কখন বুঝতে পারবেন আপনার চাকরী চলে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র! কখন বুঝতে পারবেন আপনার চাকরী চলে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র!

কখন বুঝতে পারবেন আপনার চাকরী চলে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র!

অফিসে গিয়ে একদিন হঠাৎ শুনলেন আপনাকে ছাঁটাই করা হয়ছে। হঠাৎ করে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়াবেন হয়তো। কারণ, হুট করে চাকরী চলে গেলে বিপদের শেষ নেই! বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে হুট করে চাকরি চলে যাওয়াটা খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। বিশেষ করে কর্পোরেট এবং এনজিও খাতে এমনটি প্রায়ই হয়ে থাকে ব্যাপারটি অবশ্যই দুঃখজনক।

যেহেতু হরহামেশাই ব্যাপারটি ঘটে থাকে, তাই যদি আপনার চোখ-কান একটু খোলা রাখেন, তাহলে কিছু পূর্বাভাস আপনি আগে থেকেই টের পাবেন। এ জন্য আপনার বুদ্ধিমান হয়ে কাজ করাটা চাকরী ঠেকাতে সাহায্য করবে অথবা আপনিও চাকরী পাল্টানোর কথা চিন্তা ভাবনা শুরু করে দিতে পারবেন। চলুন আজ ফাঁপরবাজের মাধ্যমে জেনে নিই চাকরী যাওয়া সময় হয়েছে বোঝার লক্ষণগুলো-

১. বিশ্বস্ততার জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়া

সব অফিসেরই কিছু নিজস্ব গোপন তথ্য থাকে, যা অফিসের কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। গুরুত্বপূর্ণ এই তথ্যগুলো সাধারণত বাইরের মানুষ জানে না। যদি হঠাৎ করেই আপনাকে অফিসের এ ধরনের তথ্যগুলো আর না জানানো হয়, যে ধরনের ইমেইল আগে পেতেন তা আর পাঠানো না হয় বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে ডাকা না হয় যেখানে আপনাকে আগে ডাকা হতো - তাহলে বুঝে নিতে হবে আপনি সেই বিশ্বস্ততার জায়গাটি হারিয়েছেন।

২. বেশিমাত্রায় 'ওয়ার্নিং' দেওয়া

সবসময়ই দেখা যায়, কোনো ভুল দ্বিতীয়বার না করার জন্য সতর্ক করা হলে তা অনানুষ্ঠানিকভাবেই কর্মীকে জানানো হয়। এতে করে কর্মী নিজেকে শুধরে নেওয়ার সুযোগ পায়। আনুষ্ঠানিকভাবে 'ওয়ার্নিং' বা সতর্ক করা কখনোই ভালো লক্ষণ নয়। 'ওয়ার্নিং' যদি একের অধিকবার পান, তাহলে বুঝে নিবেন আপনার জন্য ভালো কোনো খবর অপেক্ষা করছে না।

৩. পরপর খারাপ রিভিউ পাওয়া

খারাপ পারফরম্যান্স এর রিভিউ পাওয়া যে সবসময় খারাপ তা কিন্তু নয় বরং এটা ভালো লক্ষণ। কর্মীরা ভুলত্রুটিগুলো শুধরে নিজেকে গড়ে তুলতে পারেন রিভিউ পেলে। কিন্তু খারাপ পারফরম্যান্সের রিভিউ যদি ক্রমাগত পেতে থাকেন তবে বুঝতে হবে লক্ষণ সুবিধের নয়।

এছাড়া যদি রিভিউতে গঠনমূলক কোনো সমালোচনার পরিবর্তে 'আপনার কাজে আমরা সন্তুষ্ট নই', 'আপনি দলে কাজ করতে পারেন না' বা 'আপনার ব্যক্তিত্ব আমাদের প্রতিষ্ঠানের সাথে মেলে না'- এ ধরনের নেতিবাচক কথা লেখা থাকে, তবে বুঝতে কোন দ্বিধা থাকবে না কর্তৃপক্ষ আপনাকে আর রাখতে চাইছে না।

৪. অসম্ভব কোনো দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হলে

যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে তখন আপনাকে এমন সব দায়িত্বই দেওয়া হয় যা আপনার দ্বারা করা সম্ভব। কখনো কখনো হয়তো কাজের প্রেশার বাড়তেও পারে। কিন্তু যদি কখনো এমন হয় যে প্রতিনিয়তই আপনাকে এমন সব কাজ দেওয়া হয় যা আপনার একেবারেই এখতিয়ারের বাইরে, তাহলে বুঝতে হবে সমস্যা কিছু একটা আছে।

৫. বসের সাথে সম্পর্ক খারাপ হওয়া

সাধারণত বস বা সুপারভাইজরের সাথে কর্মীর সম্পর্কটি আন্তরিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণই হয়ে থাকে। কিন্তু যদি সম্পর্কটি কোনো কারণে খারাপ হয়ে যায় তাহলে সেটি আসলেই ভাববার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

যদি আপনার বস বা সুপারভাইজরের সাথে মনোমালিন্য বা সম্পর্ক খারাপ হয় তাহলে দেখুন তিনি আপনার সাথে কী ধরনের আচরণ করছেন। তিনি যদি জনসম্মুখে আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করেন বা আপনাকে হেয় করেন তাহলে বিষয়টিকে একেবারে হেলাফেলা করবেন না। এটি কোনো খারাপ কিছুর পূর্বাভাস হতে পারে।

৬. সময় এবং খরচের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব চাওয়া

সময় এবং খরচের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব চাওয়া

সময় এবং খরচের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব চাওয়া

খুব বড় কোনো ঘটনা না ঘটলে সাধারণত হিসাব বিভাগ কর্মীদের কাছে তাদের খরচের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ চায় না। আপনার কাছে যদি আপনার কাজ, সময় এবং খরচের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব চাওয়া হয় তাহলে বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিন। আপনার আরো কোনো সহকর্মীর কাছে এ ধরনের হিসাব চাওয়া হয়েছে, নাকি একমাত্র আপনার কাছেই তা জানুন। বিষয়টিকে সতর্কতার সাথে বিবেচনা করুন।

৭. আগের মতো আপনাকে আর কাজে যুক্ত করা না হলে

আপনাকে যদি আগের মতো আর কাজের দায়িত্ব দেওয়া না হয় বা নতুন কোনো কাজে যুক্ত করা না হয় তাহলে সেটাকে খারাপ কিছুর পূর্বাভাস হিসেবেই বিবেচনা করুন। তার মানে হতে পারে আপনার প্রতিষ্ঠান আপনাকে আর কাজ বা দায়িত্বের জন্য যোগ্য মনে করছে না কিংবা তারা আপনার উপর ভরসা করতে পারছে না।

৮. অবহেলা করা হচ্ছে

অবহেলা করা হচ্ছে

অবহেলা করা হচ্ছে

এমনটা যদি হয় যে অফিসে আপনাকে আর পাত্তা দেওয়া হচ্ছেনা বা আপনার কোন কাজ নিয়ে কেউ আগ্রহী নয় তাহলে একটু সতর্ক হতে হবে। আপনি কি করছেন না করছেন, আপনার কাজ কেমন চলছে সেগুলো নিয়ে কারোরই কোন মাথাব্যথা না থাকাটাকে তাই সাবধানতার সাথেই বিবেচনায় রাখুন।

৯. কাজের জন্য আর আগের মতো প্রশংসা পাচ্ছেন না

সাধারণত প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো কর্মী ভালো কোনো কাজ করলে তাকে সাধুবাদ জানানো, তাকে প্রশংসা করা হয়। তা সে যত ছোট কাজই হোক না কেন। কেননা এতে কর্মী উৎসাহ পান এবং সেই অনুপ্রেরণাতে সামনে আরোও ভালো কিছু করতে পারেন। যখন দেখবেন আপনি ভালো কোনো কাজ করা সত্ত্বেও তার স্বীকৃতি পাচ্ছেন না, তখন সেটাকে কখনোই হালকাভাবে নেবেন না।

আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ... 



জনপ্রিয়