চীনে সরকার বেশীরভাগ ওয়েবসাইট নিষিদ্ধ করে রেখেছেন। শুধুমাত্র তারা যে ওয়েবসাইট প্রয়োজন মনে করেন সেগুলোই চালু রেখেছেন... চীনে সরকার বেশীরভাগ ওয়েবসাইট নিষিদ্ধ করে রেখেছেন। শুধুমাত্র তারা যে ওয়েবসাইট প্রয়োজন মনে করেন সেগুলোই চালু রেখেছেন...

জনপ্রিয় ওয়েবসাইট গুলো কেনো বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা জেনে অবাক হবেন!

ইন্টারনেট এমন একটা গুরুত্ব আমাদের জীবনে এই মুহূর্তে ধারণ করছে যা ছাড়া আমরা এক মুহূর্ত কল্পনা করতে পারে না। যেকোনো সামান্য থেকে অসামান্য বিষয় সম্পর্কে আমরা ইন্টারনেটে জানার চেষ্টা করি। ইন্টারনেট এমন একটি প্লাটফরম যেখানে সকল ধরনের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক তথ্য রয়েছে। চাইলেই যে কেউ ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেভালো জ্ঞান লাভ করতে পারে আবার চাইলেই যে কেউ অপব্যবহারের মাধ্যমে খারাপ জ্ঞান অর্জন করতে পারেন। আমরা আজ আপনাদের জানাবো সেই সকল ওয়েবসাইট সম্পর্কে যেগুলো বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 

১০. উইকিপিডিয়া

http://thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/10/op-62.jpg

http://thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/10/op-62.jpg

বহুল জনপ্রিয় ওয়েবসাইট উইকিপিডিয়া বর্তমানে তুর্কিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মূলত উইকিপিডিয়াতে এমন দুটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল যেটাতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তুরস্ক জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে। যখন এটা তুর্কি সরকারের নজরে আসে তারা উইকিপিডিয়ার অথরিটিকে এই নিবন্ধ গুলো মুছে দিতে বলেন। কিন্তু উইকিপিডিয়ার অথরিটি তাদের প্রকাশিত নিবন্ধ মুছে দেয়নি। এর ফলশ্রুতিতে তুর্কি সরকার তাদের দেশে উইকিপিডিয়া নিষিদ্ধ করেছেন।

৯. Jw. Org

http://thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/10/op-61.jpg

http://thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/10/op-61.jpg

রাশিয়ানরা দাবি করেছে যে উল্লেখিত ওয়েবসাইট থেকে চরম ঘৃণা সম্বলিত উক্তি ছড়ানো হচ্ছে। পরবর্তীতে সরকার বিষয়টিতে নজরদারি করে দেখতে পান যে এই ওয়েবসাইট থেকে এ ধরনের নেতিবাচক উক্তি ছড়ানো হচ্ছে যাতে দেশের শান্তি সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে। এবং দেশে পরিপূর্ণ শান্তি এবং ভাল কর্ম বজায় রাখতে রাশিয়াতে এই ওয়েবসাইটটি নিষিদ্ধ করা হয়।

৮. স্কাইপ, স্ন্যাপ চ্যাট, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম এবং ফেসটাইম

https://fm.cnbc.com/applications/cnbc.com/resources/img/editorial/2018/05/02/105178041-phone_w_skype_apps.530x298.jpg?v=1525271514

https://fm.cnbc.com/applications/cnbc.com/resources/img/editorial/2018/05/02/105178041-phone_w_skype_apps.530x298.jpg?v=1525271514

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এই সকল যোগাযোগের মাধ্যম গুলো কে নিষিদ্ধ করে বাকস্বাধীনতাকে সীমিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার মূলত তাদের নিজস্ব টেলিকম সেবা যাতে অধিবাসীরা ব্যবহার করেন সে বিষয় নিশ্চিত করতে এ সকল যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করেছেন।

৭. ভিমিও

http://thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/10/op-59.jpg

http://thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/10/op-59.jpg

ভিমিও নামের ওয়েবসাইটে কিছু উলঙ্গ এবং ছোট কাপড় পরিহিত নারীদের ভিডিও ছিল। এবং এই অপরাধে ইন্দোনেশিয়াতে এই ওয়েবসাইটটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। যদিও ভিমিওতে অসংখ্য শিক্ষামূলক ভিডিও ছিল কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার সরকারের সেগুলোতে কোন কিছু যায় আসে না। যেহেতু তারা নগ্নতাকে প্রোমোট করেছে তাই তাদের ওয়েবসাইট ইন্দোনেশিয়াতে বন্ধ করা হয়েছে।

৬. টেলিগ্রাম এবং ইনস্টাগ্রাম

http://thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/10/op-58.jpg

http://thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/10/op-58.jpg

ইরান টেলিগ্রাম এবং ইনস্টাগ্রাম নামক ওয়েবসাইটগুলো স্বল্প সময়ের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ সকল সাইট ব্যবহারকারী মূলত সরকারবিরোধী আন্দোলনের ডাক দেয় যেটা সরকারকে এই সাইট গুলো বন্ধ করতে বাধ্য করেছিল।

৫. Archive.org

http://thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/10/op-56.jpg

http://thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/10/op-56.jpg

রাশিয়ার অথরিটি এই ওয়েবসাইটটিতে একটি নাশকতামূলক ভিডিও খুঁজে পেয়েছেন। যেখানে মূলত তারা ইসলামিক স্টেট বা আইএস এর প্রচারণা চালায়। আর এই একটি ভিডিওর উপস্থিতির কারণে পুরো রাশিয়াতে এই ওয়েবসাইটটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

৪. প্রায় সব ওয়েবসাইট নিষিদ্ধ

http://thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/10/op-56.jpg

http://thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/10/op-56.jpg

চীনে শুধুমাত্র মানুষ উইকিপিডিয়া চেনে। তারা কখনো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম যেমন ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ এ গুলো শোনেন নি। চায়নার নিজস্ব সাইবার সেনসর্শিপ ডিপার্টমেন্ট নামে একটি আলাদা স্বতন্ত্র বিভাগ রয়েছে যারা শুধুমাত্র যে সকল সাইট উপকারী সেগুলোকেই দেশের মানুষের ব্যবহারের স্বার্থে চালানোর অনুমতি দেন।

৩. টেলিগ্রাম, অ্যামাজন ক্লাউড এবং গুগল ক্লাউড

https://www.azuka.co.za/wp-content/uploads/2018/01/whatsapp-vs-telegram-azuka-telegram-e1526976307802.jpg

https://www.azuka.co.za/wp-content/uploads/2018/01/whatsapp-vs-telegram-azuka-telegram-e1526976307802.jpg

রাশিয়া সন্দেহ প্রকাশ করেছিল যে জঙ্গিরা টেলিগ্রাম এর ব্যবহারের মাধ্যমে কোন আক্রমণের পরিকল্পনা করছে। এবং এ কাজের জন্য জঙ্গিরা অ্যামাজন ক্লাউড এবং গুগল ক্লাউড এর সার্ভার ব্যবহার করছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় চিন্তা করে সরকার এই তিনটি ওয়েবসাইটকে ই বন্ধ করে দিয়েছেন।

২. রেড্ডিট

https://logos-download.com/wp-content/uploads/2016/06/Reddit_logo_full_1.png

https://logos-download.com/wp-content/uploads/2016/06/Reddit_logo_full_1.png

এই ওয়েবসাইটে থেকে মানুষকে বিভিন্ন উপায়ে সাইকেডেলিক মাশরুম উৎপাদনের পদ্ধতি শেখানো হতো। এ ধরনের মাশরুম গুলো ক্ষতিকর এবং বিভিন্ন দেশে অবৈধ। আরে জন্য রাশিয়ান সেনসর্শিপ এই সাইটটিকে তাদের দেশে ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন।

১. ইউটিউব

https://i.ytimg.com/vi/OZIMVPCa3F8/maxresdefault.jpg

https://i.ytimg.com/vi/OZIMVPCa3F8/maxresdefault.jpg

সবচাইতে জনপ্রিয় ভিডিও সাইট ইউটিউবে "the Innocence of Muslims" নামে একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের বিতর্কিত চলচ্চিত্র প্রকাশিত হয়। এবং এই চলচ্চিত্রটির বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলো থেকে আপত্তি জানানো হয় এবং পরবর্তীতে এ সকল মুসলিম দেশে ইউটিউব সাইটটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। মূলত ইরান, সুদান, সাউথ সুদান, তুর্কি, সিরিয়া এবং পাকিস্তানে ইউটিউব নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। যদিও এদের কিছু কিছু দেশ ইউটিউব এ অন্য আরেকটা ভার্শন এই অপরাধের জন্য নিষিদ্ধ করেছিলেন। এখানে আরেকটি বিষয় মনে রাখা উচিত সেটা তো চায়নাতে ও কিন্তু ইউটিউব নিষিদ্ধ।

আমাদের আয়োজন কেমন লাগলো বন্ধুরা? যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে আমাদের পেজে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার দিয়ে সাথেই থাকুন। সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ...



জনপ্রিয়