ঘুমানোর সময় আপনার শরীরে যে ইন্টারেস্টিং বিষয়গুলো ঘটে!  ঘুমানোর সময় আপনার শরীরে যে ইন্টারেস্টিং বিষয়গুলো ঘটে!

আপনি যখন ঘুমান তখন আপনার এই উত্তেজনাপূর্ণ বিষয়গুলো সংঘটিত হয়!

আজকে আমরা কিছু আকর্ষণীয় বিহশয় তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেটা হল ঘুমানোর সময় আপনার শরীরে কি ঘটে! ঘুম আমাদের একটি অত্যন্ত জরুরী জৈবিক চাহিদা। অনেকেই আছেন যারা ঘুমটাকে বেশি গুরুত্ব সহকারে দেখেন না। মনে করেন ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করা হয়। অন্যদিকে এমন অনেকেই আছেন যারা বেশি ঘুমাতে পছন্দ করেন। ঘুম বেশি বা কম যেটাই হোক না কেন আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বেশি ঘুমানো, কম ঘুমানো, অনিদ্রা, ঘুম পাতলা হওয়া এইসকল ঘুম সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আমাদের শরীরে অনেক উত্তেজনাপূর্ণ বিষয়গুলো সংঘটিত হয়ে থাকে! 

চলুন তাহলে ঘুমানোর সময় শরীরে সংঘটিত হওয়া আকর্ষণীয় বিষয়গুলো দেখে আসি! 

 

১. আপনার পেশী প্যারালাইজড হয়ে যায়

© hongkait

© hongkait

আপনি যখন REM রেম বা(র‍্যাপিড আই মুভমেন্টে) ঘুমান, অর্থাৎ নিবিড় ঘুমে যান তখন আপনার অঙ্গগুলোর পেশী সম্পূর্ণরূপে প্যারালাইজড হয় এবং সাময়িকভাবে নড়াচড়া করা সম্ভব হয় না।  

ঘুমের একটি ব্যাধি রয়েছে যা এই প্যারালাইসিসকে জাগ্রত হওয়ার কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের জন্য পরিচালিত করে। এটা সাধারণত নারকোলেপসি রোগীরা যখন ঘুম থেকে জেগে উঠার পর চোখ খুলে তখন এই ভয়ঙ্কর অনুভূতিটা অনুভব করেন।

 

২. আপনার চোখ পূর্ণ গতিতে নড়াচড়া করে

© Flikr

© Flikr

ঘুমের সমস্ত ধাপগুলো আপান্র শরীর ও মস্তিষ্ককে সুস্থ এবং স্বাচ্ছন্দ্যে রাখতে সহায়তা করে। ঘুমের পাঁচটি ধাপ রয়েছেঃ প্রতিটি ধাপ পূর্বের ঘুমের ধাপের চেয়ে গভীর হয় এবং আমরা যখ পাঁচটি ধাপ অতিক্রম করি তখন চক্রটি আবার শুরু হয়। শেষের ধাপটি রেম, যা সর্বাধিক সক্রিয় এবং ঘুমের ৬০ বা ৯০ মিনিট পর শুরু হয়। এই পর্যায়ে আপনার চোখ পূর্ণ গতিতে এবং সামনের দিকে এগিয়ে যায়। আপনি এটা জানতে পারবেন না কারণ আপনার মন সেইসময় আপনার স্বপ্নের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে।

 

৩. একটি গ্রোথ হরমোন নিঃসৃত হয়

© Babynameslog

© Babynameslog

এইচজিএইচ হরমোন হিউম্যান গ্রোথ হরমোন নামে পরিচিত, এটা আপনার হাড়, পেশী এবং টিস্যু পুনর্জন্মের জন্য দায়ী। আপনি যখন ঘুমান, তখন এই পদার্থের উৎপাদন আপনার শরীরের উপর সক্রিয় থাকে। এটা ক্ষত নিরাময় করতে এবং কোষ পুনর্নবীকরণে অবদান রাখে। আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন এই হরমোন আমাদের শারীরিক বৃদ্ধিসহ অন্যান্য কাজে প্রভাব বিস্তার করেছে। এই কারণে, আমরা বলতে পারি যে আমরা যখন ঘুমাই তখন আমরা লম্বা হই।  

 

৪. আপনার গলা সংকুচিত হয়ে যায়

© b   © yrdie

© b © yrdie

আপনি যখন ঘুমান, তখন ঘুম থেকে জেগে উঠলে পেশীগুলি আপনার গলা ধরে রাখে এবং আপনার গলার আকার হ্রাস পায়। এটা গভীর নাক ডাকার একটা কারণ। এছাড়াও নাক ডাকার অন্যান্য কারণ রয়েছে।  

 

৫. আপনি আপনার দাঁতে দাঁত ঘষেন

© AliCPhotography

© AliCPhotography

অনেকেরই রাতে ঘুমের ঘোরে দাঁতে দাঁত ঘষার অভ্যাস আছে, এই ঘটনাকে ব্রাক্সিজম বলে। এটা প্রত্যেকের সাথে ঘটে না, কিন্তু যারা রাতে ঘুমানোর সময় তাদের দাঁতে দাঁত ঘষার পর শক্তিশালী চোয়ালের ব্যথা নিয়ে জেগে উঠতে পারে।

 

৬. আপনি স্বাভাবিক যৌন উত্তেজক অনুভব করেন

brightside

brightside

পুরুষ এবং নারী উভয়ের ক্ষেত্রে ঘুমের সময় স্বাভাবিক যৌন উত্তেজক অনুভব হতে পারে। এই ঘটনাটি ঘুমের মধ্যে দ্রুত চোখের নড়াচড়ার সময় ব্রেইনের চরম কার্যকলাপের কারণে হয়ে থাকে। যার অর্থ আপনার ব্রেইনের জন্য আরো অক্সিজেনের দরকার হয়, অন্যথায় রক্তপ্রবাহ দ্রুত হবে। পরবর্তীতে এটা বৃদ্ধি পেয়ে আপনার শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে প্রভাবিত করে, যার ফলে যৌন হরমোনগুলি সক্রিয় হয়।  

 

৭. আপনার মস্তিষ্ক সংশ্লেষিত তথ্য প্রকাশ করে এবং গল্প তৈরি করে

© Ryanjames

© Ryanjames

আমাদের স্বপ্ন কেন এবং কিভাবে তৈরি হয় তা এখনো বৈজ্ঞানিক রহস্য রয়ে গেছে। আজ আমরা জানি যে, আমাদের ব্রেইন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যা ঘটছে এবং আমাদের গভীর অবচেতন মনে উপস্থিত স্মৃতি থেকে স্বপ্নের সৃষ্টি হয়। অতএব, সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাগুলো আমরা বহু বছর ধরে সংগৃহীত তথ্যের সাথে একত্রিত করিঃ স্মৃতি, আতঙ্ক, আবেগ এবং অনুভূতিগুলো রহস্যময় এবং হাস্যকর স্বপ্ন তৈরি করে।

 

৮. আপনি হঠাৎ বিস্ফোরণ বা জোরালো শব্দ শুনতে পারেন

© mymodernmet

© mymodernmet

এক্সপ্লোডিং হেড সিন্ড্রোম একটা বিরল ঘটনা, কিন্তু এটা ঘটতে পারে। এই ঘটনাটি ঘটলে গভীর ঘুমের মধ্যে হঠাৎ অস্বাভাবিক জোরে কোন শব্দে জেগে উঠে। অনেকের এই ধরনের সমস্যা রয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ ভাবেন আসলেই শব্দ হয়। কিন্তু এটি একটি ঘুম সম্পর্কিত রোগ। যে শব্দটির কারণে ঘুম ভেঙ্গে যায় সেটি আর কোথাও নয়, রোগীর মাথার ভেতরেই হয়ে থাকে। খুব অদ্ভুত এই রোগটি বেশি ঘুমানোর কারণে হয়ে থাকে আর এটা সাধারণত ৫০ বছরের পরে বেশি হয়।

 

৯. আপনার ব্রেইন পুনর্নির্ধিত করে এবং নিজে নিজে বিষাক্ত বিষয় মুছে ফেলে

© theinspirationgrid

© theinspirationgrid

রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন যে, আপনি যখন ঘুমান তখন আপনার ব্রেইন দিনের বেলায় যে খারাপ অভিজ্ঞতা লাভ করে তা বের করে দেয়। পরিমিত পরিমাণে গভীর ঘুম মানুষের মস্তিষ্ক থেকে আবর্জনা দূর করে মস্তিষ্ককে সতেজ করে তোলে। গবেষনায় আরো জানা গেছে, নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে ঘুমালে মস্তিষ্ক থেকে ক্ষতিকর উপাদান সহজে দূর হয়।

মানুষের মস্তিষ্ক স্বকীয় প্রক্রিয়ায় নিজেকে বিশুদ্ধ করে। একে বলা হয় গ্লিমফ্যাটিক সিস্টেম। এই প্রক্রিয়ায় অ্যামিলয়েড বেটা এবং টাউ প্রোটিনের মত অনেক ক্ষতিকর উপাদান মস্তিষ্ক থেকে বের হয়ে যায়। এছাড়া প্রয়োজনীয় উপাদানগুলিকে জমা করে এবং তাদের সংযোগগুলিকে পুনর্নবীকরণ করে।

 

১০. ঘুমের মধ্যে কথা বলা

Zee News

Zee News

আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছে যারা ঘুমের মধ্যে কথা বলে। এটা কিছু কিছু মানুষের থেকে থাকে। তবে সে ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারে না বা পরে তার আর মনেই থাকে না যে কি কথা সে বলছে ঘুমের ঘোরে।

 



জনপ্রিয়