যেসব বন্ধুত্বগুলো দেখে বুঝবেন এগুলো শুধুমাত্র আপনার ক্ষতিসাধনই করবে!   যেসব বন্ধুত্বগুলো দেখে বুঝবেন এগুলো শুধুমাত্র আপনার ক্ষতিসাধনই করবে!

যেসব বন্ধুত্বগুলো দেখে বুঝবেন এগুলো শুধুমাত্র আপনার ক্ষতিসাধনই করবে!

একটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক, আরো বেশি মূল্যবান। পুরানো বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করা কঠিন, কিন্তু মাঝেমধ্যে এটি প্রয়োজন হয়ে পড়ে। একটি ভালো বন্ধুত্ব কয়েক বছরের মধ্যে দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং উভয় পক্ষের জন্য তখন বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিরর্থক হতে পারে।

আজকে আমরা নারীদের জন্য বিষাক্ত বন্ধুত্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় লক্ষণগুলো সংগ্রহ করেছি। আপনি যদি মনে করেন যে আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মধ্যে অন্তত এই গুণগুলির মধ্যে কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তাহলে আপনার সেই ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ রাখা ঠিক হবে কিনা তা ভেবে দেখুন। 

 

১. আপনি যখন সাফল্য অর্জন করেন, তখন সে খুশি হয় না।

© Depositphotos   © Depositphotos

© Depositphotos © Depositphotos

আপনি যখন আপনার সাফল্য সম্পর্কে আপনার বান্ধবীকে জানাবে এবং সে যদি অবিলম্বে বিষয়টিকে পরিবর্তন করার জন্য তার ব্যর্থতা সম্পর্কে অভিযোগ করে এই কথাগুলো বলে, ‘দেখো! তোমার তো একটা বয়ফ্রেন্ড আছে কিন্তু আমার কেউ নেই’ বা ‘তুমি প্রতিযোগিতায় জিতেছো কিন্তু এটা করার ক্ষমতা আমার নেই’, তাহলে বুঝতে হবে যে সে আপনার জীবনে যা ঘটছে তা পরোয়া করে না। কিন্তু আপনি যখন বিপদে পড়বেন তখন সে ঠিকই সেটা পছন্দ করবে।  

 

২. সে এমনভাবে ঈর্ষা করে যেন সে আপনার বয়ফ্রেন্ড ছিল।

আপনি যখন আপনার বান্ধবী আসার আগে অন্য কারো সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং সে যদি এসে আপনাকে অন্য কারো সাথে দেখে তাহলে সে তাকে দেখে খুশি হবে না। আপনাকে সবসময় সব জায়গায় তাকে আমন্ত্রণ জানাতে হবে, তা না হলে সে হয়তো রাগও করতে পারে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে তখন, যখন সে আপনার সমস্ত সামাজিক কার্যকলাপে আপনাকে অনুসরণ করবে এবং অন্য বান্ধবীদের সাথে কোথাও ঘুরতে গেলে সে আপনার সাথে রাগ করবে।

 

৩. আপনি তার সাথে কথা বলার পরে ক্লান্ত বোধ করেন।

© Depositphotos   © Depositphotos

© Depositphotos © Depositphotos

আমরা একজন বান্ধবীর সাথে কথা বলার পর ক্লান্ত বা মাথা ব্যথা অনুভব করাটা প্রায়শই লক্ষ্য করি না। মনোবিজ্ঞানী সুসান হিটলার মনে করেন যে, এটা মনোবৈজ্ঞানিক কারণে হয়ে থাকে। কারণ আমাদের সমস্ত শারীরিক সিস্টেম সংযুক্ত থাকে এবং মানসিক অস্বস্তি আমাদেরকে শারীরিকভাবে খারাপ অনুভূত করে তোলে।

 

৪. মাঝেমধ্যে আপনার মনে হতে পারে যে, আপনি তার কাছে কিছু লুকাতে চান।

ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষার পরিবর্তন, পূর্ববর্তী নেতিবাচক অভিজ্ঞতা বা কিছু অস্পষ্ট অনুভূতিগুলো, এমনকি যে বিষয়গুলো সবসময় তার সাথে শেয়ার করতে অভ্যস্ত ছিলেন সেগুলো আপনার বান্ধবীর সাথে শেয়ার করতে মন না চাইতেও পারে।  

 

৫. সে যেকোন সময় আপনাকে ফোন করে তার কথা শুনতে বলে।

© Depositphotos

© Depositphotos

এমন কিছু মুহূর্ত রয়েছে যা অন্যদের থেকে আপনার বান্ধবীকে সাপোর্ট দেয়া প্রয়োজন, কিন্তু একজন খারাপ বান্ধবী সেই মুহূর্তগুলোকে অপব্যবহার করে থাকে। সে হয়তো মধ্য রাতে তার কথা শুনার জন্য আপনাকে কল করতে পারে এবং আপনি সেটা না করতে পারবেন না। আপনি যদি তার কথা না শুনেন তবে সে আপনাকে বিরক্ত করতে পারে। একটি ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে সাপোর্ট করাটা খুবই জরুরী, সেটা ঠিক আছে কিন্তু আপনার একজন মনোবিজ্ঞানীর মতো করে সেবা করাটা উচিৎ নয়।

 

৬. সে আপনার অসুবিধাকে কাজে লাগিয়ে নিজের সুবিধাকে হাইলাইট করে।

আপনার বান্ধবীকে হয়তো দৃঢ় এবং আত্মবিশ্বাসী দেখায়, সে সুন্দর সুন্দর পোশাক পরে এবং আপনাকে সহ তার চারপাশের মানুষদেরকে সমালোচনা করে। কিন্তু তার সম্ভবত আত্মমর্যাদাবোধ কম এবং সেটা লুকানোর চেষ্টা করছে।

 

৭. সে আপনার আচরণ, চুলের স্টাইল, নখ কপি করে এবং এমনকি আপনার বয়ফ্রেন্ডকেও।

© Depositphotos   © Depositphotos

© Depositphotos © Depositphotos

সে হয়তো কোন উদ্দেশ্যে বা অবচেতনমনে এই ধরনের কাজ করতে পারে। বেশিরভাগ সময়ই সে এটা খারাপ উদ্দেশ্যে নাও করতে পারে, সে হয়তো আপনাকে অনেক পছন্দ করে এবং আপনার মতো হতে চায়। সে হয়তো আপনার হাঁটার স্টাইল, কথা বলা, মেকআপ করার মতো বিভিন্ন বিষয় কপি করতে পছন্দ করে। আপনি যখন তার সাথে কথা বলবেন তখনই আপনি নিজেই সে বিষয়ে বুঝতে পারবেন।

 

৮. সে খুবই নাটকীয় হয়ে থাকে এবং শুধুমাত্র তার নিজের সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা করে।

আপনার বান্ধবী সবসময় তার জীবন যে কত খারাপ সে সম্পর্কে আপনার সাথে আলোচনা করে। তার মনের ভিতরে যে কত ব্যথা আছে সেটা চিন্তা করতে সে পছন্দ করে। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, সহজে ক্ষুব্ধ হওয়া এবং শুধুমাত্র জীবনের নেতিবাচক দিকগুলি দেখা নিউরোসিসের উপসর্গ হতে পারে।

 

৯. সে আপনার চেয়ে সবকিছুতে ভাল হওয়ার চেষ্টা করে, আপনার বন্ধুত্বকে একটি অবিরত রেস হিসেবে মনে করে।

© Depositphotos   © Depositphotos

© Depositphotos © Depositphotos

আপনি যদি আপনার বান্ধবী বলেন যে, ‘আমি এই জুতা ডিসকাউন্টে কিনেছি! এটার দাম মাত্র ৫০০ টাকা ছিল!’ সে তখন এইভাবে জবাব দিতে পারে, ‘আমি গুচ্চি জুতা কিনেছিলাম! কিন্তু তোমারটাও ঠিক আছে’,। আপনার বান্ধবী সবসময় আপনার চেয়ে ভালো খবর ম্যানেজ করতে চেষ্টা করে।

 

১০. সে আপনাকে ব্যবহার করে।

সে যদি আপনাকে সবসময় লিফট করতে বলে, তাকে টাকা ধার দিতে, তাকে কল দিতে বা তার অ্যাপার্টমেন্ট পুনর্নির্মাণ করতে সাহায্য করতে বলে তাহলে বুঝতে হবে সে আপনাকে ব্যবহার করছে। এই ধরনের মানুষেরা তাদের নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের জন্য একটি উপায় হিসেবে অন্য মানুষদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে।  

 

১১. সে আপনাকে নিয়ে সমালোচনা করে।

© Depositphotos

© Depositphotos

আপনি হয়তো আপনার বান্ধবীকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন যে, ‘আমাকে কেমন দেখাচ্ছে’? তাহলে সে হয়তো নেতিবাচক কিছু উত্তর দিতে পারে।

 

১২. অবশ্যই সে আপনাকে ভুল পরামর্শ দেয়।

© Depositphotos   © Depositphotos

© Depositphotos © Depositphotos

আপনি যখন আপনার বয়ফ্রেন্ডের সাথে একটি ছোটখাটো সমস্যা নিয়ে আপনার বান্ধবীকে বলবে, তখন সে আপনাকে বলবে, ‘তাকে ছেড়ে দাও! তোমার তাকে প্রয়োজন নেই!’ এই ধরনের ‘যত্ন’ প্রকাশ করে যে, সে আপনার সম্পর্ক নিয়ে ঈর্ষান্বিত।

 

১৩. সে আপনাকে এমনভাবে ছেড়ে চলে যায় যেন সে একজন নতুন বয়ফ্রন্ড খুঁজে পেয়েছে।

© Depositphotos   © Depositphotos

© Depositphotos © Depositphotos

আপনার বান্ধবী যখন একটা নতুন বয়ফ্রেন্ড খুঁজে পাবে, তখন সে সবাইকে ভুলে যাবে। সে আপনাকে কল দিবে না, মিসকল দেখলেও কলের জবাব দিবে না এবং আপনার সাথে দেখা না করার জন্য অজুহাত খুঁজে বের করবে। কিন্তু তার সম্পর্ক যখন ভেঙ্গে যাবে, তখন সে আপনাকে কল করা শুরু করবে এবং আপনাকে তার ব্যর্থ প্রেমের বিরক্তিকর এবং লম্বা কাহিনী বলবে।   

 

আপনারও কি এই ধরনের বান্ধবী আছে? থাকলে আপনি এখন তার সাথে কি করবেন? আপনার গল্পগুলো কমেন্টে আমাদের সাথে শেয়ার করে জানান।

 



জনপ্রিয়