অমর একুশেঃ ভাষা আন্দোলনের শহীদদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

অমর একুশেঃ ভাষা আন্দোলনের শহীদদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি অমর একুশেঃ ভাষা আন্দোলনের শহীদদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বাংলা ভাষা আন্দোলন ছিল তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) সংঘটিত একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন। মৌলিক অধিকার রক্ষাকল্পে বাংলা ভাষাকে ঘিরে সৃষ্ট এ আন্দোলনের মাধ্যমে তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণদাবীর বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

ছবিঃ ১ছবিঃ ১

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে এ আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ ধারণ করলেও বস্তুত এর বীজ বপিত হয়েছিল বহু আগে, অন্যদিকে এর প্রতিক্রিয়া এবং ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গকারী মহান শহীদদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি থাকলো আজকের আয়োজনে।

৮. অজ্ঞাত বালকঃ শহীদ হয়েছেন ২২–২–১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ মৃত্যুঃ সম্ভবত কার্জন হল এলাকায় মোটরগাড়ি দুর্ঘটনায়। পরিচয় : সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে যে শোক মিছিল বেরিয়েছিল এই অজ্ঞাতনামা বালক ওই মিছিলে অংশ নিয়েছিল। মিছিলটিকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য মিছিলের মধ্যখানে তৎকালীন সশস্ত্র বাহিনী ট্রাক চালিয়ে দিলে এই অজ্ঞাতনামা বালকটি সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়।

ছবিঃ ২ছবিঃ ২

৭. মো. অহিউল্লাহঃ শহীদ হয়েছেন ২২–২–১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ। ঢাকার নবাবপুর এলাকার বংশাল রোডের মাথায় সশস্ত্র পুলিশের গুলিতে নিহত হন এবং তার লাশ পুলিশ গুম করে। পরিচয় : শিশু শ্রমিক, পিতার নাম : হাবিবুর রহমান, পিতার পেশা : রাজমিস্ত্রি, জন্ম : ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (আনুমানিক), জন্মস্থান : অজ্ঞাত।

ছবিঃ ৩ছবিঃ ৩

৬. আবদুল আউয়ালঃ শহীদ হয়েছেন ২২–২–১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ। (বর্তমান ঢাকা রেল হাসপাতাল কর্মচারী সংলগ্ন এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীর মোটর গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু)। পরিচয় : রিকশাচালক, পিতার নাম : মো. আবদুল হাশেম, জন্ম : ১১ মার্চ ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দ (আনুমানিক), জন্মস্থান : সম্ভবত গেন্ডারিয়া, ঢাকা।

ছবিঃ ৪ছবিঃ ৪

৫. শফিউর রহমানঃ শহীদ হয়েছেন ২২–২–১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ পরিচয় : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ক্লাসের প্রাইভেট ছাত্র ও ঢাকা হাইকোর্টের কর্মচারী। বংশাল রোডের মাথায় শহীদ হন (ঢাকা)। পিতার নাম : মরহুম মাহবুবুর রহমান মাতার নাম : মরহুমা কানেতাতুন্নেসা শফিউর রহমানের স্ত্রীর নাম আকিলা খাতুন (বর্তমানে জীবিত বয়স আনুমানিক ৮৩ বছর)।

ছবিঃ ৫ছবিঃ ৫

শফিউরের ছেলের নাম শফিকুর রহমান ও মেয়ের নাম আসফিয়া খাতুন। বর্তমানে তারা সবাই উত্তরা মডেল টাউনের বাসিন্দা। জন্ম : ২৪ জানুয়ারি ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ, জন্মস্থান : গ্রাম : কোন্নাগর, জেলা : হুগলি, ঢাকার ঠিকানা : হেমেন্দ্রনাথ রোড, ঢাকা। ১৯৯০ সালে শহীদ শফিউর রহমানকে মরণোত্তর একুশে পদক দেয়া হয়।

৪. আবদুস সালামঃ গুলিবিদ্ধ হন ২১–২–১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ৭–৪–১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে বেলা ১১টায় মৃত্যুবরণ করেন। পরিচয় : ডাইরেক্টর অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অফিসে রেকর্ড কিপার পদে চাকরি করতেন। পিতার নাম : মরহুম মো. ফাজিল মিয়া (১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যু) মাতার নাম : দৌলতন নেছা (১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যু) তিন বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে আবদুস সালাম ছিলেন সবার বড়। তার সবচেয়ে ছোট ভাই এখনো জীবিত। জন্ম : ২৭ নভেম্বর ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দ, জন্মস্থান : গ্রাম : লক্ষণপুর, ইউনিয়ন : মাতৃভূঞা, থানা : দাগনভূঞা, জেলা : ফেনী।

ছবিঃ ৬ছবিঃ ৬

৩. রফিক উদ্দীন আহমদঃ শহীদ হয়েছে ২১–২–১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ পরিচয় : মানিকগঞ্জ জেলার দেবেন্দ্রনাথ কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। পিতার নাম : মরহুম আবদুল লতিফ (১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যু), মাতার নাম : রাফিজা খানম (মৃত্যু ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে), জন্ম : ৩০ অক্টোবর ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ, গ্রাম : পারিল, উপজেলা : সিঙ্গাইর, জেলা : মানিকগঞ্জ। রফিক উদ্দীন আহমদের ছোট ভাইয়ের নাম খোরশেদ আলম, তিনি এখনো জীবিত। শহীদ রফিক উদ্দীন আহমদ ২০০০ সালে মরণোত্তর একুশে পদক পান।

ছবিঃ ৭ছবিঃ ৭

২. আবদুল জব্বারঃ শহীদ হয়েছেন ২১–২–১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ, পরিচয় : সাধারণ গ্রামীণ কর্মজীবী মানুষ ছিলেন, পিতার নাম : মরহুম হাছেন আলী (১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যু), মাতার নাম : সফাতুন্নেসা (১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যু) পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আবদুল জব্বার ছিলেন দ্বিতীয়। আবদুল জব্বারের স্ত্রীর নাম আমেনা খাতুন ও তার একমাত্র ছেলের নাম নূরল ইসলাম বাদল (১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে ভাষা আন্দোলনের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৫ মাস) জন্ম : ১৩ আগস্ট ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ জন্মস্থান : পাঁচুয়া, ইউনিয়ন : রাওনা, উপজেলা : গফরগাঁও, জেলা : ময়মনসিংহ।

ছবিঃ ৮ছবিঃ ৮

১. আবুল বরকতঃ শহীদ হয়েছেন ২১–২–১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ পরিচয় : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এমএ ক্লাসের ছাত্র। পিতার নাম : মৌলভী শামসুজ্জোহা ওরফে ভুলু মিয়া (১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যু) মাতার নাম : হাজী হাসিনা বিবি (১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যু) তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে আবুল বরকত ছিলেন পিতামাতার চতুর্থ সন্তান। জন্ম : ১৬ জুন ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ, জন্মস্থান : গ্রাম–বাবলা ভরতপুর, জেলা : মুর্শিদাবাদ, ঢাকার ঠিকানা : বিষ্ণু প্রিয়া ভবন, পুরানা পল্টন, ঢাকা।

ছবিঃ ৯ছবিঃ ৯

বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি জাতির মহান সন্তানদের।

 

সূত্রঃ উইকিপিডিয়া, ছবিঃ ইন্টারনেট।

Category : বিনোদন
Share This Post