সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যে বিষয়গুলো আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যে বিষয়গুলো আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যে বিষয়গুলো আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে

প্রত্যেকেই অন্তত একটি সামাজিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে থাকে। সেখানে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে পোস্ট লিখি, আমাদের বন্ধুদের বা বাচ্চাদের ছবি শেয়ার করি, খবর পড়ি এবং চ্যাট করি। সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া তাদের ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করে, তারপরও কিছু তথ্য সম্পূর্ণ পাবলিক ভিউতে রাখার ফলে সেগুলো দুষ্টু চক্রের হাতে গিয়ে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বহুল আলোচিত সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যতম মাধ্যমগুলো হল-ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার প্রভৃতি। এগুলো একটি যুগান্তকারী মাধ্যম হিসেবে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও এই মাধ্যমগুলো যে কতটা ভয়ংকর রূপ নিতে পারে তা সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা থেকে বুঝা যায়।

আজকে আমরা দুষ্টু চক্রের হাত থেকে আপনার একাউন্টকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কয়েকটি টিপস শেয়ার করছি।    

 

১. ভৌগলিক-অবস্থান বা বর্তমান অবস্থান  

© pixabay

© pixabay

আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে, ভৌগোলিক অবস্থানগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ করা হয়েছে। বিষয়টা হল যে, সামাজিক মিডিয়াতে এই ডিফল্ট প্রায়শই অন থাকে। তাই যেকোন ব্যক্তি আপনি কোথায় আছেন, কোথায় বিশ্রাম নিচ্ছেন এবং কোথায় আপনি বেশী সময় অতিবাহিত করেন তা বুঝতে পারে। আপনি যদি ঝুঁকি নিতে না চান তাহলে আপনার অবস্থানের ফাংশন অফ করে রাখাই ভালো।

 

২. ফোন নাম্বার

source: unknown

source: unknown

সোশ্যাল নেটওয়ার্কে অনেকেই ফোন নাম্বার দিয়ে থাকে। কিন্তু সেখানে ফোন নাম্বার শেয়ার করা উচিৎ না। এতে দুষ্কৃতিকারীরা আপনার ফোন নাম্বার ট্র্যাকিং করে আপনার অবস্থান জেনে ফেলতে পারে। সবচেয়ে অবস্থা হল আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করার জন্য হ্যাক করতে পারে।  

 

৩. জন্মতারিখ

source: unknown

source: unknown

আপনার জন্ম তারিখটি আপনার পূর্ণ নাম এবং বাড়ির ঠিকানার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। এই তথ্য সহজেই আপনার ব্যক্তিগত বা ব্যাংকিং একাউন্ট হ্যাক করতে দুষ্কৃতিকারীদের সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও আপনার জন্ম তারিখ ব্যবহার করে ভূয়া আইডি খুলে আপনাকে হয়রানি করতে পারে।

 

৪. টিকিট, কার্ড এবং ব্যক্তিগত ডকুমেন্টের ছবি

© wikimedia

© wikimedia

অনেক পর্যটকেরা আবেগের বশে তাদের দীর্ঘ-প্রতীক্ষিত পাসপোর্ট-ভিসার ছবি এবং টিকিটের ছবি এয়ারপোর্টে থেকে শেয়ার করে থাকে। যা মোটেও উচিৎ না। অনেকে আবার ক্রেডিট কার্ড এবং ব্যক্তিগত তথ্যের মতো গোপন এবং স্পর্শকাতর বিষয়গুলো শেয়ার করে থাকে। এই তথ্যগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া কোনভাবেই নিরাপদ নয়। তবে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান বা ওয়েবসাইট বুঝেশুনে দিতে হবে। যাতে আপনার দেওয়া তথ্যগুলো তাদের কাছে সুরক্ষিত থাকে।     

 

৫. আপনার আসন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে পোস্ট

© wikimedia

© wikimedia

আপনি যখন আপনার বন্ধুদের সাথে আপনার সাপ্তাহিক ছুটির পরিকল্পনাগুলো শেয়ার করেন, তখন মনে রাখা উচিৎ যে সেটি দুষ্কৃতিকারীদের জন্য পরিকল্পনার সেরা সময় হিসেবে ইঙ্গিত দিচ্ছেন না তো। ছুটির দিনে আপনি কোথায় যাবেন, কি করবেন না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করার প্রয়োজন নেই।  

 

৬. কাজের তথ্য

© imgrummap

© imgrummap

নিজের কাজ সম্পর্কিত বিষয়গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার না করাই ভালো। এতে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বি বা অন্য প্রতিষ্ঠানের লোকজন আপনার প্রতিষ্ঠানের তথ্য জেনে যাবে। ফলে আপনার এবং আপনার কর্মরত প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্ষুন্ন হতে পারে এবং এতে আপনার বস এবং সহকর্মীরা হতাশ হতে পারে।

 

৭. মাতাল হওয়ার ছবি

© depositphotos

© depositphotos

আপনি অবশ্যই আপনার গত সপ্তাহের অবিস্মরণীয় পার্টির কিছু স্মৃতি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে চাইতেই পারেন। আপনার মনে রাখা উচিৎ যে আপনার একাউন্ট যদি খোলা থাকে, তবে আপনার ‘মাতাল’ অবস্থার ছবি শুধুমাত্র আপনার বন্ধুরাই দেখতে পাবে না বরং সেইসাথে আপনার অফিসের বস, সহকর্মী, আত্মীয়স্বজন এবং অন্য ব্যক্তিরাও সেই ছবি দেখতে পাবে। ফলে আপনার প্রতি তাদের মনে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হতে পারে।  

 

৮. অধিক সংখ্যক বন্ধু

source: unknown

source: unknown

গবেষণায় দেখা গেছে যে, আপনার বন্ধুর তালিকাটি শুধুমাত্র একটি বিমূর্ত সংখ্যা, তারা ইন্টারনেটের বাইরে সত্যিকারের বন্ধু নয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক রবিন ডানবারের তত্ত্ব অনুযায়ী একজন মানুষ প্রায় ১৫০ জনের সাথে গভীর বন্ধুত্ব রক্ষা করতে পারে। তাই মনস্তাত্ত্বিকেরা অসংখ্য বন্ধুকে লিস্টে না রেখে নিষ্ক্রিয় বন্ধুদের ছাটাই করার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

৯. বাচ্চাদের সাথে জড়িত তথ্য

© pixabay

© pixabay

প্রথম গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হল শিশুর সম্মতি। আপনার সন্তানের সাথে একটি মজার বা হাস্যকর ছবি পোস্ট করার আগে, ভবিষ্যতে একজন শিশু তার সম্পর্কে কিরূপ তথ্য দেখতে চাইতে পারে তা নিজেকে জিজ্ঞাসা করে দেখুন। এটা কি তার জন্য অপমানজনক বা বিব্রতকর হতে পারে কিনা যা চিন্তা করে দেখুন।

দ্বিতীয়ত, নিজের এবং বন্ধুদের সন্তানের ছবি নাম উল্লেখ করে পোস্ট করলে অনেক সময় বিপদের কারণ হতে পারে। দুষ্কৃতিকারীরা আপনার শিশুর ক্ষতি সাধন করতে পারে তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

 

১০. বন্ধুদের ছবি

© pixabay

© pixabay

বেশিরভাগ সময়ই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা তাদের বন্ধুদের কিছু মজার ছবি শেয়ার করে আনন্দ পান। কিন্তু এভাবে তাদের ছবি পোস্ট করা কি এতোই প্রয়োজন যে, আপনার বেশিরভাগ বন্ধুদের সেটা দেখাতে হবে? এটা একটি অনিশ্চিত কাজ যার জন্য আপনার বন্ধুকে হয়তো মূল্য চুকাতে হয়।

 

১১. আপনার প্রাক্তনের সাথে ছবি

© pixabay

© pixabay

আপনি যতই আবেগপ্রবণ সম্পন্ন ব্যক্তি হোন না কেন, আপনার প্রাক্তনের ছবি ডিলেট করে দেওয়া ভালো। এটি আপনাকে আপনার সামাজিক মিডিয়া একাউন্টে নজর রাখা ব্যক্তি বা সম্ভাব্য সঙ্গীর সাথে সমস্যাগুলো এড়াতে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া, নস্টালজিক স্মৃতিগুলি আপনার মেজাজের জন্য সবসময় ভাল নয়।    

 

১২. অপরিচিত ব্যক্তিদের সাথে সবকিছু শেয়ার করতে নেই

source: unknown

source: unknown

উপসংহারে, আপনি যে বিষয়টি পোস্ট করতে চাইছেন তা অপরিচিতজনদের সাথে শেয়ার করতে চাচ্ছেন কিনা তা দ্বিতীয়বার ভেবে দেখবেন। আপনাকে সবসময় মনে রাখতে হবে যে, যখন আপনার অনলাইন ইনফো পাবলিক থাকবে, তখন পরিচিত অপরিচিত সবাই সেটা দেখতে পাবে, তাই কিছু পোস্ট করার আগে দুবার চিন্তা করুন।

 



জনপ্রিয়