নির্যাতনের মাত্রার কারণে যে কোন সত্য কথা বলতে বাধ্য হয়। সুপ্রিয় পাঠক আমরা আজ আপনাদের পৃথিবীর ১০ টি দেশের জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতি সম্পর্কে জানাবো। 

১০. অপরাধীকে জনমানবশূন্য এলাকায় একাকী রাখা 

thedayusa.com

thedayusa.com

যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধীকে জনমানবশূন্য এলাকায় একাকী রাখা হয়। এ রকম বিরূপ পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে থাকার ফলে অপরাধীর ভেতরে চরম মানসিক অশান্তি এবং উদ্বেগ তৈরি হয়। এর ফলশ্রুতিতে সে সত্য বলতে বাধ্য হয়। 

৯. অনিদ্রা

thehumornation.com

thehumornation.com

ইসরাইলে অপরাধীকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ততক্ষণ পর্যন্ত জাগিয়ে রাখা হয় যতক্ষণ সে সত্য স্বীকার করছে না! অপরাধী জেগে থাকতে থাকতে শেষ পর্যন্ত সত্য স্বীকার করে। কতক্ষণ আপনি না ঘুমিয়ে থাকতে পারবেন? এর চেয়ে ভাল নয় কি সত্যি স্বীকার করে নেয়া।

৮. ইন্দ্রিয় সংক্রান্ত বিচ্যুতি

thehumornation.com

thehumornation.com

অপরাধী কে একটা ট্যাংক এর মত বস্তুর ভেতর আবদ্ধ করা হয় যার ফলে সকল ধরনের ইন্দ্রিয়ের উদ্দীপনাগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যেতে থাকে। অপরাধীকে একদমই সংকীর্ণ কিছু নির্গমন পথ এর সাহায্যে শ্বাসকার্য চালাতে হয় যার ফলে মস্তিষ্কে ও ফুসফুসে প্রচন্ড চাপ তৈরি হতে থাকে। কিন্তু সেরকম অবস্থায় বেশিক্ষণ টিকে থাকা যায় না। চরম উদ্বেগ ও শারীরিক এবং মানসিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে অপরাধীরা বাধ্য হয়ে সত্য প্রকাশ করে।

৭. নিষ্পেষিত অবস্থা 

keef.tv/images

keef.tv/images

অপরাধীকে এমনভাবে একটা নির্দিষ্ট জায়গাতে দীর্ঘ সময় ধরে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে রাখা হয় যাতে তার শরীরে প্রচন্ড ব্যথা এবং জড়তা তৈরি হয়। যে ধরনের অবস্থানে অপরাধী চুল পরিমানও শরীরের নাড়াচাড়া করতে পারে না। নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরে অপরাধী প্রচন্ড পরিমানে ক্লান্ত শারীরিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অবস্থা কঠিন থেকে কঠিনতর হতে থাকে যতক্ষণ না অপরাধী সত্য স্বীকার করে। পরিশেষে সে সত্য স্বীকারে বাধ্য হয়।একটু ভেবে দেখুন আপনাকে আধো বসা অ আধো দাঁড়ানো অবস্থায় রাখা হলে কতক্ষণ থাকতে পারবেন? কিংবা আপনার হাতে কোন ভারী জিনিস দিয়ে বলা হলো এটা হাত সোজা করে ধরে রাখতে। আপনি ৫ মিনিট অ পারবেন বলে মনে হয় না। 

৬. ইন্দ্রিয়ের ওপর কৃত্তিমভাবে প্রচন্ড চাপ তৈরি করা

 thehumornation.com

thehumornation.com

এই পদ্ধতিতে অপরাধীর ইন্দ্রিয়গুলোকে চরম মাত্রায় বিপর্যস্ত করা হয়। অতিরিক্ত আলো, শ্রবণ মাত্রার অতিরিক্ত শব্দ তৈরি করে অপরাধীকে প্রচন্ড পরিমানে নির্যাতন করা হয়। যেকোনো ধরনের জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি যথেষ্ট কার্যকর।

৫. জোরপূর্বক নগ্নতা

Internet

Internet

ইরাকে জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতি হিসেবে অপরাধীকে উলঙ্গ করে মেয়েদের অন্তর্বাস পড়ে জনসমক্ষে ছেড়ে দেয়া হয়। এর ফলে অপরাধ এর মধ্যে প্রচণ্ড লজ্জা ও ঘৃণা জন্মায় এখান থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অপরাধী জিজ্ঞাসাবাদে অপকর্মের কথা স্বীকার করেন।

৪. যৌন নিগ্রহ

thehumornation.com

thehumornation.com

যৌন নিগ্রহের ধরন গুলো বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপরাধের প্রথাগত রুচির বিরুদ্ধে যৌন কর্মকাণ্ডে তাকে জোরপূর্বক অংশগ্রহণ করানো হয়। এর ফলে অপরাধী বাধ্য হয় সত্য স্বীকার করতে। যেমন- অপরাধী যদি পুরুষ হয়ে থাকে তাকে অন্য পুরুষ কয়েদিদের সাথে যৌন কর্মে লিপ্ত করানো হয় এ ক্ষেত্রে অপরাধের মানবিক বিপর্যয় ঘটে এবং সে সত্য প্রকাশ করে।

৩. সাংস্কৃতিক নিগ্রহ

thehumornation.com

thehumornation.com

সাংস্কৃতিক নিগ্রহ হচ্ছে এক ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতি যেখানে অপরাধীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা হয়। এ ক্ষেত্রে অপরাধের ধর্মে যে সকল বিষয় নিষেধ সেগুলোর তাকে দিয়ে করানো হয়। শুধু তাই নয় এ ধরনের আচার কিংবা সংস্কৃতি তার ওপর জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়।

২. তীব্র ঠান্ডা

steemitimages.com

steemitimages.com

চীনে জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতি হিসেবে অপরাধীদের তীব্র শীতের মধ্যে বরফের পানিতে গোসল করানো হয় এবং প্রচন্ড ঠান্ডা আবহাওয়ায় উন্মুক্ত অবস্থায় রেখে দেওয়া হয়। এত বেশি ঠাণ্ডায় রাখা হয় যে অপরাধীর শরীর অনেকটা জমে যায়। নির্যাতনের মাত্রা প্রবল হতে থাকে যদি অপরাধী সত্য স্বীকার না করে।

১. ভয়

cdn1.medicalnewstoday.com

cdn1.medicalnewstoday.com

চীনে অপরাধীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরেকটি পদ্ধতি হিসেবে অপরাধীরা যে সকল জিনিস এ মারাত্মক ভয় পান সেগুলো তাদের মুখোমুখি করা হয়। মনে করুন আপনি টিকটিকি ভয় পান তাহলে আপনাকে রুমের মধ্যে রেখে অসংখ্য টিকটিকি সেখানে ছেড়ে দেয়া হবে এবং এর ফলে আপনার মধ্যে প্রচণ্ড মানসিক চাপ তৈরি হবে। জিজ্ঞাসাবাদ তখনই শুরু হয় যখন অপরাধী মারাত্মকভাবে ভীতসন্ত্রস্ত থাকে।

আমাদের আয়োজন কেমন লাগলো বন্ধুরা? যদি ভালো লেগে থাকে অবশ্যই আমাদের পেজে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার দিয়ে সাথেই থাকুন। আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ... 



জনপ্রিয়