ভাল পরিবার থেকে বিচক্ষণ পরিবার হওয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম     ভাল পরিবার থেকে বিচক্ষণ পরিবার হওয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

ভাল পরিবার থেকে বিচক্ষণ পরিবার হওয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

প্রত্যেক মায়েরাই একটি প্রতিভাবান সন্তানের স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু শিশুদেরকে উৎসাহ করার জন্য অনেকগুলো টিপস এবং কৌশল থাকা সত্ত্বেও, কিভাবে সন্তানকে লালন পালন করতে হবে সেটার কোন নির্দিষ্ট নিয়মের বই নেই।

অন্যদিকে, অনেক অভিভাবকই মনোবিজ্ঞানীদের আর্টিকেল এবং অভিভাবকত্বের ফোরাম অবলম্বন করেন না এবং সেই কারণে তাদের বাচ্চাদের অনেকেই জিনিয়াস হতে পারে না। আজকে আমরা সন্তান লালনপালনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম শেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

 

১. স্বাধীনতার পুরষ্কার

© brightside

© brightside

কিছু অভিভাবকেরা মনে করেন ছেলেমেয়েরা তখনই সফল হবে, যখন তারা বিশ্বাস করবে যে তারা যেকোন কিছু করতে পারবে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা হচ্ছে, ছেলেমেয়েদেরকে বুঝতে শিখানো উচিৎ যে তারা নিজে নিজে সবকিছু করতে পারবে।   

 

২. সবকিছুই সহজ হওয়ার পূর্বে কঠিনই থাকে

© brightside

© brightside

স্বাধীন হওয়ার জন্য, শিশুদের প্রচেষ্টা এবং পছন্দ আবশ্যক। কোন বাচ্চা যদি একটি নতুন ইচ্ছা, আগ্রহ মনে পোষণ করে তবে অভিভাবকদের উচিৎ তাদেরকে সে বিষয়ে উৎসাহিত করা।

কোনকিছু যদি ভালো না যায়, তাহলে পাড়া প্রতিবেশীরা সবসময়ই বলে থাকে ‘সব শুরুই কঠিন’। 

 

৩. বিশ্বাসটা সেরা পুরষ্কার

© brightside

© brightside

বাচ্চাদের প্রচেষ্টার জন্য আমাদের কি কোন পুরষ্কার দেওয়া উচিৎ বলে আপনাদের মনে হয়? তবে এটা নিশ্চিত করেন যে, ক্যান্ডি দিয়ে তাদের পুরষ্কৃত করবো না। এছাড়া অন্য কোন উপায় আছে বলে আপনার মনে হয়?    

আপনাকে মনে রাখতে হবে যে, একটি ছোট বাচ্চাকে বিশ্বাসের সাথে পুরষ্কৃত করা যেতে পারে। সে যদি নিজে নিজে কোন কাজ করা করে, তাহলে সেই সময় তার উপর পুরো বিশ্বাস রাখতে হবে, তখন সেই  বাচ্চা মনে করবে সে ভালো কাজ করছে।       

 

৪. বাহ্যিকই সবকিছু নয়

© brightside

© brightside

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা হচ্ছে, ভবিষ্যৎ প্রতিভা বাহ্যিক দৃষ্টির উপর নির্ভর করে না।

সত্যটা হল যে, সন্তানের বাহ্যিক পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নের দিকে বেশী খেয়াল রাখলে অভিভাবকের এবং সন্তানের বেশী সময় ব্যয় করা লাগে। বিচক্ষণ অভিভাবকেরা সবসময়ই কাপড় পরিষ্কার রাখাকে সন্তানের ব্যক্তিগত বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য নিরর্থক মনে করেন। বাচ্চারা নিজেদেরকে কেমন দেখাচ্ছে সেটা নিয়ে পরোয়া করে না।    

 

৫. অস্বাভাবিকতা গ্রহণ করা

© brightside

© brightside

বাচ্চারা প্রায়শই চরম বিশৃঙ্খলার মাঝে থাকে যা তাদের বিচক্ষণ পিতামাতাকে বিরক্ত করে না। তারা সহজেই বুঝতে পারে যে বাচ্চারা অগোছালো, তারা জিনিস নষ্ট করবে এবং সবকিছু চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেবে। 

এই কারণে তারা বাচ্চাদের তাদের স্বাচ্ছন্দ্য মতো তাদের জীবন অতিবাহিত করতে দেয় এবং তাদের জন্য কোনটা দরকারি তা বুঝিয়ে বলেন। 

 

৬. অবশেষে সব শক্তি হারিয়ে যায়

© brightside

© brightside

কিছু কিছু মায়েরা সারাদিন বাচ্চার পিছনে দৌড়ে বলেন যে, ‘এটা করো না’! ‘সেটা ধরো না’, ‘যেখানে সেখানে ওঠো না’ বা ‘শান্ত হও’!

বিচক্ষণ বাবা-মায়েরা উদ্যমী বাচ্চাদের না বুঝা পর্যন্ত এটা স্বাভাবিক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করেন। এইভাবে সেই সন্তানেরা প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে তারা তাদের প্রচেষ্টায় আরো আত্মবিশ্বাসী এবং দৃঢ় হয়ে উঠে।

 

৭. সুবিবেচিত বা ন্যায়বিচারপূর্ণ মতামত

© brightside

© brightside

প্রকৃতপক্ষে, প্রতিভাশালী বাচ্চারা অনেক কিছুতে সম্মতি পায়। এমনকি ওয়ালপেপারের উপর কিছু একটা লিখলে সেটাকে আর্টিস্টের শৈল্পিক সম্ভাবনার একটি লক্ষণ হিসেবে মনে করা হয়।  

যাইহোক, সেখানে একটা সীমা রয়েছে যা শিশুদের সেই সীমা লঙ্ঘন করতে নেইঃ তা হল তাদের পরিবারকে বা পরিবারের কোন সদস্যকে অসম্মান করা। অভিভাবকদেরকে যদি সে অপমানিত করে তাহলে তাকে শাস্তি দিতে হবে।  

 

৮. বাবা পরিচালক এবং মায়েরাও তাই

© brightside

© brightside

বাড়ন্ত বয়সে পিতামাতাকে সম্মান করাটা শিখাতে হবে। পরিবারের প্রত্যেকটি বাচ্চা জানে যে তার বাবা-মা পরিচালক এবং কেউই তার কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ না।

 

৯. শিশুর আত্মনিয়ন্ত্রণ

© brightside

© brightside

বাচ্চারা কোন কিছু ছিনিয়ে নিলে তাকে শাস্তি দেবার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট সঠিক প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে হবে।

যদি কোন শিশু সীমাবদ্ধতা এবং শাস্তিগুলির শর্তে সংকীর্ণভাবে চিন্তা না করে তবে সে তার নিজের ভাল কাজের জন্য তার আচরণ সংশোধন করতে শিখতে পারে।  

 

১০. কোন কিছুই লক্ষিত নয়  

© brightside

© brightside

মনোবিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, আপনার বাচ্চার কোন হিজিবিজি লেখা বা কাজের জন্য প্রশংসা করবেন না, অন্যথায় সেটা তার বিকাশে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যৎ জিনিয়াস বাচ্চার অভিভাবকেরা তবুও বিশ্বাস করেন যে, যেকোন কিছু অর্জনের জন্য পুরষ্কৃত করা দরকার।

 

আজকের আয়োজন আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে? কমেন্টে আমাদের সাথে শেয়ার করে জানান।  

 



জনপ্রিয়