মেকআপ নিষিদ্ধ পাশাপাশি সামান্য অপরাধের জন্য ভয়ানক শাস্তির বিধান রয়েছে উত্তর কোরিয়ার বিদ্যালয়গুলোতে..... মেকআপ নিষিদ্ধ পাশাপাশি সামান্য অপরাধের জন্য ভয়ানক শাস্তির বিধান রয়েছে উত্তর কোরিয়ার বিদ্যালয়গুলোতে.....

দক্ষিণ কোরিয়ার বিদ্যালয়ের অদ্ভুত নিয়মগুলো যে কাউকে অবাক করবে!

সুপ্রিয় বন্ধুরা দক্ষিণ কোরিয়া অনেক বিষয়ের জন্য বিখ্যাত। গাংনাম স্টাইল নামক জনপ্রিয় গানটি তারাই আমাদের দিয়েছে। এবং আজ এই গানটা প্রত্যেকটা পার্টিতেই বাজানো হয়। পাশাপাশি বিতর্কিত নেতা কিম জং উনের সারা বিশ্বে সব চাইতে বেশি আইকিউ স্কোরের রেকর্ড হয়েছে।বিদ্যালয় সাধারণত ছাত্রছাত্রী বান্ধব হয়ে থাকে কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার বিদ্যালয়গুলো একদমই অদ্ভুত। দক্ষিণ কোরিয়ার বিদ্যালয়ের অদ্ভুত নিয়মগুলো যে কাউকে অবাক করবে। আমরা আজকে তাদের স্কুলে প্রচলিত ৮ টি অদ্ভুত নিয়ম সম্পর্কে জানব।

১. শনিবার ক্লাস হয়

https://scontent-lhr3-1.cdninstagram.com/vp/1a733fbcfdf9de4672ea2412e0533545/5CD6377F/t51.2885-15/e35/47582533_786885368336638_7727020061569494028_n.jpg?_nc_ht=scontent-lhr3-1.cdninstagram.com&ig_cache_key=MTk0NzkxMzEyNzQyNTQwODQ2MQ%3D%3D.2

যেখানে পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই শনিবার বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয় এবং শনিবার সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের যথারীতি অন্যান্য দিনের মতো শনিবারেও ক্লাস হয়। যেহেতু অনেক পিতামাতা এবং শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি অস্বাভাবিক তাই সে দেশের সরকার বিষয়টাকে কিঞ্চিৎ পরিবর্তন করেছে। এখন ছাত্র ছাত্রীদের প্রতি মাসে অন্তত দুটি শনিবারে ক্লাস করতে হয়। কিছু তাতে কি ছাত্রছাত্রীরা এ বিষয়ে মোটেও খুশি নয়।

২. স্কুলের পোশাক

thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/03/2-10.png

thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/03/2-10.png

প্রত্যেকটা বিদ্যালয়ের ই পোশাকের নিয়ম কানুন রয়েছে। যাইহোক দক্ষিণ কোরিয়া ছাত্র-ছাত্রীদের সকল ধরনের অলংকার এবং যেকোন সাজসজ্জা থেকে মুক্ত। তাদেরকে চেক করা হয় যে তারা কোন ধরনের অতিরিক্ত মেকআপ অথবা অলংকার পরিধান করেছে কিনা? এবং যেকোন ধরনের মেকআপ কিংবা অলংকার পরিধান করে বিদ্যালয়ে প্রবেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একটা অতি ক্ষুদ্র কানের দুল কিংবা নাকের দুল অথবা গলার চেইন ও আপনি পরিধান করতে পারবেন না। এমনকি ঠোঁটে যদি কোন ধরনের বাম কিংবা এ জাতীয় কিছু ব্যবহার করেন আপনি নিঃসন্দেহে বড় সমস্যায় পড়বেন।

৩. বাথরুম

thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/03/3-8.png

thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/03/3-8.png

এ বিষয়টা একেবারেই অদ্ভুত। যেখানে পৃথিবীর অন্যান্য সকল বিদ্যালয় আপনি বাথরুমে যেতে হলে শিক্ষক এর অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়াতে শিক্ষকের অনুমতি জরুরী না বরং শিক্ষার্থীদের নিজেদেরকেই বাথরুমে যাওয়ার জন্য ব্যক্তিগত টিস্যু পেপার নিয়ে যেতে হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়ে থাকে দক্ষিণ করে বেশিরভাগ বিদ্যালয়ের টয়লেটে পর্যাপ্ত পরিমাণ এর টিস্যু পেপার নেই।

৪. জুতা

thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/03/4-8.png

thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/03/4-8.png

আমরা জানি যে পৃথিবীর অন্যান্য সকল দেশে মানুষ বাড়িঘরে সাধারণত জুতা নিয়ে প্রবেশ করে না। আপনি অবাক হবেন দক্ষিণ কোরিয়াতে বিদ্যালয়গুলোতে জুতা নিয়ে শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করা নিষেধ। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জুতা বাহিরে রেখে আলাদা চিত্র চপ্পল থাকে সেগুলো পরিধান করে শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করতে হয়। নিয়মটা অদ্ভুত হলেও এটা শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট আরামদায়ক।

৫. আবর্জনা

thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/03/5-8.png

thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/03/5-8.png

আমরা জানি যে জাপানের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বিদ্যালয় এর আঙিনা এবং শ্রেণীকক্ষগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন। দক্ষিণ করে এক্ষেত্রে ব্যাপারটা একদমই ভিন্ন পাশাপাশি বিরক্তিকর। সেখানে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শুধুমাত্র স্কুলের ভেতরে শ্রেণিকক্ষে ময়লা পরিষ্কার করানো হয় না বরং বিদ্যালয় এর বাইরের কোন মহিলা ও ছাত্র ছাত্রীদের দিয়ে পরিষ্কার করানো হয়।

৬. বাড়তি পাঠ

thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/03/6-8.png

thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/03/6-8.png

আপনাদের কিংবা আমাদের বিদ্যালয় গুলোর মত দক্ষিণ কোরিয়ার বিদ্যালয়গুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের সকাল ৮.৩০ থেকে বিকেলের আগ পর্যন্ত পর্যন্ত ক্লাস করতে হয়। কিন্তু সেখানে আরও একটা ঐতিহ্য বিদ্যমান আর তা হচ্ছে ক্লাস শেষ হওয়ার পরে শিক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয় যে ক্লাসগুলো রাত ৯ টা পর্যন্ত চলতে পারে। এবং সেখানকার ছাত্র-ছাত্রীদের হাজার হাজার টাকা বাড়তি ক্লাস এবং টিউশন এর জন্য খরচ করতে হয়।

৭. কলেজ জীবন

thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/03/9-tile.jpg

thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/03/9-tile.jpg

আমরা স্বাধীনতা মনে করে থাকি বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে উঠলে অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করা যায় বিদ্যালয়ে থাকতে উপভোগ করা যায় না। যেমন ইচ্ছা মত ক্লাসে যাওয়া বা ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়া কিংবা ক্লাসে ঘুমিয়ে পড়া ইত্যাদি কলেজের ছাত্রীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপভোগ করে থাকেন। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া সম্পূর্ণ এর ভিন্ন। আপনি বিশ্বাস করবেন না যে, ক্লাস চলাকালীন সময়ে হালকা ঘুম কিংবা হাই তোলার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের শাস্তি দেয়া হয়। এর কারণ হিসেবে তারা বলে থাকেন যে যখন ছাত্র ছাত্রী ক্লাসের প্রতি আগ্রহ হারায় কিংবা বিরক্ত হয় সে ক্ষেত্রে তারা এমনটা করে। তাই এরকম কাজকর্ম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আরো মজার বিষয় হচ্ছে আপনি ক্লাসের সময় কোন প্রশ্ন করতে পারবেন না? এর মানে বোঝায় আপনি প্রফেসরের জ্ঞান কে চ্যালেঞ্জ করছেন। যদি আপনার কোন প্রশ্ন থাকে ক্লাসের বাহিরে আলাদা সময়ে আপনাকে করতে হবে।

৮. শাস্তি

Internet

Internet

প্রত্যেকটা বিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট কিছু ঝামেলা তৈরি কারক এবং উৎপীড়ন থাকে। এবং এসকল ক্ষেত্রে সাধারণত অনেক কঠিন কোন সাজা দেয়া হয় না। আপনি শুনে অবাক হবেন দক্ষিণ কোরিয়াতে যদি কোন ছাত্র বা ছাত্রী অন্য কোন ছাত্র-ছাত্রীকে বিরক্ত করে কোন ভাবে তাহলে সে ক্ষেত্রে অপরাধীকে শারীরিক সাজা দেয়া হয়। বিশ্বের অন্যান্য সকল দেশে ছাত্র ছাত্রীদের শারীরিক শাস্তি দেয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেখানে দক্ষিণ কোরিয়া নিয়মিত অনুশীলন করে যাচ্ছে।

সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ! আমাদের আয়োজন সম্পর্কে কমেন্ট করতে ভুলবেন না কিন্তু। আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক ও শেয়ার দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। আপনাদের নিত্য নতুন অজানা বিষয় সম্পর্কে জানাতে ফাঁপরবাজ আর্টিকেল টিম বদ্ধপরিকর....



জনপ্রিয়