যে কারণে বিশ্বে সমতার প্রয়োজন নেই  যে কারণে বিশ্বে সমতার প্রয়োজন নেই

যে কারণে বিশ্বে সমতার প্রয়োজন নেই

বর্তমান বিশ্বে সমতার চেয়ে ন্যায্যতা আরো বেশী প্রয়োজন। যদিও সমতা ও ন্যায্যতা শব্দগুলো প্রায়শই বিনিময়যোগ্যভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে এই দুটি শব্দের অর্থ কিছুটা ভিন্ন। সমতা বলতে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একইভাবে অধিকার প্রদান করাকে বুঝায় এবং ন্যায্যতায় সফলতার জন্য যার যেটুকু দরকার তা প্রত্যেককে সেভাবে প্রদান করাকে বুঝায়।

সমতা এবং ন্যায্যতার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা কঠিন মনে পারে, তাই আজকে আমরা এই দুটি শব্দের ভিন্নতা ব্যাখ্যা করার জন্য কয়েকটি পয়েন্ট বের করেছি।

 

প্রত্যেকের তাদের নিজস্ব শক্তি এবং দুর্বলতা রয়েছে।

source: unknown

source: unknown

একজন পর্বতারোহীর সাথে একজন দাবা গ্র্যান্ডমাস্টারের একটি পর্বতে আরোহণের প্রতিযোগিতা করাটা একটি সমান সুযোগ মনে হতে পারে এবং উভয় প্রতিযোগীদের জন্য একই কষ্ট হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে, প্রতিযোগিতাটা ন্যায্য নয়। শারীরিক ধৈর্য্য পরীক্ষা করে প্রতিযোগিতায় পর্বতারোহীর একটি সুবিধা থাকবে, কিন্তু সেই পরীক্ষায় দাবা গ্র্যান্ডমাস্টারের হাত মাথার উপর থাকবে।

অন্যদের দুর্বলতাকে নিজের শক্তির সাথে তুলনা করা বা নিজের দুর্বলতাকে অন্যের শক্তির সাথে তুলনা করাটা একটা বাজে চর্চা এবং মারাত্মক।

  

মানুষদের সাথে সমানভাবে আচরণ করার চেয়ে ন্যায্যতা দেওয়া বেশি প্রয়োজন।

source: unknown

source: unknown

সমাজব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবেই সমান নয়, সবার জন্য সমান সুযোগ প্রদান প্রত্যেকের জন্য ন্যায় বিচারের মতো নয়। শক্তিশালী এবং দুর্বল ব্যক্তিদের তাদের ক্ষমতার উপযুক্ত হিসেবে সাপোর্ট দেওয়া উচিৎ। উদাহরণস্বরূপ- একজন অসুস্থ ব্যক্তির চাহিদাগুলো একজন স্বাস্থ্যবান ব্যক্তির থেকে আলাদা হবে। সবার সাথে সমান আচরণ অন্যায় হতে পারে। কার্ল মার্কস এই ধারণাকে সমর্থন করেছিলেন, তিনি বলেছিলেন, ‘প্রত্যেককে তার ক্ষমতা অনুসারে তার প্রয়োজন অনুসারে প্রদান করতে হবে’ এবং এর অর্থ যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন যে, উন্নতির জন্য বিভিন্ন অনুপাতে বিভিন্ন জিনিসের প্রয়োজন হয়।

   

একটি কাল্পনিক সমাজ ব্যবস্থাতেও সমতা অর্জন করা যায় না।

source: unknown

source: unknown

প্রত্যেকের জন্য সমতা একটি কল্পনা, আইডিয়া যত চমৎকারই হোক না কেন এটা তৈরি করা সম্ভব নয়। এটি সমান শুরু করা অসম্ভবের কারণে নয়, কিন্তু এটি সমানভাবে প্রদান করার কারণে শেষে সমান ফলাফলের গ্যারান্টি দেয় না। অন্যদিকে, জোরপূর্বক প্রত্যেককে সমান করতে চেষ্টা করলে সমাজে অসন্তুষ্টি দেখা দেবে।

    

ন্যায্যতা মানুষদের পরিচালিত করে, সমতা নয়।

source: unknown

source: unknown

একটি ল্যাম্প অ্যাসেম্বলি ফ্যাক্টরির উদাহরণ নিই। প্রত্যেককে সমানভাবে প্রদান করা মানে হল, প্রত্যেক শ্রমিককে তাদের উৎপাদিত ল্যাম্পের সংখ্যা বা গুণগত মানের জন্য সমান অর্থ প্রদান করা। এতে অনেকেই কাজে ফাঁকি দিতে পারে, আবার যারা বেশী উৎপাদন করে তারা মন খারাপ করতে পারে। যদি সেখানে তাদেরকে তাদের উৎপাদনের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে অর্থ প্রদান করা হয় তাহলে প্রত্যেক শ্রমিকেরা বেশী অর্থের আশায় কাজে আগ্রহী হয়ে উঠবে।

 

মানুষ অসমতায় ভালো থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত এটা ন্যায্য থাকে।  

source: unknown

source: unknown

মনোবিজ্ঞানী অ্যালেক্স শো এবং ক্রিস্টিনা ওলসন এই ধারণা পরীক্ষা করার জন্য একটি পরীক্ষা পরিচালনা করেন। তারা ৬ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুদের একটি গ্রুপ একত্রিত করেন। তারা দুই ছেলে ড্যান ও মার্ককে ডেকে তাদের ঘর পরিষ্কার করতে বলা হয়। একটি পুরষ্কার হিসেবে তাদেরকে ইরেজার দেওয়া হবে। ড্যান ও মার্ককে ৫টি ইরেজার দেওয়া হয়, তাই এটি তাদের দুজনের মধ্যে সমানভাবে বিভক্ত করাটা অসম্ভব ছিল। বাচ্চারা পঞ্চম ইরেজারটি সমানভাবে ভাগ করার পরিবর্তে ফেলে দেওয়াতে সমর্থন করেছিল।    

   

 

সমতার চেয়ে যে ন্যায্যতা আরো গুরুত্বপূর্ণ, এটাতে আপনি কি একমত? আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের কমেন্টে শেয়ার করে জানান। 



জনপ্রিয়