ইমোশনালি আহত হলে নারীদের যে ছয়টি বিষয়ের দরকার হয়  ইমোশনালি আহত হলে নারীদের যে ছয়টি বিষয়ের দরকার হয়

ইমোশনালি আহত হলে নারীদের যে ছয়টি বিষয়ের দরকার হয়

আপনি যখন আপনার প্রিয় নারীকে মানসিকভাবে কষ্ট পেতে দেখেন তখন আপনি কি করেন? আপনি হয়তো তার সঙ্গী/ভাই/বোন/অভিভাবক/বন্ধু এবং আপনি হয়তো তাকে সাহায্য করার জন্য চেষ্টা করেন, কিন্তু পাচ্ছেন না এবং এতে আপনিও হয়তো ভেঙ্গে পড়ছেন। কিন্তু কি করা উচিত তা জানা কঠিন। 

তাই আজকে আমরা মানসিকভাবে আহত হলে নারীদের যে ছয়টি বিষয়ের দরকার হয় সে সম্পর্কে আপনাদের জানাবো।  

 

১. তার ব্যথাটাকে তার মতো করেই বুঝা উচিৎ

তিনি যে যন্ত্রণাটা ভোগ করছেন সেটি একান্তই তার - আপনার জীবনের অভিজ্ঞতার সাথে সেটা তুলনা করা ঠিক নয়। কারণ এটা আপনার বিষয় না।

আপনার যা করা উচিৎ

কথা বলার জন্য বা তার কথোপকথনকে নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে তার বিষয়টিকে তার মতো করে রাখতে দিন, এমনকি চুপ করে বসে থাকার মাধ্যমেও। 

 

২. তাকে কথা বলতে বাধ্য করবেন না 

তাকে কথা বলতে উৎসাহিত করতে পারেন কিন্তু সে যদি কথা বলতে না চায় তাহলে তাকে জোর করবেন না কথা বলতে।

আপনার যা করা উচিৎ

তাকে কথা বলা শুরু জন্য একটা পরিবেশ তৈরি করুন। একসাথে শান্ত সময় কাটানোর মাধ্যমে তাকে কথা বলতে উৎসাহিত করুন। এমনকি আপনার যদি মনে হয় যে তার কষ্ট চেপে রাখা তার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তারপরেও সে কখন তার কষ্টের কথা খুলে বলবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্ব আপনার না। কিছুদিন ধৈর্য্য ধরুন, কিছুদিন সময় লাগতে পারে!

 

৩. যার কারণে এই অবস্থা তার সাথে আপনার রাগ প্রকাশ করবেন না

সম্ভবত তার ব্যথা অন্য ব্যক্তির সাথে সরাসরি সংযুক্ত।

এই সময় আপনার তার পক্ষ নেওয়া উচিৎ, তবে যাই হোক প্রতিশোধের দেবদূত হয়ে উঠাটা অতিরঞ্জিত হয়ে যায়। যদি প্রতিশোধ নিতেই হয়, তবে সে তা করে নিবে- এটা তার কাছ থেকে কেড়ে নিবেন না।

 

৪. তার আচরণ বিচার করবেন না

কষ্টের সময় তার জিনিস ভেঙ্গে ফেলতে মন চাইতে পারে। তাকে গিয়ে সেটা করতে বলেন- শুধু জিনিসই তো।তার হয়তো কোন জুয়েলারি পুকুরে ফেলে দিলে বা কোন জিনিস ছুড়ে ফেলে দিলে কষ্ট হালকা হতে পারে। যাইহোক, সে নিজেকে যেভাবে প্রকাশ করছে আপনার ঠিক সেভাবেই দাঁড়ানো উচিৎ নয় (যতক্ষণ পর্যন্ত না সে বাড়াবাড়ি করে)। 

আপনি যে তাকে যেকোন অবস্থাতেই ভালবাসেন তা তাকে বুঝানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করুন। 

 

৫. সাগ্রহে আলোচনা করবেন না

কেউ কষ্ট পেলে অনেকেই হয়তো বলে থাকে যে, ‘মানুষগুলো কেমন’ বা ‘আপনাকে অবশ্যই এটা করা উচিৎ। এটা বলার মধ্য দিয়ে আপনি হয়তো ভাল কিছু মিন করছেন কিন্তু আপনি তাকে সাহায্য করছেন না। জানি আপনি তার জন্য কিছু করতে চাইছেন, কিন্তু তাকে মুখে বলা বা বহুব্যবহৃত উক্তি না বলে শুধু তার সঙ্গ দেওয়াটা ভালো।      

আপনার সেখানে সাপোর্ট দেওয়ার ফর্ম হিসেবে থাকা উচিৎ, কিন্তু তার ব্যথাটা তার মতো করে কাটিয়ে উঠতে দিন। এটা জীবনের একটা অংশ।

 

৬. পুনরায় সর্বনাশ করবেন না

মানে, তাকে এমন কোন মুভি দেখাবেন না যেখানে কেউ একই ধরনের আঘাত পেয়েছে। আপনার হয়তো মনে হতে পারে সেখান থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখার আছে, কিন্তু যখন সে মনে আঘাত পায় তখন এটা করাটা জরুরি নয়। কারণ সে মনে মনে পুরোনো কোনো কালে ফিরে গিয়ে আরো কষ্ট পেতে পারে। তার ব্রেকআপ হয়ে যাওয়ার পর তার সামনে ব্রেকআপের গানগুলো শুনবেন না। 

আপনার যা করা উচিৎ

আপনি তাকে ভাল কমেডি বা কিছু মজাদার বিষয় দেখিয়ে তার মনোযোগ অন্য দিকে নিয়ে যেতে পারেন।  

 

আপনি যখন আপনার প্রিয় নারীকে মানসিকভাবে কষ্ট পেতে দেখেন তখন আপনি কি করেন? কিভাবে তার মন ভাল করার চেষ্টা করেন? আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের কমেন্টে শেয়ার করে জানান। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। যেখানেই থাকুন যেভাবেই থাকুন ভাল থাকুন।  



জনপ্রিয়