বিভক্ত হওয়ার ৭০ বছর পরে দুই কোরিয়ার অবাক করা পার্থক্য!  বিভক্ত হওয়ার ৭০ বছর পরে দুই কোরিয়ার অবাক করা পার্থক্য!

বিভক্ত হওয়ার ৭০ বছর পরে দুই কোরিয়ার অবাক করা পার্থক্য!

যারা কোরিয়ান সংস্কৃতি নিয়ে অধ্যয়ন করে তারা জানে সবাই উত্তর কোরিয়া নিয়ে কথা বলতে ভালবাসে কারণ আপনি তাকে নিয়ে যা খুশি বলতে পারবেন। কিম জং এর আগুনে মন্ত্রী পুড়িয়ে মারার গল্প কিংবা সুর্যে কোন মহাকাশযানের সফল অবতরণ কোনটাই কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। 

আমরা দুই কোরিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে দেখানোর চেষ্টা করবো কিভাবে বিভক্তের পর দুটি দেশ দুই দিকে চলে গেছে।

পিয়ং ইয়ং বনাম সিউল

© Jen Morgan / flickr   © Robert Müller / flickr

© Jen Morgan / flickr © Robert Müller / flickr

দুটি দেশের রাজধানীতে আছে আকাশচুম্বী সব অট্টালিকা। সিউল এবং পিয়ং ইয়ং দুই শহরের অট্টালিকা দেখতে প্রায় একইরকম। 

সাধারণ দৃশ্য

© David Stanley / flickr   © el_ave / flickr

© David Stanley / flickr © el_ave / flickr

দুটি শহরই হান নদীর তীরে একই রকম দৃশ্যের অবতারণা করে। দক্ষিণ কোরিয়া এবং উত্তর কোরিয়াকে তেমন পার্থক্য করা যায় না। যদিও দক্ষিণ কোরিয়াতে আত্মহত্যার হার বেশি। ব্রীজ থেকে লাফিয়ে পরে সেখানে খুবই সাধারণ একটা বিষয়। দক্ষিণ কোরিয়াতে উচ্চতর ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতা খুবই বেশি এবং সবাই এটার সাথে তাল মেলাতে পারে না। জীবনের ছন্দ বলে এখানে কিছু নেই। সবার একটাই লক্ষ্য- ব্যক্তি জীবনে সফলতা।

শহরের কেন্দ্রস্থল

© commons.wikimedia   © wikipedia

© commons.wikimedia © wikipedia

দুটি দেশের রাজধানীর কেন্দ্রবিন্দু দেখতে ঠিক এরকম!

আবাসিক এলাকা

© Comrade Anatolii / flickr   © benghancock / flickr

© Comrade Anatolii / flickr © benghancock / flickr

এই হলো দুটি দেশের আবাসিক এলাকার চিত্র। মজার বিষয় হলো উত্তর কোরিয়াতে বাড়ি কিনতে বা ফ্ল্যাট কিনতে হয় না, এবং বিদ্যু, গ্যাস এবং অন্যান্য বিল দেয়া লাগে না। বিয়ের নিবন্ধনের পরে সবাই একটা করে ফ্ল্যাট পায়। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়াতে একটা ফ্ল্যাট কিনতে আপনাকে গুনতে হবে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার! 

ফ্যাশন

© Cordelia Persen / flickr   © Marcelo Druck / flickr

© Cordelia Persen / flickr © Marcelo Druck / flickr

ফ্যাশনের বেলাতে উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে অনেক গুজব শোনা যায়, যেমন এখানের মেয়েরা প্যান্ট পরতে পারবে না এবং তাদের জন্য মাত্র কয়েকটি চুলের ফ্যাশন বরাদ্দ আছে। আন্তর্জাতিক সুপার মার্কেটগুলো থেকে কেবল ধনীরা দামী দামী পোশাক কিনতে পারবে। দক্ষিণ কোরিয়াতে এমন কোন ভেদাভেদ নেই। ৫০ বছরের ফ্যাশনজগতের পরিবর্তন দুইদেশকে বেশ আলাদা করে দিয়েছে।

শিক্ষা

© Uri Tours / flickr   © USAG- Humphreys / flickr

© Uri Tours / flickr © USAG- Humphreys / flickr

উত্তর কোরিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থায় শুরুতে এক বছরের প্রস্তুতিমূলক শিক্ষা এবং এরপর ১০ বছরের বাধ্যতামূলক শিক্ষা। এখান থেকে গরীব কিন্তু মেধাবী এবং ধনীর সন্তানেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায় বাকীরা কাজের খোজে নেমে যায়। পশ্চিমা সাহিত্য এখানে পড়ানো হয় কিন্তু পশ্চিমা জীবন ব্যাখ্যা করা হয় আফ্রিকান দেশগুলোর উদাহরণ দিয়ে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়াতে স্কুলের অধ্যয়ন চলে ১২ বছর পর্যন্ত এরপর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সারাবিশ্বে প্রসিদ্ধ। নানাদেশ থেকে এখানে শিক্ষার্থীরা ডিগ্রী অর্জন করতে আসে।

কর্মসংস্থান

© Uri Tours / flickr   © USAG- Humphreys / flickr

© Uri Tours / flickr © USAG- Humphreys / flickr

একটা বিষয় দেখে মজা লাগছে যে ৭০ বছরের বিভক্তি পুরনো অভ্যাস ছাড়াতে পারেনি, বিরতিতে তারা এভাবেই সময় কাটায়। একজন উত্তর কোরিয়ান নাগরিকের দৈনিক আয় ৩ ডলারের মত সাথে খাবারের টিকিট অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার একজন নাগরিক এর হাজার গুণ বেশি কামাই করে।

সংস্কৃতি

© Marcelo Druck / flickr   © Republic of Korea / flickr

© Marcelo Druck / flickr © Republic of Korea / flickr

খাবার

© Moravius / flickr   © Julio Martínez / flickr

© Moravius / flickr © Julio Martínez / flickr

উত্তর কোরিয়াতে কোন দুর্ভিক্ষ নেই কিন্তু খাবারে ঘাটতি অবশ্যই রয়েছে বিশেষ করে শাক-সবজির, তাই এখানে আপেল এবং বাধাকপি বেশ জনপ্রিয়। প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবারের অভাব থাকায় এখানকার নাগরিকরা দক্ষিণ কোরিয়া থেকে উচ্চতায় খাটো হয়। প্রোটিনের অভাব পুরণ করতে এখানকার মানুষ ব্যাঙ এবং কচ্ছপ মারতে শুরু করে।

গণপরিবহন

© Marcelo Druck / flickr   © Honza Soukup / flickr

© Marcelo Druck / flickr © Honza Soukup / flickr

পিয়ং ইয়ং এ মাত্র তিনটি রেলস্টেশন আছে এবং তা কেবল বিদেশীরা ব্যবহার করতে পারে এমন একটা গুজব আছে। কিন্তু সত্যি কথা হলো দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক আগে থেকেই উত্তর কোরিয়ার রেলব্যবস্থা তৈরি করা আছে এবং সবাই তা ব্যবহার করতে পারে।

© Clay Gilliland / flickr   © byeangel / flickr

© Clay Gilliland / flickr © byeangel / flickr

উত্তর কোরিয়াতে ব্যক্তিগত গাড়ি কেবল সরকারি কর্মকর্তা এবং সেনাবাহিনীর অফিসাররা কিনতে পারে। সবাই তাই গণপরিবহন ব্যবহার করে।

প্রযুক্তি

© BRJ INC. / flickr   © Marcelo Druck / flickr

© BRJ INC. / flickr © Marcelo Druck / flickr

উত্তর কোরিয়াতে প্রযুক্তি নেই বলে যদি মনে করে থাকেন তবে আপনি ভুল কারণ তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডের টিভি, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন ইত্যাদি আছে। চীনে বানানো হয় এবং ব্র্যান্ডিং হয় উত্তর কোরিয়াতে। যদিও এগুলো কেবল ধনীরাই কেনার সামর্থ্য রাখে।

অবসর

© BRJ INC. / flickr   © Marcelo Druck / flickr

© BRJ INC. / flickr © Marcelo Druck / flickr

হ্যা আপনি ভুল দেখছেন না। উত্তর কোরিয়াতে গলফ খেলার মাঠ আছে, যদিও সাধারণ মানুষ এই খেলার কিছুই বোঝে না।

© BRJ INC. / flickr   © Marcelo Druck / flickr

© BRJ INC. / flickr © Marcelo Druck / flickr

কিন্তু উত্তর কোরিয়াতে বেশ উন্নতমানের বিনোদন পার্ক আছে। 



জনপ্রিয়