এসিড আক্রমণের শিকার নারী এখন ফ্যাশন আইকন! এসিড আক্রমণের শিকার নারী এখন ফ্যাশন আইকন!

এসিড আক্রমণের শিকার নারী এখন ফ্যাশন আইকন!

সৌন্দর্য এবং ফ্যাশনের কোন সংজ্ঞা নাই যদিও এই দুটি খুবই বিষয়গত ব্যাপার। আমরা আজ আপনাদের এসিড আক্রান্ত নারীর গল্প বলবো যিনি সৌন্দর্য এবং ফ্যাশনের নিজস্ব একটা সংজ্ঞা তৈরি করেছে! যেই নারীকে নিয়ে আজ আমরা কথা বলবো সে দুই মাস বয়সে দুর্ঘটনাবশত একটা এসিড আক্রমণের শিকার হয় এবং বর্তমানে একজন ফ্যাশন আইকন হয়েছে।

https://soundcloud.com

https://soundcloud.com

আমরা কথা বলছি আনমল রদ্রিগেজকে নিয়ে, মুম্বাইয়ের একজন ২৩ বছর বয়সী মেয়ে। মাত্র ২ মাস বয়স থাকাকালীন সে এসিড আক্রান্ত হয় যখন তার বাবা তার মায়ের উপর এসিড নিক্ষেপ করে।   

তখন ২ মাস বয়সী আনমল নিজের মায়ের কোলে ছিল এবং দুর্ভাগ্যক্রমে সে এত ছোট বয়সেই এক ভয়ানক অভিজ্ঞতার শিকার হয়।

https://cdn-images-1.medium.com

https://cdn-images-1.medium.com

নিজের অবস্থা বর্ণনা কোঁড়তে গিয়ে আনমল বলেন, ''এখন পর্যন্ত, আমি জানি না কোন বিষয়টা আমার বাবাকে এতো খারাপ একটা অপরাধ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। যেই সময়টাতে আমাদের পরিবার আমার জন্ম নিয়ে আনন্দ করবে তখন আমার মাকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হলো!''

https://cdn-images-1.medium.com

https://cdn-images-1.medium.com

এমন ভয়ানক আক্রমণের পড়ে আনমলকে জীবনের প্রথম ৫ বছর মুম্বাইয়ের একটা হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে। কিন্তু আনমলের মতে, এতটা সময় হাসপাতালে কাটানো কোন খারাপ অভিজ্ঞতা ছিল না। সে বিশ্বাস করে যে প্রত্যেকেই আপনার জীবনে আসে এবং নিজেদের কাজ করে এবং চলে যায়। হাসপাতালে কাটানো দিনগুলো নিয়ে বলতে গেলে আনমল বলেন, ''জীবনের এই পাঁচ বছরে, হাসপাতালের নার্স এবং ডাক্তাররা এমনভাবে আমার যত্ন নেয় যেন আমি তাদের সন্তান। আমার কোন আত্মীয় আমার দায়িত্ব নিতে রাজি ছিল না, নার্স এবং ডাক্তাররাই আমার বাবা মায়ের ভূমিকা পালন করেন। তারা কখনই আমাকে রোগীর মত মনে করেনি।''

https://youtu.be  

https://youtu.be

হাসপাতাল তাকে একটা এতিমখানায় পাঠায় যেখানে তাকে জীবনের বাকি অংশ কাটাতে হবে। 

বড় হয়ে একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার স্বপ্ন দেখে সে। দারুণ ফলাফল নিয়ে স্কুল শেষ করে সে মুম্বাই এর এসএনডিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার এপ্লিকেশন নিয়ে পড়তে যায়।

দারুণ মেধাবী হওয়ায়, কলেজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই সে চাকরী পেয়ে যায়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে তার অফিস তাকে বরখাস্ত করে এই বলে যে তারা প্রতিদিন একটা বিকৃত চেহারা দেখতে রাজি না।

https://d1kkg0o175tdyf.cloudfront.net

https://d1kkg0o175tdyf.cloudfront.net

এরপর সে আর কোন চাকরী পায়নি। যেখানেই যায় সেখানেই তাকে চেহারার কারণে বাদ দেয়া হয়েছে।

কিন্তু সে আশা হারায়নি বরং নতুন সুযোগ খুঁজে বেরিয়েছে। অবশেষে এই তরুণী ফ্যাশনের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং সেখানেই কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

https://s3.ap-southeast-1.amazonaws.com/images.deccanchronicle.com

https://s3.ap-southeast-1.amazonaws.com/images.deccanchronicle.com

আনমল বলেন, ''ফ্যাশন আমার খুব ভাল লাগে এবং আমি সবসময় স্টাইলিশ কাপড় পরতে এবং টিপটপ থাকতে ভালোবাসি। আমি আমার ছবি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করি এবং সৌভাগ্যক্রমে কিছু ফটোগ্রাফার আমাকে খেয়াল করে। তারা আমার খোঁজ করেন এবং এর মাধ্যমে আমার সৌভাগ্য হয় তেজাস গেদেকার এবং ভাভিনি দামানির মত ফটোগ্রাফারদের সাথে কাজ করার। কোটাক মাহিন্দ্রার একটা ইভেন্টে আমি রনভীর সিং এর সাথেও কাজ করেছি।''

https://twitter.com

https://twitter.com

তখন থেকে সে আর থেমে থাকেনি। সে একজন ফ্যাশন আইকন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে অনুপ্রেরণা হয়ে যায়। এরপর সে সিদ্ধান্ত নেয় এসিড আক্রান্ত মানুষদের সেবায় কাজ করার এবং একটা এনজিও স্থাপন করেন যাতে করে এসিড আক্রান্তরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। 

বর্তমানে সে কেবল ফ্যাশন আইকনই না একজন অভিনেত্রীও হয়েছেন। শাবানা আজমির সাথে আন্টি জি নামের একটা সিনেমাতেও কাজ করেছেন।

http://media.santabanta.com

http://media.santabanta.com

 



জনপ্রিয়