কেন আইসল্যান্ড সবুজে ঘেরা এবং গ্রিনল্যান্ড বরফে ঢাকা?  কেন আইসল্যান্ড সবুজে ঘেরা এবং গ্রিনল্যান্ড বরফে ঢাকা?

সবুজে ঘেরা দেশ আইসল্যান্ড এবং বরফে ঢাকা গ্রিনল্যান্ড- নামকরণের রহস্য

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপের নাম আইসল্যান্ড, প্রায় ১ লক্ষ ২ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এর বিস্তার। এই ভূখণ্ডটা বালু এবং লাভাক্ষেত্র দিয়ে গঠিত যাদের ঘিরে আছে পর্বত এবং হিমবাহ। উপসাগরীয় বায়ুপ্রবাহ একে উষ্ণ করে রাখে এবং একটি সহিষ্ণু আবহাওয়া বজায় থাকে। ইউরোপের সবচেয়ে জনবিরল দেশগুলোর একটা হলো আইসল্যান্ড, মাত্র ৩,৩২,০০০ (প্রায়) মানুষের বসবাস এখানে। 

worldatlas.com

worldatlas.com

গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ। ভৌগলিকভাবে এটি উত্তর আমেরিকার কাছাকাছি হলেও এটি মূলত ইউরোপের একটা দেশ। প্রায় ২১ লক্ষ ৬৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মাত্র ৫৬ হাজার মানুষের বসবাস। এটি বিশ্বের সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৮০ ভাগ অঞ্চলই স্থায়ী বরফে আবৃত। রাজধানী নুকেই এক-তৃতীয়াংশ লোক বাস করে। অধিকাংশ জনগণ ইনুইট নৃগোষ্ঠীর যারা ১৩শ শতাব্দীতে কানাডা থেকে এখানে আসে।

Alastair Humphreys

Alastair Humphreys

আইসল্যান্ড এবং গ্রিনল্যান্ড নামের পৌরাণিক উৎপত্তি 

নরওয়েজিয়ান ভাইকিংসদের মধ্যকার ঝগড়া থেকে একটা যুদ্ধ লাগার গল্প বেশ প্রচলিত। যুদ্ধে একদল ভাইকিং কোণঠাসা হয়ে জাহাজে করে পালায় এবং একটা সবুজঘেরা দ্বীপে এসে নোঙ্গর ফেলে। এটা যাতে কেউ দখল করে নিতে না পারে তাই তারা মূল ভুখন্ডে খবর পাঠালো তারা একটা বরফ ঢাকা দ্বীপে আশ্রয় নিয়েছে যেখানে বাস করা খুবই কষ্টের। পুরোটাই বরফে অঞ্চল, তাই তারা এর নাম দিয়েছে আইসল্যান্ড। 

islamicsunrays.com

islamicsunrays.com

তারা আবার এটাও যোগ করে দিয়েছে আইসল্যান্ডের পাশেই আছে সবুজে ঘেরা এক চমৎকার দ্বীপ, মানুষ এখানে বেশ আরামে বাস করতে পারবে। তারা ঐ দ্বীপের নাম বলে গ্রিনল্যান্ড। 

Source: hispotion.com

Source: hispotion.com

আইসল্যান্ডের নামকরণঃ

আইসল্যান্ড এক সময় ছিলো বিরান ভূমি। নবম শতাব্দীতে এখানে প্রথম জনবসতি স্থাপিত হয়। লোককাহিনী অনুযায়ী, নরওয়েজিয়ান ভাইকিং নাদাদর প্রথম আইসল্যান্ড আবিষ্কার করেন এবং যখন তিনি এই দ্বীপের উপকূলে এসে পৌঁছান তখন সেখানে তুষারপাত হচ্ছিলো। নাদাদর দ্বীপটির নাম দিলেন ‘Snow land‘। নাদাদরের পর আইসল্যান্ডে আসেন সুইডিশ ভাইকিং গারোর সভাভারোসন। সভাভারোসন বসতি স্থাপন করার পর সেটি নিজের নামে নামকরণ করেন ‘Garðarshólmur‘ বা গারোর দ্বীপ (Garðar’s Isle)। আজও এই নাম টিকে রয়েছে, আইসল্যান্ড আরেকটি যে নামে পরিচিত তা হলো ‘Garðarshólmur‘। গারোর পরে দ্বীপে যে ভাইকিং বসতি স্থাপন করেছিলেন, তার ভাগ্য ছিলো দুঃখ-দুর্দশায় ভরা। 

Garðarshólmur‘

Garðarshólmur‘

এক ভাইকিং আইসল্যান্ডের পথে পাড়ি জমানোর পথে নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে ডুবে তার মেয়ে মৃত্যুবরণ করে। যতদিনে  সে আইসল্যান্ডে পৌঁছায়, ততদিনে দ্বীপের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া সকল পশু-পাখিও মারা যায়। সবকিছু হারিয়ে খুবই হতাশ হয়ে পড়েছিলো সে। প্রচলিত উপকথা অনুসারে, এরপর সমুদ্রের ধারে কোনো এক পর্বতশীর্ষে আরোহণ করে সে। পর্বতের চূড়ায় দাঁড়িয়ে এক বিশাল বরফ খণ্ড নজরে আসে তার। রাগে ও হতাশায় নিঃস্ব সে তখন দ্বীপটির নাম বদলে নতুন নাম দেন আইসল্যান্ড। সেই থেকে আজও এই নামেই পরিচিত উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপটি।

গ্রিনল্যান্ডের নামকরণঃ

গ্রিনল্যান্ডের তাপমাত্রা আজকে যত কম দেখাচ্ছে, একসময় কিন্তু এত কম ছিলো না। হাজার বছর ধরে জমে থাকা বরফ ও সেখানের ভেতরে থাকা শামুকের খোলসের প্রাপ্ত অংশ নিয়ে করা গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৮০০-১৩০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ অংশ বর্তমানের তুলনায় অনেক উষ্ণ ছিলো। 

গ্রিনল্যান্ডের নামকরণ করেন এরিক দ্য রেড নামের এক ভাইকিং যার আসল নাম এরিক থরভালদসন। এরিকই ছিলো ইউরোপের প্রথম নাগরিক যিনি গ্রিনল্যান্ডে পা রাখেন এবং সেখানে বসতি স্থাপন করে। খুনের দায়ে পরিবার নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো এরিক একসময় এক সবুজ ঘেরা দ্বীপ আবিষ্কার করেন। সময়টা ছিল গ্রীষ্মকাল এবং এরিক নেমেছিলো দ্বীপটির দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে, উষ্ণ তাপমাত্রা ফসল ও সবুজ প্রকৃতির জন্য সহায়ক ছিলো।  উপকথা অনুযায়ী, বসতি স্থাপনের জন্য এরিক তখন অন্যান্যদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং দ্বীপটির নাম দেন গ্রিনল্যান্ড। 

দ্বীপটির দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ

দ্বীপটির দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ

worldatlas.com থেকে অনূদিত।

 



জনপ্রিয়