পৃথিবীর ৭ টি প্রাচীন গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক দেশ                  পৃথিবীর ৭ টি প্রাচীন গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক দেশ

পৃথিবীর ৭ টি প্রাচীন গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক দেশ

গণতন্ত্র শব্দটির অর্থ "জনগণের শাসন", কোন রাষ্ট্রের অথবা কোন সংগঠনের এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের নীতিনির্ধারণ বা প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমান ভোট বা অধিকার আছে। যদিও গণতন্ত্র শব্দটি সাধারণভাবে একটি রাজনৈতিক রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা হয় তবে অন্যান্য সংস্থা বা সংগঠনের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য, যেমন বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রমিক ইউনিয়ন, রাষ্ট্রমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। 

যদিও প্রাচীনতম গণতন্ত্রের দেশ হিসেবে দাবি করা দেশগুলো নিয়ে যথেষ্ট মতনৈক্য রয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি এখানে সেই ৭ টি দেশের কথা তুলে ধরতে যারা অনেক আগ থেকেই গণতন্ত্রের অনুশীলন করে আসছে। সর্বোপরি একটা কথা স্পষ্ট যে গণতন্ত্রের সারকথা হলো একটাই টা হলো "সর্বস্তরে স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠাকরণ।"

০৭. আমেরিকার গণতন্ত্র

জন্ম তারিখঃ ১৭৮৮
স্থানঃ   যুক্তরাষ্ট্র 
জনপ্রিয় নেতাঃ জর্জ ওয়াশিংটন
উল্লেখযোগ্য ঘটনাঃ বিদায়ী ভাষণ 

photo source: Wikimedia Commons

photo source: Wikimedia Commons

ঐক্যের বার্তা যা জর্জ ওয়াশিংটনের বিদায়ী ভাষণের মূল কথা ছিল তাঁর ওপর ভিত্তি করেই আমেরিকা আজ স্বদেশপ্রেম গণতন্ত্রের দেশ হিসেবে বিকাশ লাভ করেছে। এই একটি বার্তা অনেক গুরুত্ব বহন করে। এর উপর ভিত্তি করেই তাঁরা তাঁদের বহুজাতিক অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের বীজ শক্ত করে বপন করতে পেরেছে।সংবিধানের ত্রুটি চিহ্নিত করা এবং সমতা কিংবা নিরীক্ষার মাধ্যমে সেগুলো ঠিক করা মূলত আমেরিকার গণতন্ত্রের মুখ্য উদ্দেশ্য। অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিই আমেরিকার গণতন্ত্রকে সবচাইতে প্রাচীন মনে করেন। সেটা সত্য হোক বা না হোক তবুও আমেরিকার গণতন্ত্রকে পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন গণতন্ত্র হিসেবে ধরা হয়। 

০৬. ব্রিটিশ গণতন্ত্র

জন্ম তারিখঃ ত্রয়োদশ শতাব্দি
স্থানঃ  ইংল্যান্ড
জনপ্রিয় নেতাঃ রাণী এলিজাবেথ
উল্লেখযোগ্য ঘটনাঃ ১২১৫ সালের ম্যাগনা কার্টা

photo source: Wikimedia Commons

photo source: Wikimedia Commons

পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ন দেশ হিসেবে গণতন্ত্রের ধারণার বিকাশ ও সফলভাবে সরকার পরিচালনার পরিমাপক নির্ধারণে ব্রিটেনের অবদান অনস্বীকার্য। ১৯১৮ সালের জন আইন প্রণয়নের জন্য ও তাঁরা সুপরিচিত। এই আইন অনুযায়ী পুরুষ ভোটারদের ভোট প্রদানের  অধিকারের জন্য সম্পত্তির মালিকানা জনিত নিশেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়েছিল এবং প্রকৃতপক্ষে নারীদের প্রথমবারের মত ভোট প্রদানের অধিকার দেয়া হয়েছিল। এর ১ বা দেড় বছর পর যখন ন্যান্সি এস্টর নামের একজন নারী নির্বাচিত হয়েছিলেন যা পৃথিবীর ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।এখন পর্যন্ত নতুন যে কোন সরকার ব্যবস্থার জন্য তাঁদের গণতন্ত্র অনুকরণীয়। 

০৫. আইল অফ ম্যান'র গণতন্ত্র

জন্ম তারিখঃ ৯২৭ খ্রিস্টাব্দে
স্থানঃ  গ্রেট ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যবর্তী স্থান
জনপ্রিয় নেতাঃ রাণী এলিজাবেথ
উল্লেখযোগ্য ঘটনাঃ মুকুটের স্বাধীন মালিকানা 

photo source: Wikimedia Commons

photo source: Wikimedia Commons

গ্রেট ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যে অনেকটা দেখা যায় না বললেই চলে একটা অতি ক্ষুদ্র দ্বীপ আছে যার সরকার ব্যবস্থা সময়ের পরীক্ষায় টিকে আছে। এই ক্ষুদ্র দেশটি অন্যতম প্রাচীন সংসদীয় গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের পাশাপাশি নির্দলীয় গণতন্ত্রের অনুসারী একটি দেশ। আরেকটি মজার বিষয় হলো এটি কখনোই গ্রেট ব্রিটেন কিংবা যুক্তরাজ্যের অংশ হয়নি তবুও এটা এখনো নিজস্ব সেলফ গভার্নিং ক্রাউন ডিপেন্ডেন্সির ওপর প্রতিষ্ঠিত।  

০৪. আইসল্যান্ডিক গণতন্ত্র

জন্ম তারিখঃ ৯৩০ খ্রিস্টাব্দে
স্থানঃ  থিংভিলার
জনপ্রিয় নেতাঃ এসভিন বিঅর্নসন 
উল্লেখযোগ্য ঘটনাঃ পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থায়ী সংসদ 

photo source: Wikimedia Commons

photo source: Wikimedia Commons

যদিও ১৮০০ সালে ৪৫ বছর গণতন্ত্র বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে বিতর্ক থাকতে পারে তবুও আইসল্যান্ডের গণতন্ত্র পৃথিবীর অনয়তম প্রাচীন গণতন্ত্র.৯৩০ খ্রিস্টাব্দে অলথিং ভাইকিংসরা গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করেছিল যেখানে ৬৩ জন সদস্য নিয়ে সংসদ বসেছিল। এখনো আইসল্যান্ডের জাতীয় সংসদের নাম অলথিং।এখনো তাঁদের গণতন্ত্রকে প্রাচীন ও পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থায়ী সংসদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

০৩. স্যান মেরিনোর গণতন্ত্র 

জন্ম তারিখঃ ৩ সেপ্টেম্বর, ৩০১ খ্রিস্টাব্দে
স্থানঃ  ইতালি
জনপ্রিয় নেতাঃ দ্যা আরেংগো
উল্লেখযোগ্য ঘটনাঃ প্রাচীনতম লিখিত সাংবিধানিক দলিল, এবং সংবিধান যা এখনও কার্যকর আছে।

photo source: Wikimedia Commons

photo source: Wikimedia Commons

এই গণতন্ত্রের সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে যার উৎপত্তি বিভিন্ন রুপকথার গল্পে ভরা। এটা ভুল কি সঠিক তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে যে একজন রাজমিস্ত্রি যার নাম ম্যারিনো তিনিই রাজ্যগুলোর ভেতর ক্ষুদ্র রাজ্য স্থাপন করেছিলেন। এদের ইউরোপের যে কোন দেশের তুলনায় বেকারের এবং জনসংখ্যার হার নিন্ম যা ভালো গণতন্ত্রের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

০২. রোমান সাম্রাজ্যের গণতন্ত্র 

জন্ম তারিখঃ ৫০-৩৫০ খ্রিস্টপূর্ব 
স্থানঃ ইতালীয় উপদ্বীপ, রোম
জনপ্রিয় নেতাঃ জুলিয়াস সিজার, মার্কাস এন্টোনিয়াস, সিসিপিও আফ্রিকানাস
উল্লেখযোগ্য ঘটনাঃ সভ্যতার উন্নতির বিস্তৃতির গুরুদায়িত্ব 

photo source: Wikimedia Commons

photo source: Wikimedia Commons

এই সাম্রাজ্যবাদীরা যদিও পৃথিবীর ইতিহাসে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রবর্তক নন কিন্তু তবুও তাঁরা ৫০-৩৫০ খ্রিস্টপূর্বের সময়ে গণতন্ত্রের উন্নতি সাধনে ভালো অবদান রেখেছিল। রোমান রাজত্ব থেকে রোমান সাম্রাজ্য পর্যন্ত একটি মধ্যবর্তী স্থান ছিল, যেখানে জায়গাটা রোমান প্রজাতন্ত্র দ্বারা শাসিত হয়েছিল।

০১. গ্রীক (এথেনিয়ান) গণতন্ত্র

জন্ম তারিখঃ ৫ম শতাব্দি খ্রিস্টপূর্ব
স্থানঃ গ্রিস
জনপ্রিয় নেতাঃ পেরিক্লিস এবং ক্লেইস্থেন্স
উল্লেখযোগ্য ঘটনাঃ রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি

photo source: Wikimedia Commons

photo source: Wikimedia Commons

Democracy শব্দের "Demos" শব্দটি এসেছে গ্রীক থেকে যার অর্থ জনগণ। প্রাচীন গ্রীকরা তাঁদের শাসন করত এবং পরে তাঁরা গণতন্ত্রের উৎপত্তি করেছিলো যাতে অনয়্রা ও একই কাজ করতে পারে। সরকার ধারণা গ্রহণ করা হয়েছিল ৪৩০ খ্রিস্টপূর্বের দিকে যা এদের গণতন্ত্রকে পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন গণতন্ত্রের দেশ হিসেবে ইতিহাসে স্থান দিয়েছে।

আপনাদের মতামত আমাদের কমেন্টে জানান। আমাদের পেজে লাইক ও শেয়ার দিয়ে সাথেই থাকুন।



জনপ্রিয়