কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো যেসব কারণে বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয়

    কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো যেসব কারণে বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয়      কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো যেসব কারণে বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয়

শুধু সুদর্শন বলে নয়, মানবিক গুণাবলী, মানুষের প্রতি তার মমতা ও ভালোবাসার কারণেও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয় একজন মানুষ। তাকে পছন্দ করে না এইরকম মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

মাইগ্রেশন নিয়ে যখন বিশ্বের সকল দেশ কড়াকড়ি আরোপ করেছে, তখন ঠিক তার বিপরীত সুদর্শন এই প্রধানমন্ত্রী। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ২৮০০০ সিরিয়ান রিফিউজিকে (শরণার্থী) আশ্রয় প্রদান করেছেন। আজ জানবো বিশ্বজুড়ে জাস্টিন ট্রুডো জনপ্রিয় একজন মানুষ হওয়ার বেশ কিছু কারণ। চলুন দেখে আসা যাক-

১। রিফিউজিদের (শরণার্থী) আশ্রয়দানঃ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ রিফিউজিদের (শরণার্থী) তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া, নতুন কোন রিফিউজিকে (শরণার্থী) প্রবেশ করতে না দেওয়ার নীতি গ্রহন করলেও তিনি সেই পথে হাঁটেননি।

এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ২৮০০০ সিরিয়ান রিফিউজিকে (শরণার্থী) আশ্রয় প্রদান করেছেন। সারা বিশ্ব থেকে ধাপে ধাপে আরও রিফিউজিকে (শরণার্থী) আশ্রয় প্রদানের অঙ্গিকার করেছেন।

ছবিঃ ১ছবিঃ ১

২। তিনি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসীঃ সিরিয়ান রিফিউজিদের (শরণার্থী) তিনি শুধু আশ্রয়ই দেননি, তাদের অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তাদের শীত বস্ত্র বিতরণ করেন।

ছবিঃ ২ছবিঃ ২

৩। নারী-পুরুষ একসাথে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে তিনিঃ জাস্টিন ট্রুডো বিশ্বাস করেন নারী-পুরুষ একসাথে কাজ করলে একটি দেশ উন্নত হতে বাধ্য। তাই তিনি তার মন্ত্রিসভা অর্ধেক নারী ও অর্ধেক পুরুষ সদস্য দিয়ে সাজিয়েছেন।

ছবিঃ ৩ছবিঃ ৩

৪। শিশুদের তিনি খুব ভালোবাসেনঃ জাস্টিন ট্রুডো শিশুদের সুরক্ষা ও দারিদ্রতা দূরীকরণে নিরলস প্রচেষ্টা করে যাচ্ছেন।

ছবিঃ ৪ছবিঃ ৪

৫। তিনি সাংসারিক একজন মানুষঃ তিনি এবং তার স্ত্রী, কানাডীয় টিভি হোস্ট সোফি গ্রেগয়ের ট্রুডো তিন সন্তানের জনক-জননী।

ছবিঃ ৫ছবিঃ ৫

৬। তিনি একসময় স্কুল শিক্ষক ছিলেনঃ তিনি কলেজে সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন, তবে তা শেষ করতে পারেননি। ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি তিনি পরিবেশগত ভূগোল নিয়েও পড়াশোনা করেছেন। কর্মজীবনে তিনি কিছুদিন একটি স্কুলেও শিক্ষকতা করেন।

ছবিঃ ৬ছবিঃ ৬

৭। সাধারণ মানুষের সাথে আচরণঃ জাস্টিন ট্রুডোর অন্যতম একটি গুণ তিনি সাধারণ মানুষের খুব কাছের মানুষ হতে পেরেছেন।

ছবিঃ ৭ছবিঃ ৭

৮। পারমাণবিক বোমা বা শক্তি বিষয়ে অনীহাঃ ডোনাল্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর যতবারই জাস্টিন ট্রুডোকে পারমাণবিক বোমা বা শক্তি নিয়ে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, ততবারই তিনি যোগদানে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মানুষের জন্য হুমকি এই ধরনের কোন কাজে তিনি অংশগ্রহন করতে পারবেন না।

ছবিঃ ৮ছবিঃ ৮

৯। তিনি প্রাণীদের পছন্দ করেনঃ কথায় আছে, "জীবে দয়া করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর"। প্রানীদেরও বেশ পছন্দ করেন তিনি। ছবিটি সেটাই প্রমাণ করে।

ছবিঃ ৯ ছবিঃ ৯

১০। মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত তরুণের কানাডার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শেষইচ্ছা পুরণ করেন তিনিঃ ১৯ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভুত পিজে লাখানপাল মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত। তার জীবনের শেষইচ্ছা হলো একদিনের জন্য কানাডার প্রধানমন্ত্রী হওয়া!

ছবিঃ ১০ছবিঃ ১০

পিজে লাখানপাল কানাডার সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষের চেয়ারে একদিনের জন্য বসেছিলেন। আড়াই বছর আগে লাখানপাল এই ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেন এবং 'মেইক এ উইশ কানাডা' কে জানায়। 'মেইক এ উইশ কানাডা' নামের এক সংগঠন মৃত্যুপথযাত্রী কানাডীয় শিশুদের জীবনের শেষ ইচ্ছা পুরণে সহায়তা করে থাকে।

তারা লাখানপালের জীবনের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে সচেষ্ট হয়। আর সেই ইচ্ছাপূরণে সহায়তা করেন স্বয়ং জাস্টিন ট্রুডো।এই ছবিটা কানাডার প্রধানমন্ত্রী নিজের অফিসে তোলেন এবং নিজের টুইটার একাউন্টে পোস্ট করেন।

ছবিঃ ১১ ছবিঃ ১১

যুগে যুগে পৃথিবীর বুকে জন্ম হোক মানবতাবাদী এইসব নেতাদের, যারা বুঝতে পারবে সাধারণ মানুষের কষ্ট। জড়িয়ে নিবে ভালোবাসার বন্ধনে, আগলে রাখবে পরম মমতায়।

 

সূত্রঃ Insider. 

Category : বিনোদন
Share This Post