শিশুর হাতে স্মার্টফোন মানে তার হাতে মাদক তুলে দেওয়া!

 শিশুর হাতে স্মার্টফোন মানে তার হাতে মাদক তুলে দেওয়া!  শিশুর হাতে স্মার্টফোন মানে তার হাতে মাদক তুলে দেওয়া!

গবেষকরা বলছেন, আপনার শিশুর হাতে আপনি যদি স্মার্টফোন তুলে দেন তার মানে আপনি তাকে নেশার জগতে প্রবেশ করিয়েছেন।এই নিয়েই আমাদের আজকের এই আয়োজন।

 

 বর্তমানে, কিশোর-কিশোরীরা প্রচুর সময় ইন্টারনেটের দুনিয়ায় কাটাচ্ছে। ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, হোয়াটসাপ ইত্যাদি কিশোর-কিশোরীদের মারাত্মক নেশাগ্রস্ত করে ফেলছে। লন্ডন এর এক কনফারেন্সে এগুলো নিয়ে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিতও হয়।

প্রযুক্তিবিদ এবং কিশোর উন্নয়নের বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।  হ্যারল্লি স্ট্রিটের রিবাব ক্লিনিক বিশেষজ্ঞ ম্যান্ডি সেলিগার বলেন, কিশোর-কিশোরীরা যে পরিমাণ সময় মোবাইলের পর্দা দেখে কাটায় তা আমরা দেখেও না দেখার ভান করছি।

তিনি আরো বলেন, 'আমরা যখন শিশুদের হাতে মোবাইল অথবা ট্যাবলেট তুলে দিচ্ছি তারমানে আমরা তাদের হাতে মদের বোতল অথবা নেশার পুরিয়া ধরিয়ে দিচ্ছি"। আপনি কি বন্ধ দরজার পেছনে তাদেরকে ছেড়ে দিতে চান"? আমরা কেন এগুলোর প্রতি কম নজর দিচ্ছি? এই জিনিসটি অন্যান্য নেশার মতই মগজের ক্ষতি করছে '।

11

এই কারণে অনেক বাচ্চার ক্ষতি হচ্ছে। বিভিন্ন খবরে আমরা এগুলো জানতে পারছি। তাদের কাছে মোবাইল ছাড়া অন্যদিকে দেওয়ার মত সময় নেই!!

বর্তমানে প্রচুর কিশোর-কিশোরি পর্নোগ্রাফির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া আরো অনেক ব্যাপারে তারা জানতে পারছে যা তাদের জন্য প্রযোজ্যও না। এই অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।

লন্ডনে হারলে স্ট্রিটের চার্টার ক্লিনিকের প্রধান মেস সেলাইগার বলেন, তার রোগীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের বয়স ছিল ১৬ থেকে ২০ বছর,  যারা আসক্তির জন্য চিকিত্সা করাচ্ছে।গত দশ বছরে এর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। 

১,৫০০ জন শিক্ষক নিয়ে একটি গবেষণা চালানো হয়। তাদের মতে, দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী যৌন বিষয়ের আদান-প্রদান করে। প্রতি ৬ জনের ১ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গত ৩ বছরে ২,০০০ এর বেশি শিক্ষার্থী এইসব বিষয়ের জন্য পুলিশের কাছে ধরা খেয়েছে। এর মধ্যে ১৩-১৪ বছরের অনেক বালিকা আছে যারা সেক্স চ্যাটে আসক্ত। অপরিচিত কারো কাছে নগ্ন ছবি পাঠানো কোন ব্যাপারই না তাদের কাছে। শুধু মা-বাবার কাছে ধরা পড়লে সমস্যা হয়।

হাইগেট জেনুইন স্কুলের কিশোর বিকাশের রিচার্ড গ্রাহাম কনফারেন্সে মেস সেলগড়ির পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন। নাইটি ঙ্গেল হসপিটাল টেকনোলজি এডিকেশন লিডের কনসালটেন্ট মনস্তাত্ত্বিক ডাক্তার রিচার্ড গ্রাহাম বলেন, গবেষকরা গবেষকদের জন্য এই সমস্যাটি ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। কারণ বাবা-মারা এর সঠিক সমাধান খুঁজে পাচ্ছেন না।

প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৪ জন মাতাপিতা তাদের সন্তানকে এই নেশা থেকে সরাতে পারছেন না। এমনকি ৩-৪ বছর বয়সি বাচ্চারাও দিনে গড়ে ৬-৭ ঘন্টা ইন্টারনেটে কাটাচ্ছে। 

22

33

দিন দিন এই অবস্থা খারাপ হচ্ছে। তাই যা করার অতি দ্রুত করতে হবে। এভাবে পরবর্তী প্রজন্মকে নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। সকলে মিলে একটা সার্বজনীন সমাধানে আসতে হবে।এই নেশা শিশুকাল থেকে বাচ্চাদের নষ্ট করে দিচ্ছে। ফলে জাতি পঙ্গু হয়ে যাবে। মা-বাবাকে সন্তানদের যথেষ্ট সময় দিতে হবে। তাদেরকে ইন্টারনেটের খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে বোঝাতে হবে। এর বাইরেও যে জগত আছে তা শিশুদের উপলব্ধি করাতে হবে। তাহলেই আমরা ভালো কিছুর আশা করতে পারবো।

 

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের মাধ্যমে আমাদের সাথেই থাকুন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। 

 

 

Share This Post