সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পর্বতারোহী রেইনহোল্ড মেসনার    সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পর্বতারোহী রেইনহোল্ড মেসনার

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পর্বতারোহী রেইনহোল্ড মেসনার

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পর্বতারোহী কে? এই প্রশ্নের উত্তরে কোন পর্বতারোহী দ্বিতীয়বার না ভেবেই বলবেন রেইনহোল্ড মেসনার! ১৯৪৪ সালে জন্ম নেওয়া ইতালীয় পর্বতারোহী।

রেইনহোল্ড মেসনার

রেইনহোল্ড মেসনার

চিকিৎসা বিজ্ঞানকে ভুল প্রমাণ করে যিনি প্রথম মানুষ হিসেবে অক্সিজেন ছাড়াই উঠে গিয়েছিলেন এভারেস্টের চূড়ায়, সাল ১৯৭৮। তারপর চিন্তা করলেন বর্ষাকালে আরেকবার এবারেস্টে উঠে দেখা যেতে পারে অক্সিজেন ছাড়া! উন্মাদীয় চিন্তা ভাবনা! কিন্তু ২ বছর পর আবারো প্রথম মানুষ হিসেবে এভারেস্টে উঠলেন অক্সিজেন ছাড়া, বর্ষাকালে। এরপর তিনি ভাবলেন অক্সিজেন ছাড়া সবগুলো ৮ হাজার মিটারী পর্বতে উঠবেন।

এভারেস্টে না হয় উঠা গেলো, কিন্তু ৮ হাজার মিটারে অনেক পর্বত আছে এভারেস্ট নিতান্তই ডালভাত ওগুলোর তুলনায়। কিন্তু তিনি একে একে ১৪ টা ৮ হাজার মিটারী পর্বত সামিট করে ফেললেন অক্সিজেন ছাড়াই, ৮ বছরের মধ্যেই। এর ভিতর গ্রাসারব্রুম ১ এবং ২ একসাথেই সামিট করছেন বেজক্যাম্পে না ফিরেই, এটাও রেকর্ড।

রেইনহোল্ড মেসনার

রেইনহোল্ড মেসনার

১৯৭৮ সালে তিনি এ তিনি নাঙ্গা পর্বতের চূড়ায় রওয়ানা করছিলেন একাই। সফল ভাবে সামিট করছেন। এটাও প্রথম মানব হিসেবে। এই নাঙ্গা পর্বতেই ঘটেছিল তার জীবনের সবচেয়ে ট্র্যাজিক ঘটনা। ১৯৭০ সাল, ২৬ বছর বয়সী রেইনহোল্ড মেসনার ও তার ভাই গুন্টার মেসনার পাকিস্তানে অবস্থিত নাঙ্গা পর্বত অভিযানে গেছেন। এটার আরেক নাম কিলার মাউন্টেন। বেঁচে ফিরাই এখানে বিষ্ময়।

এককভাবে হিমালয়ের আট হাজার মিটারের সবচেয়ে বেশি পর্বত পড়ছে পাকিস্তানে, তারপর নেপাল, তারপর তিব্বত এবং ইন্ডিয়া। পৃথিবীর সব আট হাজার মিটারের পর্বত এই চারটা দেশেই। হিমালয় আর কারাকোরামে। যাই হোক, মেসনাররা দুই ভাই নাঙ্গা পর্বতে যাওয়ার সময় রেইনহোল্ড মাকে বলছে গুন্টারকে তার কাছে আবার ফিরিয়ে আনবে। এডভান্স ক্যাম্প থেকে তারা সিদ্ধান্ত নিছে রেইনহোল্ড চূড়ার দিকে রওনা করবে, আর গুন্টার রোপ ফিক্স করবে, যাতে সামিট শেষে রেইনহোল্ড নেমে আসতে পারে।

রেইনহোল্ড মেসনার

রেইনহোল্ড মেসনার

রেইনহোল্ড চূড়ার দিকে রওনা করার ঘন্টা খানেক পর গুন্টার দড়ি টড়ি সব ফেলে সেও চূড়ার দিকে রওয়ানা করছে রেইনহোল্ডের নির্দেশ অমান্য করেই। তিনি ভাবলেন বড়ভাই সামিট করবে আর তিনি পারবেনা এটা কিছুতেই হবেনা। চূড়ার কাছাকাছি তিনি রেইনহোল্ডকে ধরে ফেললেন। পরে দুজনই সামিট করছেন। উঠা যতটা কঠিন নামা তার চেয়ে বহু কঠিন।

গুন্টার রোপ না লাগিয়ে উঠে পড়েছিলেন। খাড়া দেয়াল বেয়ে নামা অসম্ভব। ওখানেই রাত কাটাতে হইছে মাইনাস ত্রিশ ডিগ্রিতে। তারা ফিরে না আসায় বেসক্যাম্প থেকে তাদের খোঁজে দুজনকে পাঠালো পথে কোথাও আটকা পড়ছে কিনা দেখার জন্য। কিন্তু পাওয়া যায় নি। রাতটা কোনমতে টিকে যাওয়ায় পরে রেইহোল্ড সিদ্ধান্ত নিলো পাশের ভ্যালি দিয়ে নেমে যাবে। কোন ম্যাপ নেই মাইলের পর মাইল একই রকমও হতে পারে। তবুও নামার সিদ্ধান্ত হলো, বেঁচে থাকার শেষ প্রচেষ্টা। কিছুদূর গিয়েই গুন্টার বসে পড়লেন ক্লান্ত হয়ে। এরমধ্যে তুষারধস ঢেকে ফেললো গুন্টারকে।

রেইনহোল্ড মেসনার

রেইনহোল্ড মেসনার

রেইনহোল্ড একটু আগে আগে হাঁটছিলেন, তুষারধসের আলামত বুঝে পেছনে এসে দেখেন ছোটভাই চিরতরে হারিয়ে গেছে পর্বতের বুকে। তাও কয়েকঘন্টা ভাইকে খুঁজে পাওয়ার নিষ্ফল পরিশ্রম করলেন। চারদিন পর বিধ্বস্ত অবস্থায় কাশ্মীরের একটা ছোট্ট গ্রামে ফিরতে পেরেছিলেন রেইনহোল্ড। যদিও ফ্রস্টবাইটে হারাতে হয়েছিলো পায়ের সাতটা আঙ্গুল।

পর্বতে পায়ের আঙ্গুল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওটাই ছিলো রেইনহোল্ডের ৮ হাজার মিটারে প্রথম অভিযান। বাকি জীবন তিন আঙ্গুলে তার ব্যালেন্স রাখতে হয়েছে পর্বতে। পর্বতের কথা বাদ দিলেও রেইহোল্ডকে মানুষ মনে রাখতো উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে তার দুঃসাহসিক সব অভিযানের জন্য।

আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ...



জনপ্রিয়