ভুতুড়ে জাহাজ- যে রহস্যের সমাধান আজও হয়নি!   ভুতুড়ে জাহাজ- যে রহস্যের সমাধান আজও হয়নি!

ভুতুড়ে জাহাজ- যে রহস্যের সমাধান আজও হয়নি!

এই ভুতুড়ে জাহাজগুলো, ভৌতিক নাবিকদের বাড়ি নয়, কিন্তু তারা সমানভাবে রহস্যময়। এই জাহাজগুলো থেকে নাবিকদল যেন বাতাসে গায়েব হয়ে গিয়েছিলেন! কোন চিহ্নই আর পাওয়া যায়নি।

পৃথিবীর ইতিহাসের ভৌতিক ও রহস্যময় জাহাজগুলো নিয়েই আমাদের আজকের এই আয়োজন।

 

সকল ভুতুড়ে জাহাজের সেরা ভুতুড়ে জাহাজ!

source: internet

source: internet

১৮৭২ সালের ৭ নভেম্বরে, একজন জাহাজের ক্যাপ্টেন, তার স্ত্রী, দুই বছর বয়সী মেয়ে এবং সাতজন ক্রুমিয়ার নিউইয়র্ক থেকে মেরি সেলেস্টে ইতালির দিকে যাত্রা শুরু করেন। এক মাসের মধ্যে তাদের পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ব্রিটিশ জাহাজ দে গ্রাটিয়া আটলান্টিকে এই জাহাজটিকে ভাসতে দেখে। দে গ্রাটিয়ার ক্রুরা সেখানে গিয়ে দেখে পুরো জাহাজ খালি! সেখানে তখনও ৬ মাসের খাদ্য এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ছিল কিন্তু লাইফবোটগুলো ছিল না!  জাহাজের মেঝে তিন ফুট পানি দ্বারা আবৃত ছিল, কিন্তু যে পর্যন্ত থেকে প্লাবিত ছিল তা মেরামত সম্ভব ছিল না। 

এটি বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত ভুতুড়ে জাহাজের মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে - ধন্যবাদ স্যার আর্থার কোনান ডয়েলকে, তার সংক্ষিপ্ত গল্পের জন্য অনুপ্রেরণার মতো জাহাজটি ব্যবহার করেছিলেন, J. Habakuk Jephson’s Statement”। সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্য হল জাহাজের ক্যাপ্টেন ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বুঝতে পারেন নি এবং ক্রুদেরকে ভূমি দেখার সাথে সাথে জাহাজ পরিত্যাগ করার আদেশ দেন। কিন্তু এই পৃথিবী প্রকৃত সত্যটা কখনও জানতে পারবে না!

 

আউটার ব্যাঙ্কস মিস্ট্রি

source: internet

source: internet

Carroll A. Deering-এর  কার্গো জাহাজ এবং তার দশজন ক্রু সফলভাবে ১৯২০ সালে রিও ডি জেনেইরোতে প্রবেশ করেছিল, কারণ তাদের ক্যাপ্টেন অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। কিন্তু ভার্জিনিয়া আসার পথে অদ্ভুত কিছু ঘটে। উত্তর ক্যারোলিনার একজন লাইটশিপ রক্ষক বলেছিলেন যে, একজন ক্রুম্যান যাকে কোনভাবেই অফিসারের মতো মনে হয় না বলেছিলেন জাহাজটি তার নোঙ্গর হারিয়েছে, যখন বাকি কর্মীরা সন্দেহজনকভাবে "মিলিত" ছিল।আরেকটি জাহাজ পরের দিন অউটার ব্যাংকের কাছাকাছি Carroll A. Deering-কে দেখেছিল, যা ভার্জিনিয়া নরফোকের পথে যাওয়ার জন্য একটি জাহাজের অদ্ভুত কোর্স ছিল। পরের দিন, একটি জাহাজ ভাঙ্গা দেখা যায়, কিন্তু বিপজ্জনক অবস্থার কারণে তদন্তকারীরা চার দিনের জন্য দূরে ছিল। পরে সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান খাবার সাজানো আছে যেন এখনই কেউ খেতে বসবে, কিন্তু ক্রুদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং লাইফবোট ছিল না! ফেডারেল সরকার জলদস্যুসহ নানাভাবে তদন্ত করেন কিন্তু কোন কিছুই পাওয়া যায় নি। 

 

উইদআউট আ ট্রেস!

source: internet

source: internet

কিছু জাহাজ এতো বেশি রহস্যময়, এর পেছনে কোন গল্পও নেই! ২০০৬ সালে, অস্ট্রেলিয়ান কোস্টওয়াচ সমুদ্রে ভাসমান একটি জাহাজ খুঁজে পেয়েছিল। এটার নোঙ্গর ভাঙ্গা ছিল, তাই জল থেকে টেনে নিয়ে আসার সময় বোঝা যায় কেন এটি খালি ছিল। জাহাজটির নাম ছিল Jian Seng, কিন্তু জাহাজটিকে চেনার জন্য আর কোন চিহ্ন ছিল না। তদন্তকারীরা কোন ডিস্ট্রেস সিগন্যাল, কোন কাগজপত্র বা জিনিসপত্র এমনকি জাহাজ হারানোর কোন রিপোর্টও খুঁজে পাননি। তারা এটাও বের করতে পারেননি এটা কার ছিল বা কোথা হতে এসেছে। তারা সবচেয়ে বেশি ধারণা করতে পারে যে এটি সম্ভবত মাছ ধরার নৌকাগুলিতে খাদ্য ও জ্বালানী সরবরাহ করেছিল, কিন্তু এটি যখন ভেঙ্গে যায় তখন কেউ কেন এটিকে রক্ষার চেষ্টা করেনি তার কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

 

 এইমিং হাই

source: internet

source: internet

মাছ ধরা জাহাজ High Aim No. 6  ২০০২ সালে হ্যালোইনের সময় তাইওয়ান ছেড়ে গিয়েছিল, ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে যখন অস্ট্রেলিয়ান নৌবাহিনী জাহাজ জুড়ে এসেছিল, বেশ কিছু জিনিস বিশৃঙ্খল ছিল। ইঞ্জিনটি সম্পূর্ণ থ্রোটলে ছিল এবং মূল গ্যাস ট্যাংকটি খালি ছিল, কিন্তু সহায়তাকারী জ্বালানী ট্যাঙ্কগুলি তখনও সম্পূর্ণ ছিল, কেউ এটি স্পর্শ করেনি! ১০ টন বনিটো টুনা মাছ কোল্ড স্টোরেজে ছিল কিন্তু একজন ক্রু মেম্বারও ছিল না। এটি সবচেয়ে বেশি ভুতুড়ে জাহাজের একটি ছিল যতদিন না পর্যন্ত এর একজন ক্রুকে খুঁজে পাওয়া যায়। ইন্দোনেশিয়ার সেই জেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং সে স্বীকার করেছিল ক্রুরা জলদস্যুদের সাথে হাত মিলিয়ে জাহাজের ক্যাপ্টেন এবং প্রধান প্রকৌশলীকে হত্যা করেছিল। এটার পেছনের কারণ এখনও অজানা।

 

গোস্ট টেক্সট

source: internet

source: internet

Nina নামক ইয়টের ক্রুরা বিপজ্জনক আবহাওয়া পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আবহাওয়াবিদদের কাছে পৌঁছেছিলেন কিন্তু এরপর সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়। প্রতি ঘন্টায় ৭০ মাইল বাতাস এবং ২৬ ফুট উঁচু স্রোতের মাঝে এটা বোঝা গিয়েছিল এটি ঝড়ের সাথে যুদ্ধে টিকতে পারবে না। একটি রহস্যজনক বার্তা পাওয়া না গেলে একটি ব্যর্থ অনুসন্ধানেই এটি শেষ হতে পারতো। ক্রুদের কোন খবর ছাড়া তিন সপ্তাহ পর একজন আবহাওয়াবিদের কাছে একটি বার্তা এসে পৌঁছায়। “Thanks storm sails shredded last night, now bare poles,” এটা লেখা ছিল যার মানে জাহাজটি তখনও ভাসমান অবস্থায় ছিল। নৌকার ১৯ বছর বয়সী মেয়েটির পরিবারটি সেই বার্তাটির কারণে এখনও তাদের মেয়ে বেঁচে আছে বলে মনে করে। তারা ব্যাক্তিগত অনুসন্ধান শুরু করে এবং স্যাটেলাইট ছবি সংগ্রহ করে। যদিও তারা মনে করেছিল এটি জাহাজের ছবি হবে কিন্তু পরে দেখা যায় এগুলো বড় ঢেউ ছাড়া আর কিছুই নয়!

 

ব্যাখ্যাতীত

source: internet

source: internet

১৯৫৫ সালে বণিক জাহাজ এমভি জয়িতা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুই দিনের জন্য যাত্রা শুরু করে, কিন্তু এটি কখনই তার গন্তব্যে পৌঁছায়নি। তদন্তকারীরা কিছুই খুঁজে পান নি,  যতদিন না পর্যন্ত অন্য জাহাজের এক ক্যাপ্টেন একটি ডুবো জাহাজের সামান্য অংশ দেখতে পান। সেখানে ২৫ জন যাত্রীর কোন চিহ্নই ছিল না, তদন্তকারীরা এটিকে 'অবিশ্বাস্য' বলে রায় দেয়। বছরের পর বছর ধরে কালো তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। কেউ বলে রাশিয়ান সাবমেরিন যাত্রীদের অপহরণ করেছে আবার কেউ কেউ বলে জাপানি জেলেরা সবাইকে হত্যা করেছে। এখনও অনেকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন এর পেছনে কি কারণ থাকতে পারে, এক অধ্যাপক জোর দিয়ে বলেন যে একটি ক্ষয়প্রাপ্ত পাইপের কারণে এটি পানিতে ডুবে যায় এবং যাত্রীরা জাহাজ ছাড়তে বাধ্য হয়। 

 

মডার্ন মমি!

source: internet

source: internet

২০১৬ সালে ফিলিপাইনের জেলে পরিত্যক্ত ইয়টে যে দৃশ্য দেখতে পান তা দেখবেন বলে কখনও কল্পনা করতে পারেননি, একজন জার্মান নাবিকের মমি করা শরীর!  Manfred Fritz Bajorat  প্রায় ২০ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে ঘুরছিল। তাকে শেষ দেখা যায় ২০০৯ সালে, যদিও একজন বন্ধু বলে Manfred Fritz Bajorat -এর সাথে ২০১৫ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে তাঁর যোগাযোগ হয়। শরীরে কাটাকাটির কোন দাগ ছিল না, তাই এক বছরের মধ্যে উষ্ণ, নরম বাতাস শরীরকে মমি করার জন্য যথেষ্ট- যতদিন না পর্যন্ত একটি ময়নাতদন্ত প্রকাশ পায় যেখানে বলা হয় তিনি সম্ভবত এক সপ্তাহ আগে মারা গেছেন!

 

ইয়ট ভ্রমণ যখন ভুল হয়!

source: internet

source: internet

২০০৭ সালের এপ্রিল মাসে, দুই ভাই এবং একজন ক্যাপ্টেন অস্ট্রেলিয়া জুড়ে দুই মাসের ইয়ট যাত্রা শুরু করেছিলেন। মাত্র তিন দিন পরে, Kaz II - কে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের কাছে অর্ধেক খালি কফি কাপ, একটি খোলা সংবাদপত্র এবং মেঝেতে একটি ছুরি খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়, কিন্তু কোন মানুষ সেখানে ছিল না। একজন কর্নেল বলেন, অনভিজ্ঞ নাবিকদের মধ্যে একজনের পতন ঘটেছিল এবং অন্যরা তাকে উদ্ধার ্করতে গিয়ে ডুবে যায়। কিন্তু এই তত্ত্বের পেছনে কোন প্রমাণ ছিল না। তাই তাদের ভাগ্য ইতিহাসেই হারিয়ে যায়।

 

প্রকৃতি মাঝে মাঝে কোন রহস্য খোলাসা করে না, নিজের মধ্যেই রেখে দেয়। আজকের ঘটনাগুলো এরকম কিছু রহস্য।

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের মাধ্যমে আমাদের সাথেই থাকুন। আমাদের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।



জনপ্রিয়