স্টিফেন হকিং: প্রথমবার নাকি দ্বিতীয়বার মৃত্যু!

 স্টিফেন হকিং: প্রথমবার নাকি দ্বিতীয়বার মৃত্যু! স্টিফেন হকিং: প্রথমবার নাকি দ্বিতীয়বার মৃত্যু!

স্টিভেন উইলিয়াম হকিং, মহান এই বিজ্ঞানী ৮ জানুয়ারি, ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৪ মার্চ, ২০১৮ সালে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। বিশিষ্ট ইংরেজ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতজ্ঞ হিসেবে বিশ্বের সর্বত্র পরিচিত ছিলেন। তাঁকে বিশ্বের সমকালীন তাত্ত্বিক পদার্থবিদদের মধ্যে অন্যতম সেরা হিসাবে বিবেচনা করা হত। শারীরিকভাবে ভীষণরকম অচল এবং এ.এল.এসের (এমায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস বা লাউ গেহরিগ রোগ - যা একপ্রকার মোটর নিউরন রোগ) জন্য ক্রমাগতভাবে সম্পূর্ণ অথর্বতার দিকে ধাবিত হওয়া সত্ত্বেও বহু বছর যাবৎ তিনি তাঁর গবেষণা কার্যক্রম সাফল্যের সঙ্গে চালিয়ে গিয়েছেন।

পদার্থবিজ্ঞানে হকিংয়ের দুইটি অবদানের কথা সবচেয়ে বেশি স্বীকৃত। প্রথম সাধারণ আপেক্ষিকতায় সিংগুলারিটি সংক্রান্ত ও দ্বিতীয় ব্লাক হোল সংক্রান্ত। তিনি রয়েল সোসাইটি অব আর্টসের সম্মানীয় ফেলো এবং পন্টিফিকাল একাডেমি অব সায়েন্সের আজীবন সদস্য। ২০১৪ সালে তাঁকে নিয়ে একটি মুভি তৈরি হয়,,নাম থিওরি অব এভরিথিং।

কিন্তু তাকে নিয়ে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচলিত আছে। পৃথিবীর অনেকেই মনে করেন, তিনি কয়েক দশক আগে মারা গিয়েছিলেন এবং মধ্যবর্তী বছরে রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক অভিজাতরা তার জায়গায় কাজ করার জন্য তাঁর মত চেহারার একজনকে ব্যবহার করেছেন।  অনেকেই মনে করেন, তার শ্রেষ্ঠ বিক্রিত বই ' আ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম' প্রকাশের তিন বছর আগে, ১৯৮৫  সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ধারণাটি অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে হতে পারে, কিন্তু ষড়যন্ত্রের তত্ত্ববিদরা ছয়টি লক্ষণ প্রকাশ করেছেন যার পক্ষে তারা যুক্তি দিয়েছেন।

তাঁর চেহারা।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের চেহারা পরিবর্তন হয়। কানের আকার ছোট হয় এবং দাঁতও পড়ে যায়। বিশেষ করে তাঁর রোগের কারণে ব্যাপারটি আর সত্য। কিন্তু তাঁর বয়স বাড়ার কোন লক্ষণ দেখা যায় না। 

আসলআসল

নকল?নকল?

তাঁর শারীরিক অবস্থান।

ALS রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ডায়াগোনেসিসের পর গড় আয়ু চার বছর হয়। স্টিফেন হকিংকে ১৯৬৩ সালে ডায়াগোনেসিস করা হয় এবং ২ বছর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আছে বলে বলা হয়। কিন্তু তিনি ২০১৮ পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন!

বিয়ের ছবি।

প্রথম স্ত্রী জেন ওয়াইল্ডের সাথে তার বিয়ের দিনের ছবিগুলি খুব সাধারণ দেখাচ্ছে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট এর তদন্তকারীরা মনে করেন হকিংয়ের পুরানো ছবিগুলো ধীরে ধীরে মুছে ফেলা হয়েছে এবং ফটোশপ বা পুনরায় শট সংস্করণের সাথে প্রতিস্থাপিত হয়েছে।

আসলআসল

নকল?নকল?

কণ্ঠস্বর-সংশ্লেষণকারী কম্পিউটার।

তাঁর কণ্ঠস্বর-সংশ্লেষণকারী কম্পিউটারের অনুমানের আরেকটি বিষয়। তাঁর একটি মুখের পেশী নাড়ানোর মাধ্যমে কম্পিউটারে লিখিত শব্দ কণ্ঠস্বর-সংশ্লেষণের মাধ্যমে কথ্য ভাষায় পরিণত হয়। তারা বিশ্বাস করে যে অধ্যাপক হকিং অভিজাতদের জন্য একটি পুতুল। কেউ বিশ্বাস করে না যে, কেউ মুখের পেশী নাড়িয়ে এই কাজটি করতে পারে এবং তারা দেখান যে, তিনি যখন তার 'কথা' বলছেন তখন তার মুখ ক্রমাগতভাবে চলছে না।

 প্রকৃতপক্ষে, প্রফেসর কোন কিছু করছেন না এবং আমরা যে শব্দটি শুনতে পাচ্ছি তা নাসার জ্যোতির্বিদ্যাবিদদের তথ্য কম্পিউটারে তথ্য টাইপ করছে। এই তথ্য যা তারা জনগণকে শুনাতে এবং বিশ্বাস করতে চায় এবং এটি প্রেরণ করা হচ্ছে হকিংয়ের হুইলচেয়ারের সাথে সংযুক্ত কম্পিউটারের মাধ্যমে।

কণ্ঠস্বর-সংশ্লেষণকারী কম্পিউটারকণ্ঠস্বর-সংশ্লেষণকারী কম্পিউটার

তত্ত্বের জটিলতা।

হকিং দ্বারা উপস্থাপিত অনেক তত্ত্ব প্রমাণ করা কঠিন। এর একটি উদাহরণ একটি টিভি প্রোগ্রাম দেখা যায়, যেখানে হকিং বিজ্ঞান কথাসাহিত্য লেখক আর্থার সি ক্লার্ক এবং কার্ল সাগানের পাশাপাশি হাজির হন।

এখানে বলা হয়, 'দুই ধরনের সময় আছে, একটি বাস্তব সময় এবং আরেকটি ঘড়ি দ্বারা পরিমাপের সময়। ঘড়ির সময় যা আমরা অনুভব করি, সেই সময় যা আমরা বড় হয়েছি। তারপর আছে কাল্পনিক সময় যার একটি সুনির্দিষ্ট গাণিতিক ধারণা আছে।  কল্পনামূলক সময়ের কোন শুরু বা শেষ নেই। কল্পনামূলক সময় পৃথিবীর পৃষ্ঠের মত নিজেই আবদ্ধ হয়। পৃথিবীর পৃষ্ঠের কোন শুরু বা শেষ নেই'।

 'পুতুল অধ্যাপক' কেন প্রয়োজন?

সবচেয়ে সাধারণ তত্ত্ব হল যে এটি ছিল, ঈশ্বরকে হারিয়ে বিজ্ঞানের শক্তিমত্তা প্রতিষ্ঠা করা। বিজ্ঞান যে সবকিছুর ব্যাখা দিতে পারে তা প্রমাণের চেষ্টা। তারা জনসাধারণকে সত্য হিসাবে তত্ত্ব গ্রহণ করাতে চান। গত দশ বছরে হকিং গ্লোবাল ওয়ার্মিং, ট্রাম্প-বিরোধী, অ্যান্টি-স্কটিশ স্বাধীনতা এবং ব্রিক্সিট-বিরোধী ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন।। তিনি হঠাৎ যেন খুব রাজনৈতিক হয়ে গেছেন।

রাজনৈতিক এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নে এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেকেই স্টিফেন হকিংকে পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানী মনে করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে হকিংয়ের নাম কীভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে তার আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে, যা সত্য অনুসন্ধানকারীরা অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে মনে করেন।

 'পুতুল অধ্যাপক'? 'পুতুল অধ্যাপক'?

কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে, স্টিফেন হকিংকে পুনরস্থাপন করা হয়েছে। তিনি ১৯৮৫ সালে নিউমোনিয়া সংক্রামিত অবস্থায় মারা যান। কিন্তু তিনি ফিরে এসে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন ও অলৌকিকভাবে একটি অবিশ্বাস্য উন্নত কম্পিউটার সিস্টেম ব্যবহার করতে থাকেন। তিনি কেবল আগের তুলনায় আরও ভালভাবে যোগাযোগ করতেই সক্ষম ছিলেন না, তিনি এমন ধারণাগুলি প্রকাশ করতে সক্ষম হলেন যা পূর্বের ধারণাগুলির বিপরীত এবং নতুন, অর্থপ্রদানকারী এজেন্ডা সমর্থন করে, যা সরকার বা বড় বড় কোম্পানিগুলি বিক্রি বা ব্যবহার করতে চায়। 

 

এই হলো স্টিফেন হকিংকে নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মূলকথা। আপনি জানুন এবং সবাইকে শেয়ারের মাধ্যমে জানার সুযোগ করে দিন। আমাদের পাশেই থাকুন। কারণ আপনাদের অনুপ্রেরণা আমাদের এগিয়ে চলার পাথেয়।

Share This Post