বেয়ার গ্রিলস একজন বিস্ময়কর মানবের নাম...  বেয়ার গ্রিলস একজন বিস্ময়কর মানবের নাম...

বেয়ার গ্রিলসের সম্পর্কে বিস্ময়কর এই তথ্যগুলো আপনাকে বিমোহিত করবে

বেয়ার গ্রীলস বর্তমান পৃথিবীতে এক অন্যতম জনপ্রিয় তারকার নাম। আমরা সকলেই তাকে চিনি। তার রোমাঞ্চকর ও অবাসযোগ্য স্থানে ভ্রমণ করে টিকে থাকার লড়াই ও কৌশলগুলো আমাদের মুগ্ধ করে। বেয়ার গ্রিলস এমন একজন ব্যক্তি যার সাথে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা থেকে শুরু করে বেন স্টিলার, স্টিফেন ফ্রাই, কেলি হোমস, জ্যাক এফ্রন সহ অনেক নামিদামি তারকা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার স্বাদ নিয়েছেন। আমাদের আজকের আয়োজনে আমরা বেয়ার গ্রিলস সম্পর্কে কিছু চমৎকার তথ্য আপনাদের জানাবো।

Yahoo

Yahoo

ছবি- বেয়ার গ্রিলসের সাথে ওবামা সারভাইভাল শোতে অংশগ্রহণ করেন..

১. বেয়ার গ্রিলস এর আসল নাম কি?  

Internet

Internet

১৯৭৪ সালে ৭ ই জুন গ্রিলস আইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে ডোনাঘাডি নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। আপনারা যেন অবাক হবেন তার আসল নাম এডওয়ার্ড মাইকেল গ্রিলস। প্রশ্ন হচ্ছে তাকে কেন বেয়ার গ্রিলস নামে ডাকা হয়? তার বোন লারা তার ডাক নাম হিসেবে বিয়ার বা বেয়ার নামটি দিয়েছিলেন। নামটা খুব ছোট এবং সহজ যার অর্থের সাথে তার বর্তমান কর্মকাণ্ডের যথেষ্ট মিল আছে। কারণ ভাল্লুক ও জঙ্গলে থাকে এবং বেয়ার জঙ্গলেই থাকে।

২. প্রশিক্ষণ

Internet

Internet

বেয়ার গ্রিলস বর্তমান পেশার আগে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীতে যুক্ত ছিলেন। যুদ্ধে আঘাতপ্রাপ্তদের চিকিৎসা পদ্ধতি, নিরস্ত্র অবস্থায় শত্রুপক্ষের সাথে লড়াই করা, কি করে কোন ভয়ানক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে গাড়ি চালাতে হয়, প্যারাশুটিং, তাৎক্ষণিক বোমা তৈরি, জঙ্গি যুদ্ধ থেকে শুরু করে আরো অনেক কঠোর প্রশিক্ষণ তিনি গ্রহণ করেছেন। তিনি বিমান বাহিনীতে কাজ করেছিলেন।

৩. দুর্ঘটনা

joydigitalmag.com

joydigitalmag.com

গ্রিলস একটা মারাত্মক দূর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। সামরিক বাহিনীতে থাকাকালীন সময় বেয়ার গ্রিলস দক্ষিণ আফ্রিকায় তার প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে প্যারাসুট জাম্পিং এর জন্য ১৯৯৬ সালে যখন সৈন্যবাহী বিমান থেকে লাফ দেন ঠিক মাটি থেকে ১৬,০০০ ফিট উপরে থাকাকালীন অবস্থায় প্যারাসুট ছিঁড়ে যায় এবং তিনি সোজা নিচে পড়ে যান। ভাবতে পারছেন ১৬ হাজার ফিট কতখানি উচ্চতার ব্যাপার? সেখান থেকে নিচে পড়ে বেয়ার গ্রিলসের মেরুদণ্ড ৩ টি টুকরায় ভেঙে যায়। তবে সৌভাগ্যবশত তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। ঘটনার দীর্ঘ ১৮ মাস পরে তিনি মাউন্ট এভারেস্টে আরোহণ করেন। আসলে কিছু মানুষ পৃথিবীতে মৃত্যুবরণ করতে আসে না বরং মৃত্যুকে চোখ রাঙাতে আসেন। বেয়ার গ্রিলস ঠিক তেমনি সাহসী একজন মানুষ।

৪. অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অর্জন

Internet

Internet

বেয়ার গ্রিলস পর্বত আরোহনের জন্য সবচাইতে কঠিনতম পর্বত আমা ডাবলাম নামক ভয়ংকর পাহাড়ের চূড়ায় আরোহন করতে সফল হয়েছিলেন যেখানে এর আগে অনেকেই অনেক বার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি। এমনকি স্যার এডমন্ড হিলারি কয়েকবার চেষ্টা করার পরে আশাহত হয়ে ফিরে এসেছিলেন। বেয়ার গ্রিলস হচ্ছে সবচাইতে কম বয়স্ক ব্রিটিশ কোন নাগরিক যে এই অসাধ্য কাজটা সম্পন্ন করতে পেরেছেন।

৫. অবিশ্বাস্য সাহায্য

Internet

Internet

আসলে বেয়ার গ্রিলসের রক্তের মধ্যে অ্যাডভেঞ্চার মিশে আছে। তিনি একবার তার বন্ধুর জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে লন্ডনের টেমস নদীতে নৌকাবাইচ করেছিলেন। এ সময় তিনি পুরোপুরি উলঙ্গ ছিলেন এবং যে নৌকাটা তে তিনি এই সফর করেছিলেন সেটা ছিল বাসার গোসল করার একটা নিজস্ব তৈরি বাথটাব। এই কাজ করার জন্য তিনি যেই অর্থ পেয়েছিলেন সেটা পুরোটাই তিনি তার বন্ধুকে দিয়ে দিয়েছিলেন। যে বন্ধুর কথা আমরা এখানে বলছি মূলত সেই বন্ধু একটা অ্যাডভেঞ্চার করতে গিয়ে তার দুটো পা হারিয়েছিলেন।

৬. বিশ্ব রেকর্ড

Internet

Internet

মেঘের মধ্যে ভেসে রাতের খাবার খাওয়া কতটা স্বপ্নময় হতে পারে? এরকম ঘটনা হয়তো আমরা স্বপ্ন দেখে থাকতে পারি। কিন্তু গ্রিলস তার এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করেছেন। তিনি ভূপৃষ্ঠ থেকে সর্বোচ্চ উপরে শূন্যে রাতের খাবার খাওয়ার পার্টি করে বিশ্ব রেকর্ড করেছেন। এটা একটা এয়ার বেলুনে চড়ে সম্পন্ন করা হয়েছিল। এবং এই ডিনারের আয়োজন করা হয়েছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৭৬,০০০ মিটার উপরে শূন্যে।

৭. ভারতের প্রতি আলাদা ভালোবাসা

Internet

Internet

বেয়ার গ্রিলস ছোটবেলা থেকেই চেয়েছিলেন ভারতের আর্মিতে জয়েন করতে প্রচন্ড রকম আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে হলেও সত্যি তাকে ইন্ডিয়ান আর্মিতে যোগ দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি। এর কারণ ছিল নাগরিকত্ব জটিলতা। বেয়ার গ্রিলস বৃটিশ নাগরিক তাই তাকে ভারতের নাগরিকত্ব না থাকায় ভারতের সেনাবাহিনীতে ঢোকার সুযোগ দেয়া হয়নি।

৮. শো জনপ্রিয়তা

http://thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/10/man-vs-wild.jpg

http://thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/10/man-vs-wild.jpg

বেয়ার গ্রিলসের ডিসকভারি চ্যানেলে পরিচালিত "ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড" পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় একটি টিভি শো। এস এর মাধ্যমে বেয়ার গ্রিলস জায়গা করে নিয়েছেন ১২০ কোটি মানুষের মনে। ডিসকভারি চ্যানেলে প্রচারিত এই অনুষ্ঠানটি পৃথিবীর ২০ টি দেশে প্রায় ১.২ বিলিয়ন দর্শক নিয়মিত দেখেন। এটা আমেরিকার জাতীয় ক্যাবল টিভির সবচাইতে বেশি আয় করা টিভি শো।

৯. সাহসী আহার

http://thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/10/eat.jpg

http://thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/10/eat.jpg

আমরা সাধারণত রান্না করার পরে সামান্য কোন কিছু সামান্য কাঁচা থাকলেও সেটা খেতে পারি না এমনকি বদ হজম হয়। কিন্তু এই একজন ব্যক্তি যার কাছে কোন খাদ্য ই অখাদ্য নয় বরং সকল অখাদ্য-খাদ্য তার খাদ্য। তার আহারের তালিকায় কিছু বমি উদ্রেককারী জিনিস রয়েছে যেমন- কাঁচা ছাগলের অন্ডকোষ, জীবন্ত বিষাক্ত সাপ, মরা চামড়ি গাই এর বরফে সংরক্ষিত চোখ, উটের নাড়িভুঁড়ির রস, বিশাল জীবন্ত মাকড়সা, চর্বিযুক্ত শুয়োপোকা এবং ভয়ানক স্করপিয়ন অন্যতম।

১০. আগ্রহের ক্ষেত্র

http://thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/10/bgb.jpg

http://thehumornation.com/wp-content/uploads/2018/10/bgb.jpg

আপনাদের অবাক হবেন বেয়ার গ্রিলস শুধুমাত্র ডিসকভারির শো করেই ক্ষান্ত হননি। তিনি এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপযোগী করে কমপক্ষে ১৪ টি টিকে থাকার উপায় সম্বলিত বই এর সিরিজ লিখেছেন। মিশন সারভাইভাল শিরোনামের অধীনে এ সকল সিরিজের বইগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি একজন স্কাউট চিফ, এ্যাডভেঞ্চারার, মোটিভেশনাল স্পিকার, সফল টিভি উপস্থাপক।

 

বেয়ার গ্রিলসকে আপনাদের কেমন লাগে আমাদের জানাবেন কিন্তু। আর আমাদের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ...



জনপ্রিয়