এই পাগলাটে নিয়মগুলো কিছু দেশে খুবই সাধারণ ব্যাপার! এই পাগলাটে নিয়মগুলো কিছু দেশে খুবই সাধারণ ব্যাপার!

এই পাগলাটে নিয়মগুলো কিছু দেশে খুবই সাধারণ ব্যাপার!

প্রত্যেক দেশের নিজস্ব আইন, ঐতিহ্য, নিয়ম এবং নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলি রয়েছে যা অন্যান্য সংস্কৃতির লোকেদের কাছে অদ্ভুত, এমনকি ভয়ঙ্কর মনে হতে পারে! উদাহরণস্বরূপ, আপনি কি জানেন যে ভারতে নারী বৃক্ষকে বিয়ে করতে পারে? এটা না যে তারা প্রকৃতিকে অনেক ভালোবাসে! আবার দক্ষিণ কোরিয়াতে বাচ্চা জন্ম হলেই ১ বছর বয়সী ধরা হয়! আবার অস্ট্রেলিয়াতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে জরিমানা করা হয়! 

আমাদের বিশ্ব আশ্চর্যজনক এবং অনন্য, নিচের এই পাগলাটে নিয়মগুলো তাই প্রমাণ করে।

 

ভারতে কিছু নারী বৃক্ষ বিয়ে করে!

source: internet

source: internet

এই অদ্ভুত ঐতিহ্যের কারণটি হচ্ছে যে বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে এটা বিশ্বাস করা হয় যে মঙ্গলগ্রহের শক্তিশালী প্রভাবের অধীনে থাকে তারা শুভ বিবাহের জন্য উপযুক্ত না। এদেরকে মাঙ্গলিক বলা হয় এবং এক মাঙ্গলিকের সাথে অন্য মাঙ্গলিকের বিয়ের জন্য এই দেশে বিয়ের ওয়েবসাইটও আছে! এটা বিশ্বাস করা হয় যে এক মাঙ্গলিক অন্য মাঙ্গলিককে খারাপ ভাগ্য থেকে প্রতিহত করে।

তবে, ভারতীয় মহিলাদের জন্য ব্যাপারটা আরও কষ্টের কারণ এখানে মনে করা হয় মাঙ্গলিক বধূরা মঙ্গলের অধিক প্রভাবের কারণে তার স্বামীর সাস্থ্যের ক্ষতি করে। এই কারণে ঐ মহিলাদের প্রথমে গাছের সাথে বিয়ে দেওয়া হয় যাতে তার খারাপ ভাগ্য গাছের উপর পড়ে! এই অনুষ্ঠানের পর গাছটি কেটে ফেলা হয় এবং পুড়িয়ে ফেলা হয়। এরপর ঐ মহিলা কোন পুরুষকে বিয়ে করতে পারে। 

অদ্ভুত ব্যাপার হল, পুরুষদের এই ধরনের কোন অনুষ্ঠান পালন করতে হয় না। লিঙ্গ বৈষম্য এখানে যে কত প্রকট তা এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায়। 

 

ইন্দোনেশিয়ার সুদানি লোকরা কখনো কখনো প্লেটের পরিবর্তে কলা পাতা ব্যবহার করে!

source: internet

source: internet

অনুরূপ ঐতিহ্য অন্যান্য উষ্ণ দেশে দেখা যায়, তবে ইন্দোনেশিয়ার কিছু অংশে একটি কলা পাতা একসাথে অনেক লোকের জন্য একটি প্লেট হিসাবে কাজ করে। এই ধরনের খাওয়াকে 'botram' বলা হয় যার অর্থ একসাথে খাওয়া।

সম্পূর্ণ ভিন্ন সামাজিক অবস্থানের সকল মানুষ একসাথে খেতে পারে, একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার, একজন গভর্নর, একজন বেকার ব্যক্তি, একজন শিক্ষক, শহরের মেয়র ইত্যাদি। এটা বিশ্বাস করা হয় যে 'botram' তাদের উৎপত্তি নির্বিশেষে সব মানুষকে একত্রিত করে। 

 

নেপালের বাসিন্দাদের মধ্যে কুমারী দেবীর একটি প্রথা রয়েছে এবং ছোট মেয়েদের এই দেবী বানানো হয়!

© AP / EAST NEWS

© AP / EAST NEWS

নেপালের মানুষ বিশ্বাস করে যে হিন্দু দেবী টলেজুর সাথে ছোট মেয়েদের পার্থিব যোগাযোগ আছে যাদের দেহের মাঝে সে কখন কখনও থাকে। কুমারীর (জীবন্ত দেবী) সন্ধানের প্রক্রিয়া দালাই লামার নতুন অবতারগুলির সন্ধানের প্রক্রিয়াটির মতো। এটি জ্যোতিষী ও ভিক্ষুরা দ্বারা সম্পন্ন করা হয়- তারা নেওয়ারি সম্প্রদায়ের শাক্য জাতের মধ্যে কুমারী মেয়ে খুঁজে।

দেশের অনেক কুমারী আছে, কিন্তু সবচেয়ে বিখ্যাত এক রয়েল কুমারী যে কাঠমান্ডুতে বসবাস করে। নির্বাচন প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েকটি কঠোর আচার-পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এরপর সেই কুমারী দেবী প্রাসাদে থাকা শুরু করে যেখানে মানুষ তার ভালো স্বাস্থ্য ও তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য আশীর্বাদ নিতে আসে।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার নবজাত শিশুদেরকে এক বছর বয়সী বলে মনে করা হয়!

© romrodinka / Depositphotos   © leungchopan / Depositphotos

© romrodinka / Depositphotos © leungchopan / Depositphotos

দক্ষিণ কোরিয়া এবং অন্য কোন দেশে নবজাত শিশুদেরকে এক বছর বয়সী বলে মনে করা হয়। উপরন্তু, এটি বিশ্বাস করা হয় যে একজন ব্যক্তি তার জন্মদিনে (যদিও এটিও উদযাপন করা হয়) এক বছর বয়সে বড় হয়ে যায় যা হয় চন্দ্র নববর্ষের প্রথম দিনে।

সুতরাং, যদি একটি বাচ্চা চন্দ্র ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১২তম মাসের ২৯তম দিনে জন্মগ্রহণ করেন, তাহলে তিনি চান্দ্র নববর্ষের প্রথম দিনে ২ বছর বয়সী হয়ে যাবেন যখন প্রকৃতপক্ষে সে মাত্র কয়েক দিন বয়সী!

সমসাময়িক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার, সেইসাথে বয়সের সমসাময়িক পরিমাপ, কোরিয়াতেও ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ডকুমেন্ট পূরণ করার সময় তারা এই তথ্যটি ব্যবহার করে এবং এই বয়সটি যখন স্কুল শুরু হয় বা যখন তারা বৈধভাবে বিবাহিত হতে অনুমতি নেয় তখন এটি ব্যবহার করা হয়।

 

একটি মেট্রোরেল চীনের একটি অ্যাপার্টমেন্টের একটি ব্লকের মধ্য দিয়ে আসা-যাওয়া করে!

© Exclusivepix Media / EAST NEWS   © Exclusivepix Media / EAST NEWS

© Exclusivepix Media / EAST NEWS © Exclusivepix Media / EAST NEWS

চীনের শহর চংকিংয়ে আপনি একটি অত্যন্ত আধুনিক স্থাপত্যিক সমাধান দেখতে পাবেন- লিজবা মোনোরেল ট্রেন স্টেশন একটি আবাসিক ভবনের ভিতরে অবস্থিত! ষষ্ঠ ফ্লোরের মধ্য দিয়ে এটি আসা-যাওয়া করে। এটি দেখে একেক মানুষের একেক রকম প্রতিক্রিয়া হয়, কেউ তারিফ করে আবার কেউ এটা ঠিক মনে করে না।

জাপানেও এই সমাধান ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। জাপানেরটা আবাসিক ভবন নয়, বাণিজ্যিক ভবন এবং এর মধ্য দিয়ে মেট্রো নয়, একটি পুরো হাইওয়ে চলে গিয়েছে!

 

ফিলিপাইনের রেস্টুরেন্টে খাবারের অংশগুলো অনেক বড় বড় হয়!

source: internet

source: internet

এমন নয় যে ফিলিপিনোসরা অনেক পেটুক, কিন্তু তারা সবসময় একসাথে কয়েকজন মিলে খেতে পছন্দ করে, তাই এই আয়োজন। এই ধরনের একসাথে খাওয়ার একটা নামও আছে- 'barkada'। তাই ফিলিপাইনে ম্যাকডোনাল্ডসে ৬ জনের ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের প্যাকেট দেখলে আশ্চর্য হবেন না।

সৌদি আরবেও একই পরিস্থিতি দেখা যায় যেখানে রেস্টুরেন্টগুলো বড় পরিবারের কথা মাথায় রেখে বানানো হয়। যেমন- আপনি স্থানীয় কেএফসি-তে চিকেন উইন-সের বাকেট পাবেন যেখানে ১০-১৫ জন সহজেই খেতে পারবেন!

 

মিশরীয় ট্র্যাফিক নিয়মের ধারণাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন!

© Bios Photo / East News

© Bios Photo / East News

আপনি মিশরে যে কোনও ভাবেই ড্রাইভ করতে পারেন এবং এটি অসম্ভাব্য যে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হবে! অবশ্যই, এই ধরনের ড্রাইভিংটি ট্র্যাফিক জ্যাম, জরুরী পরিস্থিতি এবং বাইক বা হাঁটার পথে যাত্রীদের জন্য অনেক বিপদ তৈরি করে। আনুষ্ঠানিকভাবে, মিশরের ট্র্যাফিক নিয়মগুলি সারা পৃথিবীর মতো একই রকম, কিন্তু আসলে এই পুলিশরা এই নিয়ম লঙ্ঘনের প্রতি সত্যিই কোন মনোযোগ দেয় না!

 

ইতালির মানুষরা কমলা যুদ্ধের ব্যবস্থা করে!

© MIGUEL MEDINA / AFP / East News

© MIGUEL MEDINA / AFP / East News

প্রতিবছর, ফেব্রুয়ারি মাসে বা মার্চ মাসের শুরুতে, কার্নেভালে ডি'ভরয়া অনুষ্ঠান হয় যেখানে ঐতিহ্যবাহী 'কমলা যুদ্ধ' থাকে। তুষারের বলের মত মানুষ একে অপরের দিকে কমলা ছুঁড়ে পারেন, কেন কমলাই মারেন তা আপনি জানতে চাইতে পারেন।

কিছু ঐতিহাসিকদের মতে, এই যুদ্ধটি রাজাদের নিষ্ঠুরত্বের বিরুদ্ধে একটি জনপ্রিয় বিদ্রোহের প্রতীক। কিন্তু ভিওলেট্টা নামক একটি মেয়ে সম্পর্কে আরও আকর্ষণীয় কাহিনী রয়েছে যে স্থানীয় ত্রাণকর্তার কাছ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চেয়েছিল, গার্ডরা ভিওলেট্টাকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু নাগরিকরা রক্ষিবাহিনীর উপর পাথর নিক্ষেপ করে তাকে রক্ষা করেছিল। আজ, কমলা সেই পাথরের প্রতীক।

৩ দিনে প্রায় ৩৫০ টন কমলা নষ্ট করা হয়! এই অদ্ভুত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

 

গ্রেট ব্রিটেনের বাসিন্দাদের বাড়িতে প্রতিটি টিভি সেটের জন্য একটি পৃথক টিভি লাইসেন্স কিনতে হয়!

© Mike Peel / Wikipedia Commons

© Mike Peel / Wikipedia Commons

বিবিসি হল জনসাধারণের টেলিভিশন এবং টিভি এবং অন্যান্য ডিভাইস নাগরিকদের দ্বারা প্রদেয় লাইসেন্সিং ফি দ্বারা পরিচালিত হয় যেখানে তারা কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ,এমনকি গেমিং কনসোলগুলির মতো লাইভ সম্প্রচার দেখতে পারে।

এই লাইসেন্সের জন্য প্রতি বছর £ ১৪৫.৫০ খরচ এবং টিভি ব্যবহার করতে না চাইলে কেন করবেন না তারা দরখাস্তদের মাধ্যমে জানাতে করে। অন্যথা হলে, আপনাকে বিশাল জরিমানা দিতে হবে। 

 

ভোট না দিলে অস্ট্রেলিয়ায় জরিমানা করা হয়!

© WILLIAM WEST / AFP / East News

© WILLIAM WEST / AFP / East News

যদিও বিশ্বের কিছু লোক একটি নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে অভিযোগ করে এবং ঘোষণা করে যে তারা এই প্রক্রিয়ার মধ্যে আর অংশ নেবে না, অন্যদিকে কিছু জায়গায় বাধ্যমূলক ভোট দিতে হয়। অস্ট্রেলিয়া এমন একটি দেশ যেখানে জনগণকে নির্বাচন অংশগ্রহণ না করার জন্য জরিমানা দিতে হয়। জরিমানাটি বিশাল নয়, তবে জরিমানা তো বটেই। 

উদাহরণস্বরূপ, ২০১০ সালে, তাসমানিয়াতে নির্বাচনে ৬,০০০ জন লোক অংশ হয়নি এবং তাদের প্রত্যেককে ২৬ ডলার জরিমানা করা হয়েছিল!

 

আপনি যেখানে বাস করেন সেখানে কি এমন অনন্য ও অসাধারণ জিনিস আছে যা অন্যদিকে অবাক করবে? আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারবেন না।

আমাদের আয়োজন ভালো লাইলে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের মাধ্যমে আমাদের সাথেই থাকুন। আমাদের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।



জনপ্রিয়