যে অপ্রত্যাশিত বিষয়গুলো আমরা বংশগতভাবে পেয়ে থাকি  যে অপ্রত্যাশিত বিষয়গুলো আমরা বংশগতভাবে পেয়ে থাকি

যে অপ্রত্যাশিত বিষয়গুলো আমরা বংশগতভাবে পেয়ে থাকি

বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেন নি যে, আমাদের ব্যক্তিত্ব আমাদের জীন দ্বারা এবং পরিবেশ দ্বারা কতটা নির্ধারিত হয়। তবে, তারা শুধুমাত্র আমাদের পিতামাতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেতে পারে এমন সব চরিত্র এবং চেহারার বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করেছেন।

আজকে আমরা পিতামাতার কাছে থেকে কোন জীনগুলো বংশপরম্পরায় পেতে পারি, সেই বৈশিষ্ট্যের তালিকা সংগ্রহ করেছি। 

 

আবেগপ্রবণতা

© Liar Liar / Universal Pictures

© Liar Liar / Universal Pictures

যদিও ‘আবেগপ্রবণতা জিন’ নামে কোন জিনিস নেই, তারপরেও বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে, এই ব্যক্তিত্ব বংশ পরম্পরায় হতে পারে। আবেগপ্রবণ বাবা-মায়ের সন্তানেরা তাদের পিতামাতাদের মতো একই আচরণ করতে পারে।

অনেকক্ষেত্রে, এটি পরিবেশের উপর নির্ভর করেঃ একটি শিশু তার মা-বাবার আচরণ দেখে শিখে এবং তারা ঠিক একই কাজগুলো করে। তবে, সেখানে একটি জেনেটিক দৃষ্টিভঙ্গিও কাজ করে।

 

 ঘুমের অভ্যাস

© The Big Bang Theory / Warner Bros. Television   © Fight Club / Fox 2000 Pictures

© The Big Bang Theory / Warner Bros. Television © Fight Club / Fox 2000 Pictures

হাইপারসোমনিয়া (দিনের বেলায় বেশি ঘুম আসা), অনিদ্রা, স্লিপওয়াকিং বা প্যারাসোমনিয়া (ঘুমের মধ্যে হাঁটা) জীনগত কারণে হয়। তবে অবশ্যই, ঘুম ঘুম ভাব এবং অনিদ্রা প্রায়শই একই পরিস্থিতির কারণে হয়ে থাকে, যেমন- একটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টের আগে স্ট্রেস বা উদ্বেগ হলে ঘুম না হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, আপনার মধ্যে যদি এই সমস্যাগুলো সর্বদা থাকে এবং সেটি স্থায়ী হয়, তাহলে নিশ্চিত সেটা জেনেটিক কারণে হয়।    

 

আক্রমণাত্মক মনোভাব 

© The Nice Guys / Lip Sync Productions

© The Nice Guys / Lip Sync Productions

বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে, কেবলমাত্র পরিবেশ বা খারাপ আচরণের কারণে মানুষ আক্রমণাত্মক হয়ে যায় না। কিন্তু তারা ‘ওয়ারিওর বা যোদ্ধা জীন’ নামে একটি জীন খুঁজে পেয়েছেন, যার কারণে একজন ব্যক্তি আক্রমণাত্মক, জুয়াড়ি এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ প্রদর্শন করে।  

সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে যে, আবিষ্কৃত জীন সম্ভবত মানুষকে তাদের নিজস্ব স্বার্থের জন্য আরও সংবেদনশীল করে তোলে, যার কারণে তারা আরো বেশি নাছোড়বান্দা এবং ভয়ানক আচরণ করে থাকে।  

 

হাঁচির প্রতিফলন

© Blake Facey / flickr

© Blake Facey / flickr

পৃথিবীর পুরো জনসংখ্যার প্রায় ১৮-৩৫% লোকের মধ্যে ফটিক হাঁচির প্রতিফলন দেখা যায়। যখন একটি উজ্জ্বল আলো রেটিনার সংস্পর্শে আসে, তখন একজন ব্যক্তির হাঁচি আসতে পারে। 

বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন যে, জেনেটিক এই বৈশিষ্ট্যগুলো বংশপরম্পরায় চলে আসতে পারে। ২০১০ সালে, জীনতত্ত্ববিদদের একটি দল ১০,০০০ মানুষের জিনোম নিয়ে গবেষণা করেন। সেই গবেষণায় দেখা গেছে যে, ফটিক হাঁচির প্রতিবিম্বের জন্য দায়ী ২টি জীন তারা খুঁজে পেয়েছেন।

 

ক্লিনোড্যাক্টলি (আঙুলের ত্রুটি)

© Charles Goldfarb, MD / Blogger

© Charles Goldfarb, MD / Blogger

ক্লিনোড্যাক্টলি হল আঙুলের ত্রুটি, যা ছোট আঙ্গুল বাঁকা হওয়ার কারণ হতে পারে। সাম্প্রতিক, বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে, শিশুরা উত্তরাধিকার সূত্রে জেনেটিক্যাল এই বৈশিষ্ট্য পেয়ে থাকে।

ছোট আঙ্গুল যদি বেশি বাঁকা না হয়, তবে এতে অস্বস্তির কিছু নেই। সেই মানুষেরা সেই হাত নিয়ে সারাজীবন কাটিয়ে দিতে পারে। কিন্তু, সেই আঙ্গুল যদি বেশি বাঁকা হয়, তবে তাকে সার্জারি করে সেটি ঠিক করতে হতে পারে।    

 

কানের লতির আকৃতি

© Corredor99 / MediaPunch Inc. / EAST NEWS   © Lara Croft: Tomb Raider / BBC Television Centre

© Corredor99 / MediaPunch Inc. / EAST NEWS © Lara Croft: Tomb Raider / BBC Television Centre

দু ধরনের কানের লতি রয়েছেঃ একটা হল সংযুক্ত, আরেকটা হল যুক্ত ছাড়া। আগে, মনে করা হতো যে, এটি প্রভাবশালী এবং প্রচ্ছন্ন জীনের একটি ক্লাসিক উদাহরণ। কিন্তু সাম্প্রতিক বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন যে, কানের লতি এই ক্যাটাগরির কোনটার মধ্যেই পড়ে না। কানের লতির আকৃতিকে প্রভাবিত করার জন্য বিভিন্ন জীন রয়েছে।

সব ক্ষেত্রেই, কানের লতির আকৃতি স্পষ্টভাবে জেনেটিক্যালি বংশপরম্পরায় হয়ে থাকে।

 

সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল

© AFP / EAST NEWS   © AFP / EAST NEWS

© AFP / EAST NEWS © AFP / EAST NEWS

বিজ্ঞানীরা জীবনের সময় নির্ধারণ করার জন্য এমন সব ব্যক্তিদের নিয়ে গবেষণা করেছেন, যারা দীর্ঘ বছর ধরে জীবনযাপন করছে। বিভিন্ন গবেষণার ফলাফলে দেখা যায় যে, এই ব্যক্তিদের মধ্যে শিক্ষা, আয় বা পেশার ক্ষেত্রে কমন কিছু নেই। তবে, তাদের একই বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ধূমপান করেন না, বেশি ওজন হয় না এবং স্ট্রেসের সাথে ভালোভাবে মোকাবেলা করতে পারে। এবং তাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী।

এছাড়াও এটা জানা গেছে যে, ভাইবোনেরা যদি সুস্থ জীবনযাপন করে তাহলে তারা দীর্ঘদিন যাপৎ বেঁচে থাকে।  

 

 ঘেমে যাওয়া 

© Depositphotos   © Depositphotos

© Depositphotos © Depositphotos

যদিও এটি কিছুটা অদ্ভুত মনে হতে পারে, তবে কয়েকজন ব্যক্তিদের ঘামের জন্য জীনগুলো দায়ী থাকে। কিন্তু, এটার জন্য দায়ী জীনগুলো কোথায় অবস্থান করে তা এখনো জানা যায়নি।   

সব মানুষদের ক্ষেত্রে খেলাধুলা করার সময় ঘেমে যাওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু যেকোন আবহাওয়ায় আপনি যদি সবসময় ঘামেন, তাহলে সম্ভবত আপনি এটা আপনার মা-বাবার কাছ থেকে কিছুটা পেয়েছেন। এছাড়াও, এটি বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, তাই আপনাকে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হতে পারে।   

 

কম দেখা 

© EAST NEWS   © ACLA / Broadimage / EAST NEWS

© EAST NEWS © ACLA / Broadimage / EAST NEWS

বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, পরিবারে দৃষ্টিক্ষীণতা বংশপরম্পরায় হতে পারে। বেশিরভাগ শিশু যাদের পিতা-মাতা দৃষ্টিক্ষীণতায় ভোগে, তারা অন্যান্য মানুষের তুলনায় দৃষ্টিক্ষীণতায় আক্রান্ত হতে পারে।  

 

ওজন বাড়ার প্রবণতা

© AdMedia / Capital Pictures / EAST NEWS   © Gilbert Flores / Broadimage / EAST NEWS

© AdMedia / Capital Pictures / EAST NEWS © Gilbert Flores / Broadimage / EAST NEWS

শারীরিক ভর সূচক আপনার জীনগুলোর উপর অনেকটা নির্ভর করে। অবশ্যই, পরিবেশও এটার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে, তারপরও বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে ডিএনএতে মানুষের চর্বি ভরের ৭০% পার্থক্য পাওয়া গেছে।

দুর্ভাগ্যবশত, জীনগত কারণে একজন ব্যক্তির ওজন বেশি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই যদি একজন ব্যক্তি সুস্থ থাকে, তবে সহজ নিয়ম অনুসরণ করে তার বাড়তি ওজন কমাতে পারেন।  

 

বোনাসঃ একটি দুর্লভ জেনেটিক জন্মদাগ

© Brianna Worthy / Facebook

© Brianna Worthy / Facebook

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ২ বছর বয়সী মিলি অ্যানা তার সামনের চুলের সাদা অংশটি তার মায়ের কাছ থেকে জন্মগতভাবে পেয়েছিল। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়টি হল, মিলিঅ্যানা বংশপরম্পরায় এই জন্মের দাগ পাওয়া তার পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম।     

আপনি যদি আপনার অভিভাবক থেকে বংশপরম্পরায় আবেগ এবং আক্রমণাত্মক মনোভাব পেয়ে থাকেন, তারপরেও বিরক্ত হবেন না। কারণ আপনার পরিবেশের প্রভাব এবং আপনার নিজস্ব ইচ্ছাশক্তি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি ইচ্ছে করলেই সেটা পরিবর্তন করতে পারেন। তবে হ্যাঁ, সেটা আপনার নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখাটা একটু কঠিন হতে পারে, তবে এটা সম্ভব।

 

আপনি আপনার পিতা-মাতা থেকে কোন বৈশিষ্ট্যগুলো পেয়েছেন? কমেন্টে আমাদের সাথে শেয়ার করে জানাতে পারেন।

   



জনপ্রিয়