লিকিয়ান রোমান্স এবং বরফযুগের আগ্রাসী শিকারি জনগোষ্ঠী....   লিকিয়ান রোমান্স এবং বরফযুগের আগ্রাসী শিকারি জনগোষ্ঠী....

পৃথিবীর ৬ টি রহস্যময় জনগোষ্ঠী যারা গবেষকদের এখনো ভাবাচ্ছে!

রহস্যজনক মানব গোষ্ঠী আমাদের পৃথিবীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। যাদের অনেকে কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছেন এবং অন্যরা নিজেদের সভ্য সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন রেখেছেন। আমরা যতই অনুসন্ধান করছি ততই এই মানুষের গল্প গুলো জটিল হচ্ছে। 

১. Y জনগোষ্ঠী

Photo credit: Sussi Bech

Photo credit: Sussi Bech

আমেরিকা ছিল মানবজাতির বিকাশের চূড়ান্ত স্থান। অনেকেই ধারণা পোষণ করেন যে, আমেরিকাতে আজ থেকে ১৫,০০০ বছর আগে বেরিং ল্যান্ড ব্রিজ হয়ে জন বিস্তার ঘটেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় ভিন্ন এক গল্পের জন্ম হয়েছে। প্রজনন বিদ্যা সাম্প্রতিক সময়ে এমন এক ধরনের ডি এন এ আবিষ্কার করেছেন যার সাথে আধুনিক অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসী এবং পাপুয়া নিউগিনির আদিবাসীদের ডি এন এর সাথে মিলে যায়। গবেষকরা এই ডিএনএর নাম দিয়েছেন  জনগোষ্ঠী 'Y'। এই জনবসতি স্থাপন যারা করেছিলেন তারা নৌকায় চড়ে আসেন নি। তারা বেরিং প্রণালী দিয়ে আলাদা আলাদা ভাবে এসেছিলেন। এবং গবেষকরা আরো জানান যে জনগোষ্ঠী Y এল ডি এন এ প্রাচীন এশিয়ানদের সাথে অনেকটা মিলে যায়।

২. রামাপাউ পাহাড়ি লোকজন

Photo credit: Credit Fred R. Conrad/The New York Times

Photo credit: Credit Fred R. Conrad/The New York Times

আমেরিকার নিউইয়র্ক শহর থেকে ৩০ মাইল দূরে নিউ জার্সিতে অবস্থিত অ্যাপালাচিয়ান পর্বত শ্রেণীতে রহস্যময় জনগোষ্ঠী বসবাস করে যাদের বলা হয় রামাপাউ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী। কেউ কেউ তাঁদের প্রকৃতিগতভাবে যাযাবর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এবং অন্যরা বলেছেন যে তারা হচ্ছে আলবিনোস যাদের জন্ম হয় একজন সার্কাসের অংশগ্রহণকারীর মাধ্যমে।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তারা হচ্ছে আসলে রামাপাউ লিনএপ ইন্ডিয়ান্স। যারা আসলে ভিন্ন দেশ থেকে পলায়ন কারি দাস এবং দাসী। এবং মজার হচ্ছে এখনো তারা তাদের নামের সাথে তাদের প্রভুর নাম ব্যবহার করে থাকেন। যেমন- ডি গ্রুট, ডি ফ্রেস, ভ্যান ডার ডন্ক এবং মান এসব নাম উপনাম হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। যদিও আমেরিকার বেশির ভাগ অধিবাসী তাদের সাদরে গ্রহণ করেন না।

৩. গুয়ানচেস

Flickr

Flickr

গুয়ানচেসরা মূলত ক্যানারি দ্বীপের বসবাসকারী আদিবাসী।মরক্কোর উপকূল থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে এই দ্বীপটি অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও তাদের উজ্জ্বল চোখ, স্বর্ণকেশী চুলের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিল। অনেকেই সন্দেহ করেন যে মরক্কোর প্রাচীন আদিবাসী বর্বরদের থেকেই এদের উৎপত্তি। তাদের মাতৃত্ব সংক্রান্ত ডিএনএর সারি - U6b বলতো আফ্রিকার মূল ভূখণ্ডে ডিএনএর এই গ্রুপটি অপরিচিত। কিন্তু তাদের ডিএনএ গঠনের দিক থেকে সবচাইতে বেশি মিলে যায় গ্রুপ- U6 ডিএনএর বর্বরদের সাথে।

০৩. লিকিয়ান রোমান্স

Photo credit: saporedicina.com

Photo credit: saporedicina.com

চীনের উত্তর-পশ্চিমে গোবি মরুভূমির প্রান্তে লিকিয়ান অবস্থিত। যেখানে অরণ্যে কিছু আদিবাসী বসবাস করেন যারা তাদের উজ্জ্বল চুল চোখ এবং লম্বা নাক এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। অনেকে দাবি করেন যে লিকিয়ানের এই আদিবাসীরা রোমের প্রাচীন সৈন্যবাহিনী থেকে পালিয়ে যাওয়া সৈন্য। ৫৩ খ্রিষ্টপূর্বে রোমানরা পার্থিয়ানদের সাথে ভয়ানকভাবে যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল। এবং তাদের অনেকেই পূর্বের দিকে পালিয়ে যায় পরবর্তীতে চীনের দ্যা হ্যান এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভারতের স্বর্ণ হিসেবে কাজ করে। সাম্প্রতিক সময়ের লিকিয়ানদের ওপর চালিত গবেষণায় এটা উঠে এসেছে যে তাদের ৬০% ককেশীয় বংশধর। কিন্তু রোমানদের এই যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়টি এখনো একটি রহস্য রয়ে গেছে।

০৪. বরফ যুগের আক্রমণকারী

Photo credit: L. Lang

Photo credit: L. Lang

অনেকে ধারণা পোষণ করেন যে ইউরোপে তিন ভাবে মানুষের আগমন হয়েছে - ১)শিকারি, ২) মধ্যপ্রাচ্যের কৃষক ৩) মেষপালক। মূলত এটাই ধারণা করা হয় যে, এই তিন ধরনের মানুষ এসেই এখানে আস্তে আস্তে জনবসতি স্থাপন করেছে। আরও এক ধরনের মানুষ এসছিল যা প্রজননবিদদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে। ১৪,৫০০ খ্রিষ্টপূর্বে পূর্বের শিকারি দলভুক্ত মানুষদের স্থলে আগ্রাসী শিকারি জনগোষ্ঠী স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল। এটা ঘটেছিল সর্বশেষ বরফ যুগের একেবারে শেষের দিকে, সে সময় যখন পৃথিবী দ্রুত উষ্ণ হতে লাগছিল।

০৫. হাজারা

 Photo credit: ISAF

Photo credit: ISAF

আফগানিস্তানের তৃতীয় বৃহৎ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হচ্ছে হাজারা যাদের শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নিধন করা হচ্ছে।তাঁরা মূলত সুন্নি নন বরং শিয়া। অনেকেই দাবি করেন হাজার হাজার পূর্ব এশিয়ানদের আকৃতি তারা মঙ্গল হর্ডে থেকে বংশানুক্রমিকভাবে পেয়েছেন। ১৯ শতকে তাদের জনগোষ্ঠীর অর্ধেকেরও বেশি হত্যা করা হয়েছে অথবা জোরপূর্বক নির্বাসনে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের প্রতি এই হুমকি এখনো বিদ্যমান কারণ তালেবানরা মনে করে তারা ভিনদেশী বিধর্মী। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় হাজারারা মূলত চেঙ্গিস খানের বংশধর। এবং কাবুলের জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছেন এই হাজারা গোত্রের লোকজন।

০৬. টোডা

Photo credit: Wikimedia

Photo credit: Wikimedia

ইন্ডিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত নীলগিরি পর্বত শ্রেণীতে রহস্যময় জনগোষ্ঠী বসবাস করে যাদেরকে টোডা জনগোষ্ঠী বলা হয়। অনেকেই বর্ণনা করেছেন যে গোরা উজ্জ্বল চোখ বিশিষ্ট টোডা জনগোষ্ঠীর সাথে প্রাচীন গ্রীকের মূর্তিদের চেহারা যথেষ্ট মিল রয়েছে। তারা স্কটল্যান্ড এর পার্বত্যাঞ্চল বাসীদের মতো এক ধরনের কাপড় পরিধান করে। ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন যে একটাই কাপড় যা শরীরে মোড়ানো রয়েছে। তাঁদের ভাষা দ্রাবিড়। তাদের প্রার্থনা সম্পর্কে যথেষ্ট রহস্যের জল ঘিরে রয়েছে। এটা এখনো জানা যায়নি যে তারা আসলে কোন ধর্ম অনুসরণ করে। তারা ঐতিহ্যগতভাবে বহু বিবাহের অনুসারী। নতুন একজন নারীকে পরিবারের সকল পুরুষ সদস্যদের সাথে বিয়ে দেয়া হয়। ব্রিটিশ দাও না কি মনে করেন যে তাঁরা এই টোডা সম্প্রদায় ইজরায়েলের হারিয়ে যাওয়া কোন উপজাতি কিংবা গ্রিক সিপরায়টসদের বংশধর।

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে বেশি বেশি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার দিয়ে সাথেই থাকুন। 



জনপ্রিয়